
বয়স তাঁর জন্য কেবলই একটা সংখ্যা, নাকি এক অনন্ত যৌবনের বিজ্ঞাপন?
ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে দেখলে এই প্রশ্নটা বারবার মাথায় আসতেই পারে। ৪১ পেরিয়ে গেছেন এবং এই বয়সে খেলতে যাচ্ছেন আরও একটা বিশ্বকাপ। অবশ্য এই বিশ্বকাপে তাঁর দলে থাকা নিয়ে সন্দেহ কখনোই ছিল না। পর্তুগালের কোচ রবার্তো মার্তিনেজ অনেকবারই বলেছেন, রোনালদোকে ছাড়া বিশ্বকাপে যাওয়ার কথা তিনি ভাবছেন না।
ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম পুরুষ খেলোয়াড় হিসেবে রেকর্ড ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বমঞ্চে নামতে যাচ্ছেন তিনি। অবশ্য লিওনেল মেসিও আর্জেন্টিনার জার্সিতে ডাক পেলে রোনালদোর এই রেকর্ডে ভাগ বসাবেন।
মার্তিনেজ দল ঘোষণা করেছেন ২৭ জনের। তবে বিশ্বকাপের জন্য ফিফার নিয়ম মেনে চূড়ান্ত দল হতে হবে ২৩ থেকে ২৬ জনের। আসলে গত বছর সবাইকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে যাওয়া পর্তুগিজ তারকা দিয়োগো জোতাকেও প্রতীকি ‘সদস্য’ ধরে নিয়ে ২৭ জনের নাম ঘোষণা করেন কোচ। তাঁর মূল স্কোয়াড ২৬ জনেরই।
মার্তিনেজের ঘোষিত দলে খুবই অনুমিতভাবে রোনালদোর সঙ্গী হিসেবে আছেন ব্রুনো ফার্নান্দেজ, ভিতিনিয়া, জোয়াও নেভেস ও নুনো মেন্দেসের মতো তারকারা। আবার চমকও আছে। চার বছর পর গত মার্চে জাতীয় দলে ফেরা রিয়াল সোসিয়েদাদের ফরোয়ার্ড গনসালো গেদেস জায়গা করে নিয়েছেন বিশ্বকাপ স্কোয়াডে। আছেন মাত্র ৪টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা মায়োর্কার ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার সামুয়েল কোস্তা। দলে সুযোগ না পাওয়াদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ওয়েস্ট হামের মাতেউস ফার্নান্দেজ, বেনফিকার ডিফেন্ডার আন্তোনিও সিলভা এবং ফরোয়ার্ড পালিনিও, পেড্রো গনকালভেস ও রিকার্ডো হোর্তা।
বিশ্বকাপে ‘কে’ গ্রুপে পর্তুগালের প্রতিপক্ষ কলম্বিয়া, উজবেকিস্তান ও ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো। বিশ্বকাপের মূল লড়াইয়ে নামার আগে নিজেদের ঝালিয়ে নিতে ঘরের মাঠে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে পর্তুগাল—৬ জুন চিলির বিপক্ষে এবং ১০ জুন নাইজেরিয়ার বিপক্ষে।
গোলরক্ষক: জোসে সা, রুই সিলভা, রিকার্দে ভেলিও। ডিফেন্ডার: জোয়াও কানসেলো, মাতেউস নুনেস, নুনো মেন্দেস, রুবেন দিয়াস, গনসালো ইনাসিও, দিয়োগো দালত, তমাস আরাউজো, রেনাতো ভেইগা, নেলসন সেমেদো। মিডফিল্ডার: ব্রুনো ফার্নান্দেজ, বের্নার্দো সিলভা, জোয়াও নেভেস, ভিতিনিয়া, রুবেন নেভেস, সামুয়েল কস্তা। ফরোয়ার্ড: ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, গনসালো রামোস, রাফায়েল লিয়াও, ফ্রান্সিসকো ত্রিনকাও, জোয়াও ফেলিক্স, পেদ্রো নেতো, ফ্রান্সিসকো কনসেইসাও, গনসালো গেদেস।