লামিনে ইয়ামাল—এ সময়ের ফুটবলে সবচেয়ে প্রতিভাবান নামগুলোর অন্যতম। বল পায়ে লিওনেল মেসিকে মনে করিয়ে দেওয়া এই তরুণ বার্সেলোনার আক্রমণভাগের প্রাণভোমরাও বটে। বার্সার নতুন যুগের অবিসংবাদিত মুখ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন ইয়ামাল। বর্তমান ও সাবেক ফুটবলারদের অনেকেই ইয়ামালের পায়ের জাদুতে মুগ্ধ। তবে ম্যানচেস্টার সিটি ও বার্সেলোনার সাবেক তারকা সের্হিও আগুয়েরো বোধ হয় একটু বেশিই মুগ্ধ।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ইয়ামালকে নিয়ে উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছেন তিনি। আগুয়েরো বলেছেন, বার্সেলোনার এই তরুণ উইঙ্গার এরই মধ্যে এমন এক স্তরের ফুটবল খেলছে, যেখানে বিশ্বব্যাপী শুধু একজন ফুটবলারের সঙ্গে তাঁর তুলনা হতে পারে। সাবেক এই আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডের দাবি, লিওনেল মেসির বিদায়ের পর ক্যাম্প ন্যুতে এর বড় মাপের প্রতিভা আর দেখা যায়নি।
‘স্টেক’ নামের এক পোর্টালকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ১৮ বছর বয়সী ইয়ামালকে নিয়ে আগুয়েরো বলেন, ‘অনেকে অনেক ধরনের তুলনা করে। কিন্তু একজন খেলোয়াড় হিসেবে আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, সে সেরাদের মতোই ভালো। ভালো-খারাপ ম্যাচ থাকা স্বাভাবিক। আমি চাই, সবাই তাকে গিয়ে দেখুক। তার নড়াচড়া, পাস, ড্রিবলিং, গতিময়তা এবং যেভাবে সে অসম্ভব মনে হওয়া পরিস্থিতি থেকেও বেরিয়ে আসে (তা দুর্দান্ত)। আগে এই কাজ করত লিওনেল মেসি।’
ইয়ামালকে অনেকের চেয়ে এগিয়ে রাখলেও তাঁকে চ্যালেঞ্জ জানানোর মতো একজন তারকার কথাও উল্লেখ করেছেন আগুয়েরো। তিনি কিলিয়ান এমবাপ্পে। অনেক বিশ্লেষকের মতো এমবাপ্পেই এখন বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ংকর ফরোয়ার্ড। বিশেষ করে চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসে সবচেয়ে দ্রুত ৭০ গোলের মাইলফলক ছোঁয়ার ঘটনা ইয়ামালকে আরও উঁচুতে নিয়ে গেছে।
এমবাপ্পের সঙ্গে ইয়ামালের তুলনা টেনে আগুয়েরো বলেছেন, ‘এই মুহূর্তে আমার কাছে তুলনা করার মতো কেউ নেই। লামিনে অনেক খেলোয়াড়ের চেয়ে এগিয়ে। হয়তো এখন এমবাপ্পের কথা বলা যায়। আমরা জানি, সে কেমন খেলোয়াড়। ওয়ান অন ওয়ান পরিস্থিতিতে খুব আক্রমণাত্মক এবং গোলও করতে পারে। দারুণ এক খেলোয়াড়। কিন্তু লামিনের এমন কিছু গুণ আছে, যা সবার নেই। ছোট ছোট পাস আর সিদ্ধান্ত নেওয়ার ধরনটা আমার খুব ভালো লাগে। এগুলো আলাদা। তাকে থামানো খুব কঠিন।’
সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানও ইয়ামালের পক্ষে কথা বলছে। চলতি মৌসুমজুড়ে দুর্দান্ত ছন্দে আছেন স্প্যানিশ তরুণ। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে করেছেন ২৩ গোল ও ১৮ অ্যাসিস্ট।
এত অল্প বয়সে এমন পারফরম্যান্স দেখে ভাষা হারিয়ে ফেলেছিলেন আগুয়েরো, ‘সে যখন প্রথম দলে উঠে এল, তখন থেকে বার্সেলোনার খেলা দেখার সময় আমি ভাষা হারিয়ে ফেলেছিলাম। তার মধ্যে এমন এক প্রতিভা আছে, যা খুঁজে পাওয়া খুবই কঠিন। তাকে উপভোগ করতে হবে।’
মৌসুমজুড়ে দারুণ খেলার পরও ইয়ামালের চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের স্বপ্ন ভেঙে গেছে। তবে ঘরোয়া শিরোপা জয়ের পথে বেশ এগিয়ে আছে বার্সা। শেষ পর্যন্ত ঘরোয়া লিগ জিততে পারলে ইয়ামালের ইউরোপসেরা হতে না পারার আক্ষেপ কিছুটা হলেও ঘুচবে।