
জিজিনিও, আদেমির ও জইর। ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের ‘ও ট্রায়ো দে ওউরো’ বা ‘গোল্ডেন ট্রায়ো’। ১৯৫০ বিশ্বকাপে ব্রাজিলকে ট্রফি জেতানোর স্বপ্নসারথি হয়েও পারেননি। উরুগুয়ের বিপক্ষে সেই হারের পর জইর রোসা পিন্টো বলেছিলেন, ‘হারটা আমি কবরে নিয়ে যাব।’
চল্লিশ–পঞ্চাশের দশকে ব্রাজিলের অন্যতম সেরা এ ফুটবলার জইর মারা যান ২০০৫ সালের ২৮ জুলাই। শুধু সেই হার নয়, আরও অনেক কীর্তির জন্যও সাবেক ইনসাইড ফরোয়ার্ডের পরিচিতি ছিল। যেমন ধরুন, তাঁর সময়ে (১৯৩৮–১৯৬৩) ফ্রি–কিক থেকে গোলে বিশ্বের অন্যতম সেরা ছিলেন। আজ সেই জইরকেই পেছনে ফেললেন লিওনেল মেসি।
সেটা ফ্রি–কিকে সর্বোচ্চ গোলদাতার ইতিহাসে। মেসি এখন দ্বিতীয়, জইর তৃতীয়। প্রথম হওয়াও কিন্তু এখন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তির নাগালে। সেই গল্পে যাওয়ার আগে ফ্রি–কিক থেকে মেসির গোলসংখ্যাটা জেনে নেওয়া যাক।
৭৫টি, পেশাদার ক্যারিয়ারে ফ্রি–কিক থেকে মেসির গোলসংখ্যা। গত ২৯ আগস্ট মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) মন্ট্রিয়লের বিপক্ষে ফ্রি–কিক থেকে গোল করে জইরের পাশে বসেন মেসি। দুজনের গোলসংখ্যাই ছিল সমান ৭৪। এরপর আজ এমএলএসে সান ডিয়েগোর বিপক্ষে ফ্রি–কিক থেকে গোল করে পেছনে ফেললেন জইরকে। সামনে এখন শুধুই মার্সেলিনিও ক্যারিওকা।
‘অ্যাঞ্জেলস ফুট’—নিখুঁত সেট পিস দিতে পারার দক্ষতার কারণে ব্রাজিলিয়ান ফুটবলে ক্যারিওকার অন্য নাম। ইতিহাস বলে ক্যারিওকাই ফ্রি–কিকের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা, ৭৮টি গোল করেছেন।
১৯১৯ সাল থেকে ছাপা হওয়া আর্জেন্টাইন সাময়িকী এল গ্রাফিকোর (২০১৮ থেকে অনলাইনে) হিসাবে পেশাদার ফুটবলে ফ্রি–কিক থেকে ক্যারিওকার চেয়ে বেশি গোল নেই আর কারও। বাইবেল অব স্পোর্টস–খ্যাত সাময়িকীর হিসাবে ১৯৯১ থেকে ২০০৯ সালের মধ্যে এই ৭৮ গোল করেন ক্যারিওকা। কবে, কোন ম্যাচে, কার বিপক্ষে—সেই তালিকাও তারা প্রকাশ করেছে, যেমনটা আছে মেসি ও জইরেরও।
অর্থাৎ, ক্যারিওকাকে পেছনে ফেলে ফ্রি–কিকে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড গড়তে মেসির চাই আর চার গোল। বোঝাই যাচ্ছে, বুট তুলে রাখার আগে এই রেকর্ডও তাঁর হয়ে যাওয়া শুধুই সময়ের ব্যাপার।
মেসি তাঁর এই ৭৫ গোলের মধ্যে ৬৩টি করেছেন ক্লাব ক্যারিয়ারে। বাকি ১২টি গোল আর্জেন্টিনার জার্সিতে। ক্লাব ক্যারিয়ারে এই ৬৩ গোলের মধ্যে লিগে করেছেন ৪৯ গোল, চ্যাম্পিয়নস লিগে ৫টি এবং অন্যান্য কাপ প্রতিযোগিতায় আরও ৯ গোল। ক্যারিয়ারে গড়ে প্রতি ১৫.৭টি ম্যাচ পর ফ্রি–কিক থেকে একটি গোল করেছেন কিংবদন্তি (১,১৭৬ ম্যাচ)।
ফ্রি–কিক থেকে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় শীর্ষ পাঁচজনই ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার। প্রথম তিনজনের কথা তো বলাই হলো। ৭৩ গোল নিয়ে চারে ব্রাজিলের হয়ে ১৯৭৮ ও ১৯৮২ বিশ্বকাপ খেলা সাবেক ফরোয়ার্ড রবার্তো দিনামিতে। ৭২ গোল নিয়ে যৌথভাবে পঞ্চম সাবেক ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার জুনিনিও পেরনামবুকানো।
অর্থাৎ, ফ্রি–কিক থেকে শীর্ষ পাঁচ গোলদাতার তালিকায় আর্জেন্টাইন শুধু একজন—মেসি। বাকি চারজনই ব্রাজিলিয়ান (একজন সার্বিয়ান)। তবে আর্জেন্টিনার পতাকাটা মেসির এ তালিকার শীর্ষে রাখতেও খুব বেশি দেরি নেই।