অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে ওঠার পর নোভাক জোকোভিচ
অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে ওঠার পর নোভাক জোকোভিচ

সিনারকে হারিয়ে ‘পরাবাস্তব’ জগতে জোকোভিচ

তারপর...। নাহ্, এখনো ইতিহাস হননি নোভাক জোকোভিচ। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের সেমিফাইনালে টানা দুবারের চ্যাম্পিয়ন ইয়ানিক সিনারকে হারিয়ে ইতিহাস গড়ার দোড়গোরায় পৌঁছে গেছেন সার্বিয়ান তারকা। পাঁচ সেটে গড়ানো প্রায় সাড়ে ৫ ঘণ্টার মহাকাব্যিক এক লড়াই ৩-৬, ৬-৩, ৪-৬, ৬-৪, ৬-৪ গেমে জিতে ‘পরাবাস্তব’ এক জগতে আছেন ৩৮ বছর বয়সী জোকোভিচ।

রড লেভার অ্যারেনায় ম্যাচটি যখন শেষ হয়েছে, মেলবোর্নের স্থানীয় সময় রাত ১টা ৩২ মিনিটে। ক্লান্তি আর তৃপ্তির মিশ্র অনুভূতি নিয়ে জোকোভিচ দু’হাঁটু গেড়ে বসে পড়েছেন কোর্টে। দুই হাত তাঁর শূন্যে, ঊর্ধ্বপানে। চোখ দুটি ছিলেন বুজে। হয়তো ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানাচ্ছিলেন নীরবে। সময়ের সঙ্গে লড়াই, শরীরের সঙ্গে লড়াই—সব পেরিয়ে জোকোভিচ যে ফিরে যেতে পেরেছিলেন নিজের সেরা সময়ে। এর জন্য কৃতজ্ঞতা জানাবে হবে না!

কয়েক বছর ধরেই বয়স আর চোট যেন আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে ধরছে জোকোভিচকে। তবু সিনারের বিপক্ষে আজ দুর্দম্য লড়াই প্রমাণ করে দিল, তাঁর ভেতরে এখনও ফুরিয়ে যায়নি লড়াইয়ের রসদ। ২০২৩ সালের ইউএস ওপেনের পর আর কোনো গ্র্যান্ড স্লাম জেতেননি।

সিনারের কাছে টানা পাঁচ ম্যাচ হেরে আজ অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের সেমিফাইনালে নেমেছিলেন জোকোভিচ

এ সময়টায় পুরুষ টেনিসে আধিপত্য গড়ে তুলেছেন আলকারাজ ও সিনার। ২৪টি শিরোপা নিয়ে সর্বোচ্চ গ্র্যান্ড স্লাম জয়ে অস্ট্রেলিয়ার মার্গারেট কোর্টের সঙ্গে রেকর্ড ভাগাভাগি করা জোকোভিচ ২৫ নম্বর শিরোপাটা আর কখনো জিততে পারবেন কি না, এ নিয়ে কৌতূহল অনেকের। ২৪ বছর বয়সী ইতালিয়ান তারকা সিনারের কাছেই তো টানা পাঁচ ম্যাচ হেরে আজকের সেমিফাইনাল খেলতে নেমেছিলেন। এর মধ্যে তিনটিই আবার গ্র্যান্ড স্লামের সেমিফাইনালে—২০২৪ অস্ট্রেলিয়ান ওপেন, ২০২৫ ফ্রেঞ্চ ওপেন ও ২০২৫ উইম্বলডন।

এবার মেলবোর্নেও ম্যাচের শুরুটা ছিল সিনারের দখলে। প্রথম সেটেই জোকোভিচের সার্ভ ব্রেক করে ৩–০তে এগিয়ে যান ২৪ বছর বয়সী ইতালিয়ান। সার্ভ ও গ্রাউন্ডস্ট্রোকে জোকোভিচকে দিশেহারা করে প্রথম সেট জিতে নেন সিনার। দ্বিতীয় সেটে ঘুরে দাঁড়ান জোকোভিচ। এই সেটে তিনটি ব্রেক পয়েন্ট বাঁচান তিনি। জোরালো ক্রস–কোর্ট ফোরহ্যান্ডে সেট পয়েন্ট জিতে সমতায় ফেরেন ম্যাচে।

মাঝে কিছুটা ক্লান্তির ছাপও ছিল জোকোভিচের খেলায়

তৃতীয় সেটের মাোমাঝি অবশ্য বয়সের কারণে ক্লান্তির ছাপ স্পষ্ট হয়ে ওঠে জোকোভিচের। এক সময় তো বুক চেপে ধরে চেয়ারে আধশোয়া হয়ে পড়েন। জোকোভিচের ক্লান্তির সুযোগ কাজে লাগিয়ে সেটটি জিতে নেন চারবারের গ্র্যান্ড স্লামজয়ী সিনার। কিন্তু চতুর্থ সেটে যেন গা–ঝাড়া দিয়ে ওঠেন জোকোভিচ, জিতে নেন ৬–৪ গেমে। আর পঞ্চম সেটে তো সেই চিরচেনা জোকোভিচেরই দেখা মিলল।

গত বছর চারটি গ্র্যান্ড স্লামেরই সেমিফাইনালে উঠেও আর এগোতে পারেননি জোকোভিচ। মেলবোর্নের ফাইনাল তাই তাঁর জন্য শুধু আরেকটি ম্যাচ নয়, গর্বের উপলক্ষ আর ইতিহাসকে আলিঙ্গন করার সুযোগ। এ কারণেই কি না ম্যাচ শেষে জোকোভিচ বললেন, ‘সত্যি বলতে কী এই মুহূর্তে আমি ভাষা হারিয়ে ফেলেছি, পরাবাস্তব মনে হচ্ছে।’