ইরাকের বিপক্ষে জোড়া গোল করেন এমবাপ্পে। প্রথম গোলের পর তাঁর উদ্‌যাপন
ইরাকের বিপক্ষে জোড়া গোল করেন এমবাপ্পে। প্রথম গোলের পর তাঁর উদ্‌যাপন

বজ্রপাতের আগে-পরে সেই একই এমবাপ্পে, ফ্রান্সও নকআউটে

ফ্রান্স ৩–০ ইরাক

এমনই তো হওয়ার কথা ছিল!

না, ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়ামে বজ্রপাতসহ ঝড়ে ফ্রান্স–ইরাক ম্যাচ দুই ঘণ্টার বেশি সময় স্থগিত থাকার কথা বলা হচ্ছে না। বলা হচ্ছে কিলিয়ান এমবাপ্পের কথা। বজ্রঝড় শুরুর আগে ইরাকের জালে একটি গোল করেন ফরাসি তারকা। সেই ঝড় থামার পর দ্বিতীয়ার্ধেও সেই একই এমবাপ্পেকে দেখা গেল। গোল করলেন আরও একটি। তাঁর পাশাপাশি উসমান দেম্বেলের গোলে ইরাককে ৩–০ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপে নকআউট পর্বের টিকিট কেটেছে ফ্রান্স।

এমবাপ্পে যে এই ম্যাচে গোল করবেনই, সেটাও অনেকে আন্দাজ করে রেখেছিলেন। কারণটা লিওনেল মেসি! রাতে আগের ম্যাচে ডালাসে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোলে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড ভাঙেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি। ১৮ গোল হয়ে গেল তাঁর। ইরাকের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে মেসির চেয়ে ৪ গোল ব্যবধানে পিছিয়ে ছিলেন এমবাপ্পে। সেটাকে মাত্র ২ গোলে নামিয়ে আনার পথে ক্লোসারও (১৬) পাশে বসেন ফরাসি এই ফরোয়ার্ড। এখন তাঁর সামনে শুধুই মেসি।

ইরাকের বিপক্ষে প্রথমার্ধের ১৪ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া বাঁ পায়ের দারুণ শটে গোল করেন এমবাপ্পে। তখন মনে হচ্ছিল, ফ্রান্স প্রথমার্ধে বুঝি আরও গোল করবে! কিন্তু প্রথমার্ধে আধিপত্য ধরে রেখেও আর গোল পায়নি দিদিয়ের দেশমের দল। ততক্ষণে ফিলাডেলফিয়ার আকাশে জমাট বাঁধে অন্য এক শঙ্কা। বৃষ্টি শুরু হয়েছিল প্রথমার্ধেই। এর মধ্যে প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার একটু আগে খবর আসে, স্টেডিয়ামের ধারেকাছে কোথাও বজ্রপাত হয়েছে এবং আরও বজ্রপাতসহ ঝড়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ব্যস, নিয়মের ভেতরে থেকে প্রথমার্ধ শেষে ফিফা দ্বিতীয়ার্ধের খেলা নির্ধারিত সময়ে মাঠে গড়াতে দেয়নি।

বজ্রঝড়ের শঙ্কায় ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়ামে ফাঁকা গ্যালারি। বড় পর্দায় দর্শকদের গ্যালারি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে যেতে বলা হয়

বাংলাদেশ সময় রাত তিনটায় শুরু হওয়া এই ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হয় সকাল ছয়টায়। অর্থাৎ প্রথমার্ধ শেষে দুই ঘণ্টার বেশি সময় স্থগিত ছিল খেলা। এবার বিশ্বকাপে এই প্রথম কোনো ম্যাচে আবহাওয়ার কারণে বিঘ্ন ঘটল। বজ্রপাতের আশঙ্কা মিলিয়ে যাওয়ার পর আবারও মাঠে নামে দুই দল। শুরু হয় দ্বিতীয়ার্ধের খেলা।

ফ্রান্সের জার্সিতে নিজের শততম ম্যাচ খেলতে নামা এমবাপ্পে এই অর্ধে ৫৪ মিনিটে আরেকটি গোল করেন। সেটা অবশ্য ইরাকের ‘উপহার’—ডিফেন্ডার আহমেদ কাসেমের ব্যাকপাস এতই জোরে ছিল যে ইরাকের গোলকিপার বাসিল বল নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হন। সেই ভুলের সুযোগ নেওয়া উসমান দেম্বেলে নিজে শট না নিয়ে নিঃস্বার্থভাবে বল দেন এমবাপ্পেকে। আলতো টোকায় বল জালে জড়িয়ে ক্লোসাকে ছুঁয়ে ফেলেন ফরাসি তারকা। ফ্রান্সের হয়ে ১০০ ম্যাচে ৬০ গোল হলো এমবাপ্পের। এর মধ্যে ১৬টি গোল করলেন বিশ্বকাপে ১৬ ম্যাচ খেলে।

বিরতির পর দেম্বেলে ও এমবাপ্পে গোল করেন

৬৬ মিনিটে দেম্বেলের গোলে বড় ভূমিকা মিডফিল্ডার মাইকেল ওলিসের। বল নিয়ে দারুণ গতিতে বক্সে ঢুকে পাস দেন দেম্বেলেকে। সহজেই বিশ্বকাপে নিজের প্রথম গোলটি তুলে নেন গত বছর ব্যালন ডি’অরজয়ী এ তারকা।

‘আই’ গ্রুপে দুই ম্যাচে ফ্রান্সের সংগ্রহ ৬ পয়েন্ট। দেশমের দলের নকআউট পর্ব ইতিমধ্যে নিশ্চিত হয়ে গেছে। তবে গ্রুপ পর্বে নরওয়ের বিপক্ষে তাদের শেষ ম্যাচের ফলই সম্ভবত ঠিক করে দেবে, কারা গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে পরের রাউন্ডে যাবে।