
সিডনির জুবলি স্টেডিয়ামের সবুজ মাঠ যেন ছবির চেয়েও সুন্দর। বাংলাদেশের নারী ফুটবলারদের জন্য এমন মাঠে অনুশীলন করা অনেকটা ভাগ্যের ব্যাপার। আগামীকাল রোববার শুরু হতে যাওয়া এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত পর্ব সামনে রেখে সিডনির মনোরম পরিবেশে নিজেদের ঝালিয়ে নিতে ব্যস্ত আফঈদা-শিউলিরা।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনির কার্লটন উপশহরের জুবলি স্টেডিয়ামে মূলত রাগবি লিগ ও ফুটবল ম্যাচ হয়। আজ সকালের স্নিগ্ধ রোদে টানা দুই ঘণ্টার কঠোর অনুশীলন শেষে মাঠের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে মুগ্ধতা ঝরল দলের অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার শিউলি আজিমের কণ্ঠে। তাঁর মতে, অস্ট্রেলিয়ার প্রতিটি মাঠই আন্তর্জাতিক মানের, যা বাংলাদেশের মাঠগুলোর তুলনায় অনেক গুণ উন্নত। তবে এই মুগ্ধতার আড়ালে কিছুটা আক্ষেপও ঝরেছে তাঁর কথায়, দেশের মাটিতে এমন মাঠ থাকলে প্রস্তুতির মান যে আরও কয়েক ধাপ উঁচুতে থাকত, সেটি অকপটেই স্বীকার করেছেন তিনি।
উপস্থিত স্বদেশি সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে শিউলি বলেন, ‘এখানকার সুযোগ-সুবিধা সব ভালো। বিশেষ করে মাঠের কথা বলব। মাঠ কতটা ভালো, বলে বোঝানো যাবে না।’ তারপরই তাঁর কণ্ঠে আক্ষেপ, ‘অমাদের দেশে এমন মাঠ থাকলে হয়তো আমরা আরও ভালো প্রস্তুতি নিতে পারতাম।’ সিডনির মাঠের বিশেষত্ব কী জানতে চাইলে শিউলি বলেন, ‘এ দেশের সব মাঠই ভালো আমাদের দেশের তুলনায়।’
আগামী ৩ মার্চ এশিয়ান কাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ৯ বারের এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন শক্তিশালী চীনের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। এই ম্যাচকে কেন্দ্র করেই এখন সব পরিকল্পনা সাজাচ্ছেন কোচ পিটার বাটলার। বিশেষ করে রক্ষণভাগকে নিশ্ছিদ্র রাখা এবং পাল্টা আক্রমণে ওঠার কৌশল নিয়ে চলছে নিবিড় তালিম। প্রস্তুতির অংশ হিসেবে স্থানীয় এ লিগের দল টিম ওয়েস্টার্ন সিডনি ওয়ান্ডারার্সের বিপক্ষে একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। সেই ম্যাচে হার-জিতের চেয়েও নিজেদের ভুলগুলো খুঁজে বের করাকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন কোচ।
শিউলির মুখে ঝরল আশার কথা, ‘আশা করি আমরা আমাদের সর্বোচ্চটা দিতে পারব। আমরা এখানে আসার পর একটা ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছি। ওয়েস্টার্ন সিডনি ওয়ান্ডারার্সের সঙ্গে। সেখানে যে ঘাটতি আর ভুলগুলো ছিল সেগুলো নিয়ে কোচ কাজ করছেন।’
শিউলি আজিম জানান, বিশ্বকাপের স্তরে খেলা একটি দেশের ক্লাব দলের বিপক্ষে নিজেদের শক্তি যাচাই করার সুযোগ পাওয়াটা ছিল দারুণ অভিজ্ঞতা। রক্ষণভাগের ফাঁকফোকরসহ যে ভুলগুলো ধরা পড়েছিল, গত কয়েক দিনের অনুশীলনে সেগুলো কাটিয়ে উঠতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে পুরো দল।
সিডনির আবহাওয়া ও হোটেল থেকে অনুশীলন মাঠে যাতায়াত নিয়ে দলের মধ্যে এখন আর কোনো অস্বস্তি নেই। শুরুর দিকে গরম কিছুটা ভোগালেও গত দুই দিনের বৃষ্টি পরিবেশকে ফুটবল খেলার জন্য পুরোপুরি মানানসই করে তুলেছে। অনুশীলনের জন্য প্রতিদিন প্রায় ৪০-৫০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হলেও অনেকটা যানজটহীন রাস্তায় যাতায়াতে ক্লান্তি খুব একটা স্পর্শ করছে না ফুটবলারদের। এ ছাড়া দলের সঙ্গে নারী ফিজিও না থাকা নিয়ে যে সমালোচনা তৈরি হয়েছিল, তারও একটি সাময়িক সমাধান মিলেছে।
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এক অস্ট্রেলিয়ান পুরুষ ফিজিও তিন দিন ধরে দলের সঙ্গে কাজ করছেন, যা ফুটবলারদের চোটমুক্ত থাকতে বড় সহায়তা দিচ্ছে বলে দলীয় কর্মকর্তাদের দাবি।
দলের তরুণ ফরোয়ার্ড সুরভী আকন্দ প্রীতির চোখেমুখে এখন বড় মঞ্চে খেলার রোমাঞ্চ। তাঁর ভাষায়, ‘প্রস্তুতি ম্যাচে ওয়েস্টার্ন সিডনি ওয়ান্ডারার্সের বিপক্ষে হাড্ডাহাড্ডি করেছি আমরা, যা আমাদের আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে।’
কোচের ছক বা ফরমেশন নিয়ে সরাসরি কিছু না বললেও প্রীতি বলছেন, চীনের বিপক্ষে সুযোগ পেলে সেরাটা দেবেন তাঁরা।
সব মিলিয়ে সিডনির মখমলের মতো নরম ঘাস আর উন্নত সুযোগ-সুবিধা বাংলাদেশের মেয়েদের মানসিকভাবে চনমনে করে তুলেছে। মাঠের লড়াইয়ে শক্তিশালী চীনের বিপক্ষে এ আত্মবিশ্বাস কতটা কাজে লাগে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।