বিদায়ের সময়টা বোধ হয় এমনই। মাঠে দাঁড়িয়ে থাকলেও মনে হয়, সময়টা একটু থেমে যাক। সতীর্থদের সঙ্গে আরও কিছুক্ষণ থাকা হোক, পরিচিত জার্সিটাও যেন গায়ে থেকে যায় আরও কিছুদিন! কিন্তু ফুটবলে কিছু মুহূর্ত আসে, যেগুলো চাইলেও ধরে রাখা যায় না। লিওনেল মেসির জন্য তেমনই একটি মুহূর্ত এসে দাঁড়িয়েছে দরজায়।
আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে নিজের শেষ ম্যাচ খেলতে নামার ২৪ ঘণ্টারও কম সময় আগে শেষবারের মতো অনুশীলন করেছেন মেসি। আলবিসেলেস্তেদের সঙ্গে সেই শেষ অনুশীলনের কিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে আবেগঘন এক বার্তাও দেন মেসি। ছবিগুলোর সঙ্গে ক্যাপশনে মেসি লিখেছেন, ‘আমি জানি এই বিশেষ মুহূর্তগুলো মিস করব।’
কথাটা ছোট, কিন্তু এর ভেতরে যেন লুকিয়ে আছে অনেক কিছু। বছরের পর বছর আর্জেন্টিনার জার্সিতে কাটানো সময়, সতীর্থদের সঙ্গে অসংখ্য অনুশীলন, জয়-পরাজয়, হতাশা, কান্না আর শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ জয়ের সেই অবিস্মরণীয় মুহূর্ত—সবকিছু মিলিয়েই মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার।
পোস্ট করা ছবিগুলোয় মেসিকে সতীর্থদের সঙ্গে হাসিমুখে দেখা গেছে। একটা ছবিতে আর্জেন্টিনা দলের সব খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফের সদস্যদের পাশাপাশি মাঠ ও আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) কর্মীরাও আছেন। ছবিটিতে রয়েছেন এএফএর সভাপতি ক্লদিও তাপিয়াও।
মেসির শেষ বিদায়ের মঞ্চ তৈরি হয়েছে বেনিনের বিপক্ষে। আগামীকাল ভোর ৫টায় মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে এই প্রীতি ম্যাচ।
এই ম্যাচের জন্য দলে ডাক পেয়েছেন আরও কয়েকজন পরিচিত মুখ। রিভার প্লেটের নিকোলাস ওতামেন্দি—যিনি নিজেও জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন, তিনিও স্কোয়াডে আছেন। আছেন মেসির ইন্টার মায়ামির সতীর্থ রদ্রিগো দি পল এবং রিয়াল বেতিসের জিওভানি লো সেলসো। তবে তাঁদের কে একাদশে থাকবেন কিংবা কতক্ষণ মাঠে দেখা যাবে, তা নিশ্চিত নয়।
আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টস জানিয়েছে, অপ্রত্যাশিত কোনো পরিস্থিতি তৈরি না হলে বেনিনের বিপক্ষে পুরো ৯০ মিনিটই মাঠে থাকার কথা মেসির। আর তাঁকে শেষবারের মতো আর্জেন্টিনার জার্সিতে দেখতে স্টেডিয়ামও প্রস্তুত।
মেসিকে দেখতে মনুমেন্তালের গ্যালারিও ভরে উঠবে দর্শকে। মেসির বিদায়কে ঘিরে রাখা হয়েছে আরও নানা আয়োজন। থাকবেন অতিথি শিল্পীরা, থাকবে বেশ কিছু চমক। আর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ—২০২২ কাতার বিশ্বকাপে মেসির সঙ্গে বিশ্বকাপের ট্রফি উঁচিয়ে ধরা আর্জেন্টিনা দলের প্রায় সব সদস্যই উপস্থিত থাকবেন।