ফুটবল তারকাদের আয় নিয়ে ভক্ত-সমর্থকদের বরাবরই বাড়তি কৌতূহল থাকে। প্রকাশ্যে সেই আয়ের তথ্য খুব কমই পাওয়া যায়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সংবাদমাধ্যমগুলোর সূত্র ও পরিসংখ্যানভিত্তিক সাইটগুলোর ওপরই নির্ভর করতে হয় সেই তথ্য পেতে।
তবে ইন্টার মায়ামির সহমালিক হোর্হে মাস এবার প্রকাশ্যেই জানালেন মেসির আয়ের কথা। মাসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ইন্টার মায়ামি থেকে বছরে মেসির আয় ৭ থেকে ৮ কোটি ডলার। এই আয়ের মধ্যে ক্লাবে তাঁর মালিকানার অংশ থেকেও পাওয়া অর্থ অন্তর্ভুক্ত। মাস বলেন, এমন বড় ব্যয় সামাল দিতে স্পনসরশিপ ও অন্যান্য উৎস থেকে আয় বাড়ানো ক্লাবের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
সম্প্রতি মায়ামি ব্রাজিলের আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠান ন্যু হোল্ডিংয়ের সঙ্গে একটি চুক্তি করেছে। এই চুক্তির ফলে মায়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে নির্মাণাধীন ক্লাবের নতুন স্টেডিয়ামের নামকরণের স্বত্ব পাবে প্রতিষ্ঠানটি।
এদিকে ইএসপিএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইন্টার মায়ামির ব্যবসায়িক কার্যক্রমের সভাপতি হ্যাভিয়ার অ্যাসেনসি জানান, আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী মেসির ক্লাবে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনাকে সামনে রেখে অনেক আগ থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া শুরু হয়েছিল। আসেনসি বলেন, ‘আমি ভাগ্যে বিশ্বাস করি না। আমার কাছে ভাগ্যের সংজ্ঞা হলো, প্রস্তুতি ও সুযোগের মিলন।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘ঘটনা নিজের মতো ঘটতে পারে, আবার আপনি চাইলে ঘটাতেও পারেন। তবে যেটাই হোক, সেটির জন্য আগে থেকেই প্রস্তুত থাকতে হয়। এখানে ঠিক সেটাই হয়েছে। লিওনেলের (মেসি) আগমন কোনো আকস্মিক বিষয় নয়; এর পেছনে আছে পরিকল্পনা, কৌশল এবং দীর্ঘদিনের প্রস্তুতি। এটি মূলত আমেরিকান ভাবনা—“সেরাটার লক্ষ্য রাখো, খারাপ পরিস্থিতির জন্যও প্রস্তুত থাকো।”’ ২৬ হাজার ৭০০ দর্শক ধারণক্ষমতার নির্মাণাধীন ন্যু স্টেডিয়ামে আগামী ৪ এপ্রিল প্রথম ম্যাচ আয়োজনের কথা রয়েছে।
এর মধ্যে গত শুক্রবার ব্লুমবার্গে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে মাস বিস্তারিত কথা বলেছেন মেসিকে নিয়ে। সেখানে তিনি বলেছেন, ‘খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক অনেক বেশি। সে কারণেই আমার বিশ্বমানের স্পনসর দরকার। আমি মেসিকে পারিশ্রমিক দিই বছরে সব মিলিয়ে ৭০ থেকে ৮০ মিলিয়ন ডলার। সে প্রতিটি ডলারের যোগ্য।’
মেসি বর্তমানে মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া খেলোয়াড়। এমএলএস প্লেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রকাশিত বেতন নির্দেশিকা অনুযায়ী, তাঁর মূল বেতন ১২ মিলিয়ন ডলার এবং সব মিলিয়ে নিশ্চিত পারিশ্রমিক পান ২০.৪৫ মিলিয়ন ডলার, যা ৭০-৮০ মিলিয়ন ডলার থেকে অনেক কম। এর বাইরে মেসি মূলত ক্লাবের মালিকানা এবং অন্যান্য লাভজনক চুক্তি থেকেও আয় করে থাকেন।