
চলতি মৌসুমে সব দিক থেকে দারুণ ছন্দে বায়ার্ন মিউনিখ। বুন্দেসলিগার শিরোপা লড়াইয়ে এগিয়ে থাকা বায়ার্ন জায়গা করে নিয়েছে চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোতেও। পাশাপাশি উঠেছে জার্মান কাপের সেমিফাইনালেও। অর্থাৎ ট্রেবল জয়ের স্বপ্ন এখনো জিইয়ে রেখেছে দলটি।
দলের এ সাফল্যে বড় ভূমিকা আক্রমণভাগের ত্রয়ী হ্যারি কেইন, মাইকেল ওলিসে ও লুইস দিয়াজের। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এ মৌসুমে এ তিন ফরোয়ার্ড মিলে করেছেন ৭৫ গোল। এমন ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে বুন্দেসলিগায় খেলা আক্রমণভাগের প্রথম ত্রয়ী হিসেবে এক মৌসুমে ১০০ গোলের মাইলফলক ছুঁতে পারেন তাঁরা।
তবে কেইন, ওলিসে ও দিয়াজের জন্য ইতিহাসে অন্যতম সেরা আক্রমণ ত্রয়ীর গোলের রেকর্ড ছোঁয়া কঠিন হবে। ২০১৫-১৬ মৌসুমে বার্সেলোনার হয়ে লিওনেল মেসি, লুইস সুয়ারেজ ও নেইমার মিলে করেছিলেন ১৩১ গোল। ‘এমএসএন’ জুটির সেই রেকর্ড এখনো কোনো ত্রয়ী ভাঙতে পারেনি।
চলতি মৌসুমে বায়ার্ন ত্রয়ীর তিনজনই আলাদাভাবে নৈপুণ্য দেখাচ্ছেন। এখন পর্যন্ত কেইনের গোল ৪৩টি, যার ২৮টিই বুন্দেসলিগায়। ইউরোপিয়ান গোল্ডেন বুটের দৌড়ে কিলিয়ান এমবাপ্পে ও আর্লিং হলান্ডের চেয়ে বেশ ভালোভাবেই এগিয়ে কেইন। পাশাপাশি বুন্দেসলিগায় এক মৌসুমে রবার্ট লেভানডফস্কির করা ৪১ গোলের রেকর্ডও এখন তাঁর নাগালে।
মাইকেল ওলিসেও ছুঁতে পারেন আরেকটি রেকর্ড। এ মৌসুমে তাঁর গোল ১৩টি, গোল করিয়েছেন ২৫টি—এর মধ্যে বুন্দেসলিগায়ই ১৮টি গোল করিয়েছেন। এক মৌসুমে ২২ গোল করানোর রেকর্ড গড়া সাবেক লাইপজিগ খেলোয়াড় এমিল ফোর্সবার্গের রেকর্ডটি ওলিসের নাগালেই।
গ্রীষ্মকালীন দলবদলে লিভারপুল থেকে বায়ার্ন মিউনিখে যোগ দেওয়া লুইস দিয়াজও আছেন দারুণ ছন্দে। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৩৩ ম্যাচে করেছেন ১৯ গোল, গোল করিয়েছেন ১৫টি। এই পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে দিয়াজ কত দ্রুত বায়ার্নে নিজেকে মানিয়ে নিয়েছেন।
এ মুহূর্তে বায়ার্ন ত্রয়ীর ম্যাচপ্রতি গড় গোল ২.১৬টি করে। আর ২০১৫-১৬ মৌসুমে মেসি-সুয়ারেজ-নেইমারের ম্যাচপ্রতি গড় ছিল ছিল ২.৬০টি করে। ‘এমএসএন’ত্রয়ীর মানে পৌঁছাতে কেইন-ওলিসে-দিয়াজকে আরও উন্নতি করতে হবে।
একটি বিষয় মনে রাখা দরকার, লা লিগার দলগুলো প্রতি মৌসুমে বুন্দেসলিগার দলগুলোর চেয়ে চারটি ম্যাচ বেশি, ফলে গোলের সুযোগও তুলনামূলক বেশি। অন্য দিকে বায়ার্নের হাতে এখন নিশ্চিতভাবে ১৪ ম্যাচ আছে, তবে চ্যাম্পিয়নস লিগ ও জার্মান কাপ মিলিয়ে ম্যাচসংখ্যা আরও বাড়ানোর সুযোগ আছে। অর্থাৎ গোলের গড় বাড়ানোর সুযোগ একেবারে শেষ হয়ে যায়নি বায়ার্নের।
২০১৫-১৬ মৌসুমে বার্সেলোনা চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার-ফাইনাল পর্যন্ত গিয়েছিল। পাশাপাশি জিতেছিল লা লিগা ও স্প্যানিশ কাপ। সেই প্রেক্ষাপটে বায়ার্ন ত্রয়ীর সামনে চ্যালেঞ্জটা বড়ই। রেকর্ড ভাঙতে হলে শুধু ধারাবাহিকতা নয়, লাগবে মৌসুমের অসাধারণ এক সমাপ্তিও।
২০১৪ সালে লুইস সুয়ারেজ লিভারপুল ছেড়ে বার্সেলোনায় যোগ দেওয়ার পর গড়ে ওঠে বিশ্বের সেরা আক্রমণভাগ ত্রয়ী—মেসি, সুয়ারেজ ও নেইমার। তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে তাঁরা ছিলেন অপ্রতিরোধ্য। ২০১৪-১৫ মৌসুমে তাঁদের সম্মিলিত গোল ছিল ১২২টি, ২০১৫-১৬ মৌসুমে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১৩১ এবং ২০১৬-১৭ মৌসুমে ১১০ গোল। এই গোল–বন্যা বার্সেলোনাকে চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা জেতানোর পাশাপাশি দুটি লা লিগা ও তিনটি কোপা দেল রের ট্রফিও জিতিয়েছে।
তবে ২০১৭ সালের গ্রীষ্মে ২২ কোটি ২০ লাখ ইউরোর রেকর্ড ট্রান্সফারে নেইমার বার্সা ছাড়লে ভেঙে যায় এ ঐতিহাসিক ত্রয়ী। ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে দামি সেই দলবদলেই শেষ হয় ‘এমএসএন’ অধ্যায়। সে সময় রিয়াল মাদ্রিদ আক্রমণ ত্রয়ী করিম বেনজেমা, গ্যারেথ বেল ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে ছাড়িয়ে গিয়েছিল ‘এমএসএন’ত্রয়ী। গোলের হিসাবে রিয়ালের সবচেয়ে সফল মৌসুম ২০১৪-১৫। সেবার তিনজন মিলে করেছিলেন ১০০ গোল।
সামগ্রিকভাবে রোনালদো, বেনজেমা ও গঞ্জালো হিগুয়েনকে নিয়ে গড়া আক্রমণভাগ ছিল রিয়ালের সবচেয়ে সফল ত্রয়ী। ২০১১-১২ মৌসুমে তাঁরা করেছিলেন ১১৮ গোল। বর্তমানে ৭৫ গোল নিয়ে এগোতে থাকা কেইন, ওলিসে ও দিয়াজকে সেরাদের কাতারে নাম লেখাতে এখনো অনেকটা পথ পাড়ি দিতে হবে। তবে বর্তমান ছন্দ ধরে রাখতে পারলে ১০০ গোলের মাইলফলক ছোঁয়া কঠিন হওয়ার কথা নয়।