ইংল্যান্ডের অনুশীলনে হ্যারি কেইন
ইংল্যান্ডের অনুশীলনে হ্যারি কেইন

ফুটবলে অরুচি না ধরলেও অন্য খেলায় মন মজেছে কেইনের

হ্যারি কেইনের মনের কোণে একটি ভাবনার উদয় হয়েছে। সেটা শুনলে অবাক হতেই হয়।

কেইন ফুটবলার। কিন্তু খেলতে চান অন্য এক ফুটবলও। সেটা আমেরিকান ফুটবল। প্রথাগত ফুটবল এবং রাগবি মিলিয়ে ভিন্ন ধরনের এক খেলা। যুক্তরাষ্ট্রে এই খেলার লিগ এনএফএল (ন্যাশনাল ফুটবল লিগ) ভীষণ জনপ্রিয়। ভবিষ্যতে সেই লিগেরই কোনো দলে ‘কিকার’ হতে চান বায়ার্ন মিউনিখের এই ইংলিশ স্ট্রাইকার।

নেশনস লিগে মাঠে নামার আগে গতকাল ইংল্যান্ডের অনুশীলন ক্যাম্পে সাংবাদিকদের নিজের এ ইচ্ছার কথা জানান কেইন। মজার বিষয়, ফুটবলের পর কেইনের সবচেয়ে পছন্দের খেলা কিন্তু আমেরিকান ফুটবল নয়, গলফ।

কিন্তু ফুটবল ছাড়ার পর কিংবা ক্যারিয়ারের সায়াহ্নে গলফ খেলার চেয়ে এনএফএলে খেলাই বেশি বাস্তবসম্মত মনে হয় ৩৩ বছর বয়সী এই তারকার কাছে। এ নিয়েই কেইন বলেছেন, ক্যারিয়ারে শেষের দিকে এনএফএলে ‘কিকার’ হিসেবে নতুন অধ্যায় শুরুর কথা ভাবছেন। আর সে জন্য যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) কিছুদিন খেলা হতে পারে তাঁর এই খেলা পরিবর্তনের অন্যতম ধাপ।

শুনুন কেইনের মুখেই, ‘বিষয়টি এবার আমি আরও ভালোভাবে ভেবে দেখার চেষ্টা করব। আগামী পাঁচ বা ছয় বছরে আমার ক্যারিয়ার কোন দিকে যায়, তার ওপরই সব নির্ভর করছে। তবে গলফের চেয়ে এনএফএলে যাওয়ার বিষয়টি অনেক বেশি বাস্তবসম্মত—এটুকু অন্তত বলতেই পারি।’

ক্লাব ফুটবলে ভালো সময় কাটানোয় জাতীয় দলের অনুশীলনে ফুরফুরে মেজাজেই আছেন কেইন

গত মৌসুমে ৬৫ ম্যাচে ৭৩ গোল করা কেইন এবার ব্যালন ডি’অর জয়ের অন্যতম দাবিদার। তাঁর বিশ্বাস, প্রথাগত ফুটবলে পেনাল্টি নেওয়ার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা তাঁকে এনএফএলের ‘কিকার’ হওয়ায় বড় ভূমিকা রাখতে পারে। তবে চাইলেই তো আর খেলা বদলে ফেলা যায় না! সে জন্য দরকার কঠোর অনুশীলন। কেইন বলেন, ‘আমি পেনাল্টি নিই, আর দুটি খেলার টেকনিক ও চাপ সামলানোর বিষয়টা একদমই কাছাকাছি। অনুশীলনের দিক থেকে চিন্তা করলেও অন্য যেকোনো খেলার চেয়ে এটিই আমার জন্য সবচেয়ে সহজ হবে।’

কেইন যদি সত্যিই এনএফএলে নামার সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে সবার আগে তার প্রস্তুতিটা সারতে চান। তাঁর ভাষায়, ‘পেশাদার যেকোনো খেলা টিভিতে দেখতে যত সহজ লাগে, বাস্তবে ততটা না–ও হতে পারে। দেখতে সহজ লাগে বলে যে হুট করে করে ফেলা সম্ভব, তা কিন্তু নয়। আমি যদি সত্যিই এটা করতে চাই, তবে বিষয়টি খুব গুরুত্বের সঙ্গে নেব। এটার পেছনে নামার আগে হয়তো ছয় থেকে এক বছর অনুশীলন করব।’

ইউরোপের ক্লাব ফুটবল ছেড়ে এমএলএসে যোগ দিলে একই সঙ্গে দুটি খেলা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন কেইন, ‘ভবিষ্যতে যদি এমএলএস কিংবা তেমন কোথাও খেলি, তবে দুই খেলার মৌসুম মিলিয়ে হয়তো (দুটি খেলা) সমন্বয় করার সুযোগ তৈরি হলেও হতে পারে।’

নেশনস লিগে আগামী শনিবার রাতে মাঠে নামবে ইংল্যান্ড। তারই প্রস্তুতিতে সতীর্থদের সঙ্গে কেইন

ফুটবল ছেড়ে আমেরিকান ফুটবলে যোগ দেওয়ার উদাহরণ আছে। ডালাস কাউবয়েজের কিকার ব্র্যান্ডন অব্রি ২০১৭ সালে এমএলএস ড্রাফটের প্রথম রাউন্ডে টরন্টো এফসিতে যোগ দিয়েছিলেন, যদিও মূল দলের হয়ে তাঁর কোনো অফিশিয়াল ম্যাচ খেলা হয়নি। তা ছাড়া ডেট্রয়েট লায়ন্সের কিকার জেক বেটসও আগে কলেজ ফুটবলে খেলেছিলেন।

তবে কেইনের নিকট ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবনাজুড়ে শুধুই ফুটবল। বুন্দেসলিগা চ্যাম্পিয়ন বায়ার্নের সঙ্গে তাঁর চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর আলোচনা বেশ ভালোভাবেই এগোচ্ছে এবং দ্রুতই এ বিষয়ে ঘোষণা আসতে পারে। কেইনের ভাষায়, ‘আলোচনা ইতিবাচক পথে এগোচ্ছে। ছোটখাটো কিছু বিষয় এখনো চুকিয়ে ফেলা বাকি। আমি সেখানে ভালোই আছি। মনে হয় না আনুষ্ঠানিক ঘোষণার জন্য খুব বেশি দিন অপেক্ষা করতে হবে।’