ইংল্যান্ডকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনা
ইংল্যান্ডকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনা

মেসি ৯, স্কালোনি ১০—আর্জেন্টিনার জয়ে কে কত নম্বর পেয়েছেন

২১ বছর পর ইংল্যান্ডের সঙ্গে দেখা আর্জেন্টিনার। যে ইংল্যান্ডের সঙ্গে লাতিন আমেরিকার দেশটির আছে ফকল্যান্ড যুদ্ধের হিসাব-নিকাশও। মাঠ ও মাঠের বাইরের নানা সমীকরণের এই ম্যাচে কেমন খেললেন আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়েরা? ইএসপিএনের সৌজন্যে দেখে নিনে দশ নম্বরের মধ্যে কে কত পাওয়ার মতো খেলেছেন।

এমিলিয়ানো মার্তিনেজ (৬/১০)

প্রথমার্ধে মার্তিনেজকে খুব একটা কঠিন পরীক্ষায় পড়তে হয়নি। রিস জেমসের একটি ফ্রি-কিক রুখেছেন, যা ছিল প্রথমার্ধে দুই দলের মধ্যে একমাত্র অন-টার্গেট শট। অ্যান্থনি গর্ডনের শটে গোল হজম করলেও এরপর তাঁকে আর তেমন কোনো পরীক্ষার মুখে পড়তে হয়নি।

নিকোলাস তালিয়াফিকো (৬/১০)

তালিয়াফিকো সুযোগ বুঝে আক্রমণে উঠেছেন, তবে মর্গান রজার্সের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মাঝেমধ্যে তাঁকে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। আর্জেন্টিনা এক গোলে পিছিয়ে পড়ার পর অবশ্য তিনি মাঠে ভালো পারফর্ম করেছেন।

লিসান্দ্রো মার্তিনেজ (৬১০)

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এই ডিফেন্ডার প্রথমার্ধে গর্ডনের একটি আক্রমণ দারুণভাবে ক্লিয়ার করেছেন, তবে প্রতিপক্ষের পাল্টা আক্রমণ থামাতে গিয়ে হলুদ কার্ডও দেখেছেন। হ্যারি কেইনকে আটকে রাখতে বেশ আগ্রাসী মেজাজে দেখা গেছে তাঁকে।

ক্রিস্টিয়ান রোমেরো (৬/১০)

প্রতিপক্ষের একটি কাউন্টার অ্যাটাক থামাতে গিয়ে রোমেরো একটি হলুদ কার্ড দেখেছেন। শুরু থেকেই তিনি ইংল্যান্ডের ফরোয়ার্ডদের কড়া মার্কিংয়ে রেখে ম্যাচের আবহ তৈরি করে দিয়েছিলেন।

নাহুয়েল মলিনা (৩/১০)

৩৫ মিনিটে একটি অসতর্ক ট্যাকল করে ইংল্যান্ডকে বিপজ্জনক জায়গায় ফ্রি-কিক বিলিয়ে দিয়েছেন। রক্ষণ থেকে বল ওপরে বাড়াতেও তাঁকে বেগ পেতে হয়েছে। এরপর ম্যাচের প্রথম গোলের সময় তিনি নিজের পজিশন হারিয়ে ব্যাক-পোস্টে গর্ডনকে একা ছেড়ে দেন, যার খেসারত দিতে হয় গোল খেয়ে।

আলেক্সিস ম্যাক আলিস্টার (৭/১০)

মাঝমাঠের চরম হট্টগোলের মধ্যেও মাক আলিস্টার ছিলেন শান্ত ও ধীরস্থির। খেলা গুছিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি সুযোগ বুঝে বক্সে দারুণ সব রান (দৌড়) নিয়েছেন তিনি। রদ্রিগো দি পলের ক্রস থেকে তাঁর নেওয়া হেড পোস্টে লেগে ফিরে আসে,পরে তাঁর আরেকটি শটও পোস্টে আঘাত করে।

শট পোস্টে লেগে ফিরে না এলে দুটি গোল পেতে পারতেন ম্যাক আলিস্টার

এনজো ফার্নান্দেজ (৮/১০)

আর্জেন্টিনার যখন অলৌকিক কিছুর প্রয়োজন ছিল, তখনই জ্বলে ওঠেন এনজো। ৪০ গজ দূর থেকে নেওয়া শটে প্রথমে একটি কর্নার আদায় করেন, এবং ঠিক তার পরপরই ডি-বক্সের বাইরে থেকে জোরালো ও নিখুঁত এক শটে জর্ডান পিকফোর্ডকে পরাস্ত করে চমৎকার একটি গোল করেন। যে গোল ম্যাচে আর্জেন্টিনাকে সমতা ফেরায়।

লিয়ান্দ্রো পারেদেস (৫/১০)

মাঝমাঠের নোঙর হিসেবে পারেদেস বেশ আগ্রাসী ছিলেন এবং জুড বেলিংহামকে দ্রুত বোতলবন্দী করার চেষ্টা করেছেন। প্রথমার্ধে কীভাবে যে তিনি হলুদ কার্ড খাওয়া থেকে বেঁচে গেলেন, তা এক রহস্য।

জুলিয়ানো সিমিওনে (৫/১০)

আর্জেন্টিনা প্রেসিং ফুটবল খেলেছে তাঁর নেতৃত্বেই। শুধু প্রথমার্ধেই পাঁচটি ফাউল করেছেন সিমিওনে। তবে দল এক গোলে পিছিয়ে পড়ার পর তাঁর জায়গায় দি পলকে নামানো হয়।

শরীর–নির্ভর ফুটবল খেলেছেন জুলিয়ানো সিমিওনে

হুলিয়ান আলভারেজ (৬/১০)

জেড স্পেন্সের কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে আলভারেজ ম্যাচে আর্জেন্টিনার প্রথম বড় সুযোগটি তৈরি করেছিলেন, কিন্তু তার শটটি পিকফোর্ড রুখে দেন। যতক্ষণ মাঠে ছিলেন, বল দখলে রেখে অন্য সতীর্থদের খেলায় সহায়তার চেষ্টা করে গেছেন আলভারেজ।

লিওনেল মেসি (৯/১০)

মেসি যখন ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগের ঠিক বাইরে একটু নিচে নেমে আসছিলেন, তখন তাঁকে আটকানোটা টুখেলের দলের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছিল। ফাঁকা জায়গায় মেসি অনায়াসে বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়কে ড্রিবল করে কাটিয়ে গেছেন। তবে মেসির আসল খেলা দেখা গেছে দল ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর। এরপরই যেন পুরো খেলার নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে তুলে নেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

৩৯ বছর বয়সেও ফুটবলের সর্বোচ্চ মঞ্চে তিনি যেভাবে প্রভাব বিস্তার করে চলেছেন, তা এক কথায় অসাধারণ। আর্জেন্টিনার সমতা আনা এবং জয়সূচক দুটি গোলেই অবদান ছিল তাঁর। ম্যাচের ৯২ মিনিটে তাঁর নিখুঁত ক্রসটি ইংলিশ ডিফেন্ডারদের মাথার ওপর দিয়ে সরাসরি লাওতারো মার্তিনেজের মাথায় গিয়ে পৌঁছায়, যেখান থেকে আসে জয়সূচক গোল।

আর্জেন্টিনার দুটি গোলও এসেছে লিওনেল মেসির সহায়তায়

নিকো গনসালেস (৬/১০)
৬৪তম মিনিটে পারেদেসের বদলি নেমেছেন। দুই প্রান্ত থেকে আসা ক্রসগুলো লুফে নিতে গনসালেস দারুণ টাইমিংয়ে ইংল্যান্ডের বক্সে পজিশন নিয়েছিলেন, এয়ারে ভালো করেছেন।

রদ্রিগো দি পল (৬/১০)

৭২ মিনিটে সিমিওনের বদলে নেমেছেন। মাঠে নামার পরপরই দি পল একটি নিখুঁত ক্রস বাড়িয়ে প্রায় গোল বানিয়ে ফেলেছিলেন, তবে ম্যাক আলিস্টারের সেই হেডটি পোস্টে লেগে ফিরে আসে।

নিকোলাস ওতামেন্দি (৬/১০)

৭২ মিনিটে মাঠে নামলেও ইংল্যান্ড রক্ষণাত্মক হয়ে নিচে নেমে যাওয়ায় তাঁকে খুব একটা পরীক্ষায় পড়তে হয়নি।

গঞ্জালো মন্তিয়েল (৬/১০)

৭২ মিনিটে বদলি নেমেছেন। ২৯ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডার মাঠের পরিধি বাড়িয়ে আর্জেন্টিনার টেকনিক্যাল খেলোয়াড়দের জন্য জায়গা তৈরি করে দিয়েছিলেন, যার ফলে উইং থেকে নিয়মিত ভালো ডেলিভারি বেড়েছে।

লিওনেল স্কালোনি (১০/১০)

খেলোয়াড় বদল এবং কৌশলগত পরিবর্তনের দিক থেকে স্কালোনি টমাস টুখেলের বিপক্ষে দারুণ মুনশিয়ানা দেখিয়েছেন। ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর তিনি যেভাবে কৌশল খাপ খাইয়ে নিয়েছেন, তা ক্রমাগত ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগকে ভেঙে চুরমার করেছে এবং জয়সূচক গোল পাওয়ার আগপর্যন্ত একের পর এক সুযোগ তৈরি করেছে আর্জেন্টিনা।