শুটার কামরুন নাহার
শুটার কামরুন নাহার

এক বছর নিষিদ্ধ শুটার কলি: বিওএ মহাসচিব বলছেন—উদ্দেশ্যমূলক

বিতর্ক আর পাল্টাপাল্টি অভিযোগে কয়েক মাস ধরে টালমাটাল দেশের শুটিং অঙ্গন। এই অস্থিরতার মধ্যেই শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ হলেন দেশের শীর্ষ নারী শুটার কামরুন নাহার কলি। বাংলাদেশ শুটিং স্পোর্ট ফেডারেশন গত পরশু আনুষ্ঠানিকভাবে কলিকে চিঠি দিয়ে এই শাস্তির কথা জানিয়েছে।

ফেডারেশনের চিঠিতে বলা হয়েছে, ২ ফেব্রুয়ারি নির্বাহী কমিটির সভায় কলির বিরুদ্ধে প্রশিক্ষণ ক্যাম্পের আচরণবিধির সাতটি ধারা ভঙ্গের প্রমাণ পাওয়া গেছে। অভিযোগটি মূলত গত ২৫ জানুয়ারির একটি ঘটনা নিয়ে। ওই দিন ফেডারেশন কার্যালয়ে একটি মামলার তদন্তে আসা পুলিশ কর্মকর্তার সামনেই কলি সাধারণ সম্পাদক, নির্বাহী কমিটির সদস্য ও কর্মচারীদের সঙ্গে অশালীন, অপমানজনক, হুমকিমূলক ও আক্রমণাত্মক আচরণ করেন বলে দাবি ফেডারেশনের। তাদের মতে, এটি প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করেছে এবং সার্বিকভাবে আইনশৃঙ্ঘলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটিয়েছে। এর ফলে ফেডারেশনের গঠনতন্ত্রের ১৬.২০ ও ১৬.২১ ধারা অনুযায়ী তাঁকে ১ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

প্রথম আলো বর্ষসেরা উদীয়মান ২০২২–এর ক্রেস্ট হাতে কামরুন নাহার কলি

উল্লেখ্য, ফেডারেশনের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক জি এম হায়দারের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানিসহ বেশ কিছু গুরুতর অভিযোগ তুলেছিলেন কলিসহ কয়েকজন সাবেক-বর্তমান শুটার। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের তদন্ত কমিটি হায়দারকে ১০ বছরের নিষেধাজ্ঞার সুপারিশ করার দুই দিন আগেই ১ জানুয়ারি তাঁকে পদ থেকে অব্যাহতি দেয় ক্রীড়া পরিষদ। সেদিনই কলিকে সাময়িক নিষিদ্ধ করেছিল ফেডারেশন এবং শেষ পর্যন্ত এক বছরের শাস্তি দেওয়া হলো তাঁকে।

কলির দাবি, হায়দারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কারণেই তাঁকে এমন পরিস্থিতির শিকার হতে হচ্ছে। প্রথম আলোকে কাল তিনি বলেন, ‘এই শাস্তি অবৈধ। অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় উল্টো মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগে আমাকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। আমি কোনো শৃঙ্খলা ভঙ্গ করিনি। অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে কথা বলা শৃঙ্খলাভঙ্গ হয় কী করে! নতুন সরকার আসছে, তারা যদি মনে করে, অন্যায়ের প্রতিবাদ করা ঠিক আছে, তাহলে আমার শাস্তি প্রত্যাহার করবে আশা করি।’

১৭ ফেব্রুয়ারি আমরা তিন শুটারসহ শুটিং কর্মকর্তাদের ডেকেছি আগেই। ফেডারেশনকে বলেছি, বসে আমরা দেখব, কোথায় কী সমস্যা। তারপর বলেছি, কেউ দোষী হলে সাসপেন্ড করুন, আমরা অলিম্পিক থেকে ওর ভাতা বন্ধ করে দেব। কিন্তু বিওএ যেহেতু ভাতা (কলিকে) দেয়, সেটা বন্ধ করতে হলে বিওএর একটা তদন্ত দরকার। আমরা তদন্ত ছাড়া কারও কথায় বৃত্তি বাতিল করতে পারি না। সেটার জন্য ডেকেছিলাম ওদের। কিন্তু ওরা বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাল। এটা পুরোপুরি উদ্দেশ্যমূলকভাবে করেছে।
বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) মহাসচিব জোবায়দুর রহমান

২০২৩ সালের মার্চে জাকার্তা বিশ্বকাপ শুটিংয়ে ১০ মিটার এয়ার রাইফেলে অষ্টম হয়ে ইতিহাস গড়েছিলেন কলি। বাংলাদেশের ইতিহাসে তিনিই একমাত্র শুটার, যিনি ৬২৮ স্কোর করে বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নেন। দেশে বর্তমানে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির বৃত্তিপ্রাপ্ত তিনজন শুটারের একজন কলি। তাঁর ওপর এই নিষেধাজ্ঞায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) বিওএ মহাসচিব জোবায়দুর রহমান এই সিদ্ধান্তকে ‘উদ্দেশ্যমূলক’ বলেছেন।

১৭ ফেব্রুয়ারি বিওএতে অলিম্পিক বৃত্তিপ্রাপ্ত তিন শুটার ও শুটিং কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি সভা হওয়ার কথা। তার আগেই ফেডারেশনের এমন সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ মহাসচিব বলেন, ‘সেই সভার আগেই কীভাবে তারা এই শাস্তি দিয়েছে! কীভাবে দিয়েছে, তারাই জানে। আরেকটা জিনিস আমরা বুঝি, এটা তাদের ব্যক্তিগত দ্বন্দের ফল। এখনো তারা (ফেডারেশন) প্রমাণ করতে চায়, তাদের যুগ্ম সম্পাদক দোষী নন।’

ক্ষুব্ধ জোবায়দুর যোগ করেন , ‘১৭ ফেব্রুয়ারি আমরা তিন শুটারসহ শুটিং কর্মকর্তাদের ডেকেছি আগেই। ফেডারেশনকে বলেছি, বসে আমরা দেখব, কোথায় কী সমস্যা। তারপর বলেছি, কেউ দোষী হলে সাসপেন্ড করুন, আমরা অলিম্পিক থেকে ওর ভাতা বন্ধ করে দেব। কিন্তু বিওএ যেহেতু ভাতা (কলিকে) দেয়, সেটা বন্ধ করতে হলে বিওএর একটা তদন্ত দরকার। আমরা তদন্ত ছাড়া কারও কথায় বৃত্তি বাতিল করতে পারি না। সেটার জন্য ডেকেছিলাম ওদের। কিন্তু ওরা বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাল। এটা পুরোপুরি উদ্দেশ্যমূলকভাবে করেছে।’

বর্তমানে বিওএর বৃত্তিপ্রাপ্ত শুটার তিনজন। তাঁদের মধ্যে ব্যক্তিগত কারণে সায়রা আরেফিনের খেলায় ফেরা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। তার ওপর কলির এই নিষেধাজ্ঞা দেশে আন্তর্জাতিক শুটার–সংকট আরও বাড়াবে।