সাউথ এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ

ব্যাডমিন্টনে গৌরব নিয়ে ফিরছেন সিফাত–নাজমুল

মাত্র দুজন খেলোয়াড় নিয়ে অংশ নিয়েই অনূর্ধ্ব-২৩ বিভাগে একটি সোনা ও একটি ব্রোঞ্জ—পাকিস্তানের ইসলামাবাদে পরশু শেষ হওয়া এশিয়া-সাউথ এশিয়ান রিজিওনাল ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশকে সফল বলতেই হবে। বয়সভিত্তিক এই টুর্নামেন্টে অনূর্ধ্ব-১৬ ও অনূর্ধ্ব-১৯ বিভাগ থাকলেও বাংলাদেশ শুধু অনূর্ধ্ব-২৩ বিভাগেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে।

ছেলেদের দ্বৈতে সোনা জিতেছেন সিফাত উল্লাহ গালিব ও নাজমুল ইসলাম জয়। ফাইনালে তাঁরা নেপালের শক্তিশালী জুটি প্রিন্স দাহাল ও ক্রিস্তিজ কাহালকে ২–১ সেটে হারিয়েছেন। প্রিন্স দাহাল একসময় জুনিয়র পর্যায়ে বিশ্বের এক নম্বর শাটলার ছিলেন। এমন প্রতিপক্ষকে ২১–১৫, ১৮–২১ ও ২১–১৪ পয়েন্টে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়া বাংলাদেশের ব্যাডমিন্টনের জন্য বড় প্রাপ্তিই। চট্টগ্রামের হাটহাজারীর ১৯ বছর বয়সী সিফাত উল্লাহ গালিব এককেও ব্রোঞ্জপদক জিতেছেন।

বাংলাদেশের ব্যাডমিন্টনে দেশের বাইরে সোনা জয় অনেকটা স্বপ্নের মতোই। বাংলাদেশ ব্যাডমিন্টন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক রাসেল কবীর বলেছেন, তাঁর জানামতে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের বাইরে এটিই বাংলাদেশের প্রথম সোনা। দলের সঙ্গে ইসলামাবাদে থাকা কোচ ও সাবেক জাতীয় চ্যাম্পিয়ন মোস্তফা মোহাম্মদ জাবেদও বলেছেন একই কথা, ‘আমার জানামতে, দেশের বাইরে যেকোনো স্তরে এটিই ব্যাডমিন্টনে আমাদের প্রথম সোনা।’

তবে এর আগে ২০২২ সালে ভারতের আসামে এই টুর্নামেন্টেরই অনূর্ধ্ব-১৫ বিভাগে মুস্তাকিম হোসেনকে নিয়ে দ্বৈতে সোনা জিতেছিলেন সিফাত উল্লাহ গালিব। অবশ্য ইসলামাবাদ থেকে মুঠোফোনে প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে সিফাত নিজেও তা মনে করতে পারছিলেন না! সিফাত বর্তমানে জাতীয় জুনিয়রে একক, দ্বৈত ও মিশ্র তিন বিভাগেই চ্যাম্পিয়ন।

সিফাত উল্লাহ গালিব (ডানে) দুটি এবং নাজমুল ইসলাম জয় (বাঁয়ে) একটি পদক জিতেছেন

ময়মনসিংহের ছেলে নাজমুল জাতীয় জুনিয়রে সাবেক রানারআপ। দুজনই দেশের ব্যাডমিন্টনে উঠতি তারকা। ইসলামাবাদ থেকে সিফাত মুঠোফোনে বলেন, ‘পাঁচ-ছয় বছর পর এবার অনূর্ধ্ব-২৩ বিভাগে খেলা হয়েছে। সোনা জিততে পেরে আমরা দারুণ খুশি। বাংলাদেশের ব্যাডমিন্টন যে এগোচ্ছে, এটা তারই প্রমাণ। মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির কারণে বিমানের টিকিটের দাম অনেক বেড়ে গেলেও ফেডারেশন আমাদের এখানে পাঠিয়েছে। আমরা তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ।’

২০০৪ সালে খেলোয়াড় হিসেবে ইসলামাবাদে সাফ গেমসে কোয়ার্টার ফাইনালে হেরে গিয়েছিলেন জাবেদ। ২২ বছর পর সেই শহরেই কোচ হিসেবে গিয়ে সাফল্য পেলেন তিনি। জাবেদ মনে করেন, ফেডারেশন এখন খেলোয়াড়দের ভালো সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে বলেই ব্যাডমিন্টন আস্তে আস্তে সামনের দিকে এগোচ্ছে, ‘সম্প্রতি দেশে আমরা আন্তর্জাতিক ব্যাডমিন্টনে সোনা জিতেছি। সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে খেলোয়াড়দের আরও সুযোগ–সুবিধা দিতে হবে।’

ভারত ছাড়া দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশই এই প্রতিযোগিতায় খেলেছে। সোনা ও ব্রোঞ্জজয়ী বাংলাদেশ দল আগামীকাল ভোরে দেশে ফিরবে।