এশিয়ান গেমসের বাছাইপর্ব সামনে রেখে প্রস্তুতি শুরু করেছে বাংলাদেশ জাতীয় হকি দল। গতকাল জাতীয় স্টেডিয়ামে কুপার টেস্ট দেওয়ার ফাঁকে আড্ডায় মেতে ওঠেন আমিরুল–তানভীররা
এশিয়ান গেমসের বাছাইপর্ব সামনে রেখে প্রস্তুতি শুরু করেছে বাংলাদেশ জাতীয় হকি দল। গতকাল জাতীয় স্টেডিয়ামে কুপার টেস্ট দেওয়ার ফাঁকে আড্ডায় মেতে ওঠেন আমিরুল–তানভীররা

জাতীয় দলের প্রস্তুতি শুরু

টুর্নামেন্ট এলেই জাগে হকি

আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট এলে জাগে দেশের হকি, বাকি সময়টা কাটে স্থবিরতায়। লিগবিহীন অবস্থায় হকি খেলোয়াড়দের দেখা মেলে শুধু আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট এলেই। তা–ও বছরে হাতে গোনা এক-দুটি টুর্নামেন্টই খেলার সুযোগ হয় তাঁদের।

এই বাস্তবতাকে সঙ্গী করেই ২৫ মার্চ ওমানে শুরু হতে যাওয়া এশিয়ান গেমসের বাছাইপর্ব সামনে রেখে কাল প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় হকি দলের। জাতীয় দল সর্বশেষ ম্যাচ খেলেছে গত নভেম্বরের মাঝামাঝি ঢাকায় পাকিস্তানের বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইয়ে যাওয়ার যোগ্যতা নির্ধারণী পর্বে। সেই সিরিজে তিন ম্যাচে বাংলাদেশ গোল হজম করে ২৬টি। ফেডারেশনের মধ্যেই আলোচনা, সঠিক দল গঠন করা হয়নি বলেই বাংলাদেশ কোনো লড়াইও করতে পারেনি।

সেই ব্যর্থতা ঢাকতেই এবার নাঈম, মিমো, কৌশিক, আবেদ ও মাহবুবের মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের ক্যাম্পে ফেরানো হয়েছে। তবে রাসেল মাহমুদ জিমি এবারও ব্রাত্যই থেকে গেছেন।

ঘরোয়া হকি না থাকায় খেলোয়াড়দের রুটিরুজিতে টান পড়েছে। এশিয়ান গেমসের বাছাইয়ের ক্যাম্পে আসা ৩৬ জনের মধ্যে ১৭-১৮ জন বিভিন্ন বাহিনীতে চাকরি করায় তাঁদের আয়ের সংস্থান থাকলেও বাকিদের কোনো আয় নেই। এই দীর্ঘ অচলাবস্থা খেলোয়াড়দের খেলার প্রতি আগ্রহ কমিয়ে দিচ্ছে। তাঁদের মনে নীরব হাহাকার।

পুষ্কর খীসা মিমো

দুই টুর্নামেন্ট পর দলে ডাক পাওয়া ফরোয়ার্ড পুস্কর খীসা মিমো সন্তোষ প্রকাশ করলেও তাঁর কণ্ঠেও ঘরোয়া লিগের দাবি। এই দাবি আসলে হকি খেলোয়াড়দের সবারই। সর্বশেষ প্রিমিয়ার লিগ হয়েছিল ২০২৪ সালের মার্চ-এপ্রিলে, যা মারামারির কারণে পণ্ড হয়ে যায়। গত ডিসেম্বরে জুনিয়র বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ১৮ গোল করে সাড়া ফেলা আমিরুল ইসলামের কণ্ঠেও আক্ষেপ, ‘আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট আমরা খেলব দেশের জন্য। কিন্তু আমাদের কোনো লিগ-টুর্নামেন্ট নেই, বাহিনীর বাইরের খেলোয়াড়েরা আর্থিক সংকটে দিন কাটাচ্ছেন।’

অভিজ্ঞ ফরহাদ আহমেদ শিটুল মনে করেন, লিগ থাকলে বিদেশি খেলোয়াড়দের কাছ থেকে অনেক কিছু শেখার সুযোগ থাকত। গোলরক্ষক বিপ্লব কুজুরের মতে, দেশের স্বার্থে মাঠের লড়াইয়ে নামলেও ফিটনেস ধরে রাখতে এবং নতুন খেলোয়াড় তৈরিতে লিগ অপরিহার্য। লিগ না থাকলে ক্যাম্পে এসে ফিটনেস টেস্টে পাস করা অনেকের পক্ষেই কঠিন হয়ে যায়।

কুজুরের কথার প্রমাণ মিলেছে কাল প্রস্তুতির প্রথম দিনে জাতীয় স্টেডিয়ামের কুপার টেস্টে। ট্র্যাকে চক্কর দিতে গিয়ে হাঁপিয়ে উঠেছেন অনেকে। ক্যাম্পে ডাক পাওয়া ৩৭ জনের মধ্যে অনুপস্থিত ছিলেন শুধু গোলরক্ষক আবু সাঈদ নিপ্পন। ঘরোয়া খেলা নিয়মিত থাকলে ফিটনেস নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়তে হতো না বলে মনে করেন খেলোয়াড়েরা।

প্রিমিয়ার লিগ করার আগে প্রথম বিভাগ লিগ করতে হবে। ওটা বকেয়া আছে (সর্বশেষ প্রথম বিভাগ হয়েছে ২০২৩ সালের মার্চে)। তাই প্রথম বিভাগ করার চেষ্টা করছি গত কয়েক মাস থেকে। কিন্তু ক্লাবগুলো দল গঠন না করলে ফেডারেশনের পক্ষে লিগ আয়োজন করা সম্ভব নয়।
হকি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুল হাসান

কোচ আশিকুজ্জামান তবু সামনে তাকিয়ে, ‘অনেক দিন ধরে ঘরোয়া হকি নেই। পাকিস্তান সিরিজ ও জুনিয়র বিশ্বকাপের পর খেলোয়াড়েরা আবার ক্যাম্পে এসেছে। আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের আগে যেমন ফিটনেস দরকার, তেমন ফিটনেস আমাদের খেলোয়াড়দের নেই। তবে আশা করব, যেটুকু সময় আছে খেলোয়াড়েরা এই সমস্যা কাটিয়ে উঠবে।’

আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের আগে খেলোয়াড়েরা প্রস্তুতি ম্যাচ চান। কিন্তু সময় স্বল্পতা এবং আর্থিক সংকটের কারণে ওমানে যাওয়ার আগে দেশে কোনো প্রস্তুতি ম্যাচ আয়োজন করা সম্ভব হবে না বলে জানিয়েছেন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুল হাসান। তবে ২২ মার্চ ওমানে পৌঁছানোর পর কোনো দলের সঙ্গে অনুশীলন ম্যাচ খেলার চেষ্টা করা হবে জানিয়েছেন তিনি।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ফেডারেশনে নতুন কমিটি এলেও তাদের যাবতীয় ব্যস্ততা আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট নিয়ে। ঘরোয়া লিগ আয়োজন করতে তারা ব্যর্থ হয়েছে। তবে ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সে দায় চাপিয়েছেন ক্লাবগুলোর ওপর, ‘প্রিমিয়ার লিগ করার আগে প্রথম বিভাগ লিগ করতে হবে। ওটা বকেয়া আছে (সর্বশেষ প্রথম বিভাগ হয়েছে ২০২৩ সালের মার্চে)। তাই প্রথম বিভাগ করার চেষ্টা করছি গত কয়েক মাস থেকে। কিন্তু ক্লাবগুলো দল গঠন না করলে ফেডারেশনের পক্ষে লিগ আয়োজন করা সম্ভব নয়।’