
গ্র্যান্ড স্লাম টুর্নামেন্টে দ্বৈততে তাঁরা সর্বশেষ কোর্টে নেমেছিলেন ২০২২ সালে এই ইউএস ওপেনেই। চার বছর পর সেই একই টুর্নামেন্টের দ্বৈত ইভেন্টে প্রত্যাবর্তনটা ভালো হলো না উইলিয়ামস বোনদের। আর্থার অ্যাশ স্টেডিয়ামে দর্শকদের মধ্যে উন্মাদনা ছড়ালেও গতকাল রাতে প্রথম রাউন্ডে হেরে বিদায় নিয়েছেন দুই কিংবদন্তি।
তিন সেটের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে ১০ পয়েন্টের টাইব্রেকারে ৫-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত চ্যান হাও-চিং ও মায়া জয়েন্ট জুটির কাছে ৬-৩, ৬-৭ (৬/৮), ৭-৬ (১০/৭) গেমে হেরে যান তাঁরা। দ্বিতীয় সেট টাইব্রেকারে জয়ের পর তৃতীয় সেটে ৪-১ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকেও দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে উইলিয়ামস বোনরা সমতায় ফিরলেও শেষ দিকে এসে খেই হারিয়ে ফেলেন।
ওপেন যুগে মেয়েদের মধ্যে সর্বোচ্চ ২৩ গ্র্যান্ড স্লামজয়ী ৪৪ বছর বয়সী সেরেনা টেনিসে ফিরেছেন এ বছর। সাতটি গ্র্যান্ড স্লামজয়ী ভেনাস ৪৬ বছর বয়সেও ট্যুরে খেলা চালিয়ে যাচ্ছেন। গ্র্যান্ড স্লামে মেয়েদের দ্বৈত ইভেন্টে ১৪ শিরোপাজয়ী দুই বোন এবারের ইউএস ওপেনে পারলেন না সম্ভবত বয়সের প্রভাবে। পাশাপাশি সেরেনা খেলা থেকে দীর্ঘদিনের বিরতিতে ছিলেন আর কোর্টের স্নায়ুচাপ তো আছেই।
তৃতীয় সেটের শেষভাগে এবং টাইব্রেকারের প্রথম কয়েকটি পয়েন্টে দুর্দান্ত খেলার পর সেই টাইব্রেকারেই দুজন ডাবল ফল্ট করে বসেন। দুই বোনের সম্মিলিত বয়স ৯০ বছর আর তাঁদের প্রতিপক্ষ জুটির সম্মিলিত বয়স ৫২ বছর। স্বাভাবিকভাবেই ফিটনেস এবং বয়সের ভারের প্রভাবটা ফুটে উঠেছে।
চলতি গ্রীষ্মে এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো জয়েন্টের কাছে হারলেন সেরেনা। উইম্বলডনের এককে তাঁর প্রত্যাবর্তনের ম্যাচে অস্ট্রেলীয় এই খেলোয়াড়ের কাছে হেরে গিয়েছিলেন। এরপর হাঁটুতে চোট পেয়ে ভেনাস ও সেরেনা—দুজনই উইম্বলডনের দ্বৈত ইভেন্ট থেকে সরে দাঁড়ান।
২০২২ ইউএস ওপেনে প্রথম রাউন্ডে হেরে বিদায় নেওয়ার পর অনেকেই ভেবেছিলেন, সেটিই দুই বোনের জুটি বেঁধে শেষ দ্বৈত ম্যাচ। কারণ, সেরেনা সে বছরই টেনিসকে বিদায় জানান। তবে চলতি গ্রীষ্মে আবারও কোর্টে ফিরে বড় বোনকে সঙ্গে নিয়ে দুটি ম্যাচে হারলেন সেরেনা। সিনসিনাটি ওপেনেও তাঁরা ম্যাচের টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নেন। ভেনাস এবার ইউএস ওপেনে মেয়েদের এককে প্রথম রাউন্ডে হেরে বিদায় নিয়েছেন। ২০১৮ সালে ফ্রেঞ্চ ওপেনে তাঁরা সর্বশেষ জুটি বেঁধে শিরোপা জেতেন।
সাদা পোশাকে দুই বোন কোর্টে নামার সময় গ্যালারির দর্শক তুমুল করতালিতে তাঁদের স্বাগত জানান। তবে তাঁদের হারিয়ে দর্শকের উন্মাদনায় খানিকটা জলই ঢেলে দেন মায়া জয়েন্ট ও চ্যান হাও-চিং জুটি। জয়ের পর জয়েন্ট বলেন, ‘স্টেডিয়ামের পরিবেশ ছিল রূপকথার মতো। এমন সব কিংবদন্তির বিপক্ষে খেলতে পারাটা বিশেষ কিছু।’