বিশ্বকাপ শুরুর আগে আবারও সামনে এল লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর মধ্যে শ্রেষ্ঠত্বের বিতর্ক। এবার বিষয়টি সামনে এনেছেন ব্রাজিলকে বিশ্বকাপ জেতানো সাবেক কোচ লুই ফেলিপে স্কলারি। এক সাক্ষাৎকারে মেসিকে বাদ দিয়ে ব্যালন ডি’অরে সেরা হিসেবে রোনালদোকে বেছে নেওয়ার কারণ জানিয়েছেন স্কলারি।
রোনালদোর সঙ্গে সম্পর্কের কিছু অজানা দিকও প্রকাশ করেছেন স্কলারি। পর্তুগাল জাতীয় দলের সাবেক এই কোচ ব্যাখ্যা করেন, বিশ্বের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচনের ভোটে তিনি যে সিদ্ধান্তগুলো নিতেন, তার পেছনে আবেগ ও পেশাগত কারণ ছিল।
২০০২ সালে ব্রাজিলকে বিশ্বকাপ জেতানোর পর স্কলারি ২০০৩ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত পর্তুগালের জাতীয় দলের কোচ ছিলেন। আধুনিক যুগের দুই সেরা খেলোয়াড় মেসি ও রোনালদোকে কাছ থেকে দেখেছেন তিনি। ভিন্ন এক আয়নায় দুজনকে মূল্যায়ন করেছেন স্কলারি।
কোচিং থেকে সরে দাঁড়ানো এই ব্রাজিলিয়ানের চোখে দুই কিংবদন্তির পার্থক্যটা মূলত তাঁদের প্রতিভার ধরনে এবং এ বিষয়ই দীর্ঘদিন ধরে তাঁর ভাবনাকে প্রভাবিত করেছে। ‘গ্লোবো টিভি’র এক অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্কলারি জানান, বিষয়টি নিয়ে মেসি সরাসরি তাঁর সঙ্গে কথা বলেছিলেন। মেসি তাঁকে বলেছিলেন, ‘বস, আপনি কখনো আমাকে ব্যালন ডি’অরের জন্য ভোট দেননি, সব সময় রোনালদোকে দিয়েছেন।’
জবাবে স্কোলারি বলেছিলেন, ‘আমাকে তো রোনালদোকেই ভোট দিতে হয়, সে আমার ছেলের মতো।’ স্কলারি যোগ করেন, ‘মেসি জিনিয়াস। সে চোখ বন্ধ করলেও বুঝতে পারে বল কোথায় আছে। কিন্তু রোনালদো জন্মগত জিনিয়াস ছিল না; সে নিজের ইচ্ছাশক্তি আর পরিশ্রম করে নিজেকে জিনিয়াস বানিয়েছে।’
রোনালদোর অমানুষিক পরিশ্রমের কথাও তুলে ধরেছেন স্কলারি, যার শুরুটা হয়েছিল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে খেলার সময় থেকেই। স্কলারি জানান, তরুণ রোনালদো ম্যাচ শেষ হওয়ার পরও অতিরিক্ত অনুশীলন করতেন। বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কিংবদন্তি কোচ স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন প্রায়ই তাঁকে ফোন করতেন।
স্কলারির ভাষায়, ‘ফার্গুসন আমাকে ফোন করে বলতেন, “স্কলারি, আজ তাকে ফ্রি-কিক নিতে দিয়ো না। এখানে সে ইতিমধ্যেই ৩০টা নিয়েছে।” তারপর সে জাতীয় দলে এসে আবার আরও ৩০টা নিতে চাইত। তখন আমি বলতাম, “তুমি তো এগুলো আগেই করেছ!” কিন্তু এটাই তার নিবেদন।’
স্কলারি মনে করেন, রোনালদো ১,০০০ গোলের মাইলফলক দ্রুতই ছুঁয়ে ফেলবেন। স্কলারির ভাষায়, ‘এক বছর আগে আমি তার সঙ্গে ছিলাম। আমি তাকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, “তুমি কি ১,০০০ গোলের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছ? সত্যিই কি সেটা অর্জন করতে চাও?” সে বলেছিল, “না কোচ, না।” তখন আমি বললাম, “আহা...আমাকে বোকা বানাতে পারবে না।” আমার বিশ্বাস, সে এটা অর্জন করবে।’
স্কলারির ক্যারিয়ারের সবচেয়ে স্মরণীয় ঘটনার একটি ছিল মস্কোয় একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে তাঁর বাবা দিনিস আভেইরোর মৃত্যুসংবাদ জানানো। সেই মুহূর্তে রোনালদোর প্রতিক্রিয়া দুজনের সম্পর্ককে আরও গভীর করে তোলে।
আবেগঘন কণ্ঠে স্কলারি সেই স্মৃতি উসকে দেন, ‘ওরা আমাকে ফোন করে ঘটনাটা জানায়। আমি মনে করলাম, খবরটা আমাকেই তাকে (রোনালদো) জানাতে হবে। আমি তাকে আমার রুমে ডেকে নিলাম, জড়িয়ে ধরলাম, তার সঙ্গে কাঁদলাম এবং বললাম, চাইলে সে চলে যেতে পারে। কিন্তু রোনালদোর উত্তর ছিল অন্য রকম। ‘সে বলেছিল, “সবার আগে জাতীয় দল। আমার বাবা চাইতেন আমি খেলি।” আর সেই ম্যাচেই সে মাঠের সেরা খেলোয়াড় ছিল। সেখান থেকেই তার পরিবারের সঙ্গেও আমার সম্পর্ক আরও গভীর হয়।’