বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা
বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা

ফিফাকে এবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের হুঁশিয়ারি

বিশ্বকাপসহ নিজেদের মূল প্রতিযোগিতাগুলোর বাণিজ্যিক স্বত্ব বিক্রি করার যে পরিকল্পনা ফিফা হাতে নিয়েছে, সেটির তীব্র সমালোচনা করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) স্পোর্টস চিফ গ্লেন মিকাল্লেফ। বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের খেলা থেকে দূরে থাকুন।’

আন্তর্জাতিক ফুটবলের এই প্রস্তাবিত বাণিজ্যিকীকরণ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে মিকাল্লেফ লেখেন, ‘ফুটবলের লাগামহীন বাণিজ্যিকীকরণ খেলাটিকে ক্রমেই ক্ষতিগ্রস্ত করছে। বাণিজ্যিক সাফল্য ফুটবলের ভিত্তি মজবুত করার কথা, গ্রাস করার কথা নয়।’

মূলত নিজেদের প্রতিযোগিতাগুলোর বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে একটি আধা বেসরকারি সহযোগী প্রতিষ্ঠান বা সাবসিডিয়ারি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফিফা। এ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেই বিশ্বকাপসহ অন্যান্য টুর্নামেন্টের নির্দিষ্ট অংশের শেয়ার বা স্বত্ব বিভিন্ন বিনিয়োগকারীর কাছে বিক্রির পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন বিরোধিতা করছে ফিফার পরিকল্পনার

মিকাল্লেফ সতর্ক করে জানান, ফিফার এই উদ্যোগ ইউরোপীয় ব্লকের প্রতিযোগিতা আইনের মারাত্মক লঙ্ঘন ঘটাতে পারে। ইইউর সর্বোচ্চ আদালত আগেই স্পষ্ট করেছে, খেলাধুলার কোনো নিয়ম যদি অর্থনৈতিক প্রভাব তৈরি করে, তবে তা ব্লকের আইনের আওতাভুক্ত হবে। ফলে ফিফার এই পরিকল্পনাকে বেশ গুরুত্ব দিয়ে এবং নিজেদের এখতিয়ারের ভেতরে থেকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করবে ইইউ নির্বাহী পরিষদ।

স্বার্থের দ্বন্দ্বের বিষয়টি সামনে এনে মিকাল্লেফ আরও বলেন, ‘ফিফার নিয়ন্ত্রণক্ষমতা যদি বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের আর্থিক স্বার্থের সঙ্গে জড়িয়ে যায়, তাহলে সমস্যা তৈরি হবে। কারণ, তখন ফিফার সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে বিনিয়োগের মূল্য। এতে শাসনব্যবস্থা, স্বাধীনতা ও স্বার্থসংঘাত নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠতে পারে।’

ফিফার এই প্রস্তাবের বিষয়ে আমরা পুরোপুরি অন্ধকারে ছিলাম। পরিকল্পনাটি আসলে কী এবং এর সঙ্গে কী কী শর্ত জড়িত—সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য আমাদের কাছে নেই। যে সামান্য তথ্য পেয়েছি, তা থেকেই বলতে পারি—এ পর্যন্ত পৌঁছানোর প্রক্রিয়া ও সুশাসনের অভাব দেখে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।
এফএ

এদিকে ফিফার এমন পদক্ষেপে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইউরোপীয় ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা উয়েফাও। সংস্থাটির মতে, বিশ্বকাপ বিক্রি করার মতো কোনো ‘সম্পদ বা পণ্য’ নয়। ফিফার এই উদ্যোগের পর গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইংল্যান্ডের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনও (এফএ)। এতে প্রক্রিয়াগত স্বচ্ছতা এবং সুশাসনের অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে সংস্থাটি।

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো

ইউরোপের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ফিফা টুর্নামেন্ট পরিচালনার জন্য যে বাণিজ্যিক সাবসিডিয়ারি গঠনের প্রস্তাব করেছে, সেটির সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিবারের সংযোগ থাকতে পারে।

এক বিবৃতিতে এফএ জানিয়েছে, ‘ফিফার এই প্রস্তাবের বিষয়ে আমরা পুরোপুরি অন্ধকারে ছিলাম। পরিকল্পনাটি আসলে কী এবং এর সঙ্গে কী কী শর্ত জড়িত—সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য আমাদের কাছে নেই। যে সামান্য তথ্য পেয়েছি, তা থেকেই বলতে পারি—এ পর্যন্ত পৌঁছানোর প্রক্রিয়া ও সুশাসনের অভাব দেখে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।’

বিষয়টি নিয়ে ফিফা এখন পূর্ণাঙ্গ ও স্বচ্ছ তথ্য দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে উল্লেখ করে এফএ জানায়, তথ্য হাতে পাওয়ার পর তারা নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করবে এবং পরবর্তী মন্তব্য করবে।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামও এক্সে ফিফার উদ্যোগের কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘ফুটবল কোনো বিনিয়োগকারীর সম্পত্তি নয়। বিশ্বকাপ কোনো বিক্রিযোগ্য পণ্য হতে পারে না। এটি বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনের সবচেয়ে বড় প্রতিযোগিতা এবং এটি কারও কাছে বিক্রি করার অধিকার কারও নেই।’

অবশ্য বিতর্কের মুখে নিজেদের অবস্থানও ব্যাখ্যা করেছে ফিফা। সংস্থাটি জানিয়েছে, তাদের গঠিত সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ (এফএফই) এমন কিছু দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারী নির্বাচন করবে, যারা এফএফইর একক সংখ্যাগরিষ্ঠতাহীন বা সংখ্যালঘু অংশীদারত্ব কিনতে পারবে। তবে এফএফইর মূল নিয়ন্ত্রণ থাকবে ফিফার হাতেই। ফুটবল পরিচালনা, প্রতিযোগিতা আয়োজন, ম্যাচের বর্ষপঞ্জি তৈরি এবং ক্রীড়াসংক্রান্ত সব সিদ্ধান্তের পূর্ণ কর্তৃত্ব ফিফাই ধরে রাখবে।