
বিশ্বকাপে একবারই দেখা হয়েছে দুই দলের। ১৯৭৪ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের সেই ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র হয়েছিল।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে কখনো শিরোপা না জেতা সেরা দল কোনটি?
উত্তরে সবার আগে আসবে নেদারল্যান্ডসের নাম। তিনবার বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলেও কখনো জেতা হয়নি শিরোপা, বিশ্বকাপ একটা রূপকথা হলে ডাচরা অবশ্যই সেটির চিরদুঃখী রাজকুমার। কিন্তু ডাচদের বাদ দিলে এরপর? অন্তত চারবার সেমিফাইনাল বা তার বেশি দূর খেলেছে কিন্তু শিরোপা জিততে পারেনি অমন একটা দেশই আছে—সুইডেন।
অবশ্য সেই সুইডেন আর এই সুইডেনে অনেক তফাত। ১৯৫৮ বিশ্বকাপে ফাইনালে ওঠা দলটি ১৯৯৪ বিশ্বকাপের পর আর শেষ চারে খেলতে পারেনি। এবার বাছাইপর্বে ছয় ম্যাচে জিততে পারেনি একটিও। নেশনস লিগে নিজেদের গ্রুপে সেরা হওয়ায় সুযোগ পেয়ে যায় প্লে–অফে খেলার। দলে কোচের পদত্যাগ, নানা অস্থিরতা পার করে এবার বিশ্বকাপে খেলতে এসেছে দেশটি।
অন্যদিকে নেদারল্যান্ডস বাছাইপর্বে নিজেদের গ্রুপে ছিল অপরাজিত। সর্বশেষ যে তিনটি বিশ্বকাপ খেলেছে, তার প্রতিটিতে অন্তত শেষ আটে গেছে তারা। ডাচদের নিয়ে একটা তথ্য তো খানিকটা অবিশ্বাস্যই শোনাবে—২০০৬ বিশ্বকাপের পর নির্ধারিত সময়ে আর কোনো ম্যাচ হারেনি নেদারল্যান্ডস। ২০১০, ২০১৪ ও ২০২২ বিশ্বকাপ—প্রতিবারই হয় অতিরিক্ত সময়ে নয়তো টাইব্রেকারে গিয়ে হেরেছে।
কিন্তু এই বিশ্বকাপে দুই দলের শুরুটাই হয়েছে দুই রকম। নেদারল্যান্ডস এগিয়ে গিয়েও শেষ দিকে গোল খেয়ে ড্র করেছে জাপানের সঙ্গে। অন্যদিকে সুইডেন বিশ্বকাপে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে এলেও প্রথম ম্যাচে তারা ছিল দুর্দান্ত। তিউনিসিয়াকে ৫ গোলে উড়িয়ে দিয়ে এখন তাদের সামনে সহজ সমীকরণ—নেদারল্যান্ডসকে হারালেই চলে যাবে পরের পর্বে।
সুইডেনের কোচ গ্রাহাম পটারের জন্য সবচেয়ে বড় স্বস্তির খবর, ফর্মে আছেন তাদের আক্রমণের দুই মূল ভরসা। কাগজে–কলমে প্রিমিয়ার লিগে আর্সেনালের ভিক্টর ইয়োকেরেস ও লিভারপুলের আলেকজান্ডার ইসাকের জুটিটা বিশ্বের যে কোনো রক্ষণের বুকে কাঁপন ধরিয়ে দেওয়ার কথা।
কিন্তু জাতীয় দলের হয়ে জুটিটা জমছিল না মোটেই। তা জমে গেল বিশ্বকাপে এসে, প্রথম ম্যাচেই হলুদ জার্সিতে দুজন পেয়েছেন গোল অ্যাসিস্ট। আজকের ম্যাচে তাদের খেলতে হবে বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা রক্ষণের বিপক্ষে।
প্রথম ম্যাচে কমলা জার্সিতে ডাচ ডিফেন্স ভুগলেও কাগজে–কলমে ফন ডাইক, ফন ডেন ভেন, ডামফ্রাইস, আকেদের রক্ষণের দুর্গটা যথেষ্টই শক্তপোক্ত। সুইডিশ আক্রমণ আর ডাচ রক্ষণের মধ্যে লড়াইটা দুর্দান্তই হওয়ার কথা।
ইতিহাস বলে, দুই দেশের দ্বৈরথ অনেক পুরোনো হলেও বিশ্বকাপে মাত্র একবারই তাদের মধ্যে দেখা হয়েছে। ১৯৭৪ বিশ্বকাপে পশ্চিম জার্মানিতে দুই দল করেছিল গোলশূন্য ড্র।
সেই ম্যাচটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে ম্যাচের ২২ মিনিটের একটা মুহূর্তের জন্য। সুইডিশ ডিফেন্ডার ওলসেনের সামনে ১৮০ ডিগ্রি এক টার্নে ইয়োহান ক্রুইফ দেখিয়েছিলেন, কেন তিনি সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার। সেই মুহূর্তটা এতটাই ‘আইকনিক’, তা ফুটবল ইতিহাসে অমরত্বই পেয়ে গেছে ক্রুইফ টার্ন হিসেবে।
আজ কি তেমন জাদুকরি মুহূর্তের জন্ম দিতে পারবেন কেউ?