জোকোভিচকে হারানোর পর জোয়াও ফনসেকা
জোকোভিচকে হারানোর পর জোয়াও ফনসেকা

ফ্রেঞ্চ ওপেন থেকে জোকোভিচকে বিদায় করে দিলেন ব্রাজিলের ফনসেকা

কার্লোস আলকারাজ ছিলেন না। চোটের কারণে শুরুর আগেই ফ্রেঞ্চ ওপেন থেকে নাম প্রত্যাহার করে নেন স্প্যানিশ তারকা।

শীর্ষ বাছাই ইয়ানিক সিনারও বিদায় নিয়েছেন দ্বিতীয় রাউন্ড থেকে। বৃহস্পতিবার তাঁকে হারিয়ে হইচই ফেলেছেন অখ্যাত আর্জেন্টাইন হুয়ান মানুয়েল সেরুনদোলো।

সর্বশেষ নয়টি গ্র্যান্ড স্লামের পুরুষ একক জয়ী দুই খেলোয়াড়ের বিদায়ে হঠাৎ করেই ফ্রেঞ্চ ওপেন জয়ে ফেবারিট হয়ে যান নোভাক জোকোভিচ। গত সপ্তাহেই ৩৯–এ পা দেওয়া সার্বিয়ান মহাতারকাও আজ বিদায় নিলেন। ২৪ বারের গ্র্যান্ড স্লামজয়ী জোকোভিচকে হারিয়েছেন জোয়াও ফনসেকা নামের ১৯ বছর বয়সী এক ব্রাজিলিয়ান।

জোকোভিচ প্রথম দুই সেট ৬–৪, ৬–৪ গেমে জয়ের পর ৬–৩ ও ৭–৫ গেমে পরের দুটি সেট জিতে ম্যাচটি পঞ্চম সেটে নিয়ে যান বিশ্বের ৩০ নম্বর খেলোয়াড় ফনসেকা। সেই সেটও ৭–৫ গেমে জিতে গ্র্যান্ড স্লাম ক্যারিয়ারে প্রথমবার চতুর্থ রাউন্ডে উঠলেন ব্রাজিলিয়ান তরুণ।

জোকোভিচের বিদায়ে নিশ্চিত হলো নতুন গ্র্যান্ড স্লাম চ্যাম্পিয়ন পাচ্ছে পুরুষ টেনিস।

ফনসেকা যখন শেষ পয়েন্টটি জিতলেন ম্যাচের বয়স পাঁচ ঘণ্টা পূর্ণ হতে মোটে সাত মিনিট বাকি! প্রথম অনূর্ধ্ব-২০ তরুণ হিসেবে জোকোভিচকে গ্র্যান্ড স্লামে হারানোর কীর্তি গড়লেন এই ব্রাজিলিয়ান।

ম্যাচ শেষে জোকোভিচের অভিনন্দন পেলেন ফনসেকা

জোকোভিচ শুরুটা করেছিলেন রাজকীয়। রোদে তপ্ত হয়ে যাওয়া কোর্টে প্রথম ছয় গেমের পাঁচটিতেই জিতে জানিয়ে দেন— বয়সটা তার কাছে কেবলই একটা সংখ্যা। যেন নিজের ফেলে আসা তরুণ বয়সের রূপটাই ফিরিয়ে এনেছিলেন কোর্টে। প্যারিসের লাল মাটিতে কীভাবে খেলতে হয়, ১৯ বছর বয়সী প্রতিপক্ষকে রীতিমতো যেন তার পাঠশালা নিচ্ছিলেন সার্বিয়ান কিংবদন্তি।

২০০৮ সালে জোকোভিচ যখন নিজের প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যাম (অস্ট্রেলিয়ান ওপেন) ট্রফি ছুঁয়ে দেখছেন, ফনসেকা তখন মায়ের কোলে থাকা এক শিশু। সেই ছেলেই পরের সেটে সমানে সমানে টক্কর দিলেন অভিজ্ঞ জোকোভিচের সঙ্গে! তবে পঞ্চম গেমে নিজের সার্ভিস হারিয়ে বসেন এই ব্রাজিলিয়ান।

এবারও ২৫ হলো না জোকোভিচের

আর এমন সুযোগ কি হাতছাড়া করেন জোকোভিচ? ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় টুর্নামেন্টের তৃতীয় বাছাইয়ের হাতে। স্কোরলাইন ৫-৩ করার পর চেনা হুংকার ছাড়লেন, আর একটা নিখুঁত পাসিং শটে সেট পয়েন্ট নিশ্চিত করে শূন্যে ঘুসি ছুড়ে উদযাপন করলেন জোকোভিচ।

 তবে ফনসেকার রূপকথা তখনো লেখা বাকি। পরের সেটে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ব্যবধান কমান তিনি। চতুর্থ সেটের শুরুতেই জোকোভিচের সার্ভিস ব্রেক করতেই গ্যালারিতে থাকা ব্রাজিলিয়ান সমর্থকদের করতালিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো কোর্ট। ফনসেকার আগুনে সব শটের সামনে কোর্টে দাঁড়িয়ে জোকোভিচকে স্রেফ অবিশ্বাস্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকা ছাড়া আর কিছুই করার ছিল না। ম্যাচ তখন ২-২ সমতায়!

প্রথমবার কোনো গ্র্যান্ড স্লামের শেষ ১৬–তে উঠেছেন জোয়াও ফনসেকা

শেষ সেটে ১-৩ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েছিলেন ফনসেকা। কিন্তু স্নায়ুর চরম পরীক্ষা দিয়ে ১০ গেমের মাথায় সমতা ফেরান। এরপর জোকোভিচকে ব্রেক করে এগিয়ে যান ৬-৫ ব্যবধানে। ম্যাচের ভাগ্য নিজেদের হাতে নেওয়ার এমন মঞ্চ আর হাতছাড়া করেননি ফনসেকা। পরপর তিনটি বুলেট গতির এইস মেরে নিশ্চিত করেন ক্যারিয়ারের সবচেয়ে স্মরণীয় ও মহাকাব্যিক এক জয়।