
বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে সরাসরি লাল কার্ড দেখেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগান। নিয়ম অনুযায়ী এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞাও অবধারিত হয়ে গিয়েছিল তাঁর জন্য। ফিফা তখন স্পষ্ট করেই জানিয়েছিল, এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের কোনো সুযোগ নেই।
কিন্তু বেলজিয়ামের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচের ঠিক আগের দিনই ঘটে গেল উলটপুরাণ। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর মধ্যে এক ‘আলোচনা’র পর নিজেদের আগের অবস্থান থেকে ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে দাঁড়াল বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। বালোগানের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করে তাঁকে বেলজিয়াম ম্যাচে খেলার অনুমতি দেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্তই এখন তোলপাড় তুলেছে গোটা ফুটবল–বিশ্বে।
ইনফান্তিনো ও ট্রাম্পের সখ্য অবশ্য নতুন কিছু নয়। তবে সেই বন্ধুত্বের ছোঁয়া যে সরাসরি বিশ্বকাপের মাঠের সিদ্ধান্তেই লেগে যাবে, তা ভাবেননি কেউই।
একটা কথা পরিষ্কার বলে দেওয়া ভালো—এটা আমাদের খেলা, ওদের নয়। ফুটবল নিয়ে কোনো ধারণা না থাকা এই দুই ব্যক্তির ফুটবলীয় সিদ্ধান্তের সঙ্গে যুক্ত থাকার কোনো অধিকার নেই।ইয়ুর্গেন ক্লপ
সাবেক লিভারপুল কোচ ও জার্মানির কোচ হিসেবে নতুন দায়িত্বে ফিরতে যাওয়া ইয়ুর্গেন ক্লপ এ ঘটনায় নিজের ক্ষোভ লুকাননি। ম্যাজেন্টা টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ক্ষুব্ধ ক্লপ বলেছেন, ‘যদি সত্যিই এমনটা হয়ে থাকে, তবে সেটা পাগলামি ছাড়া আর কিছু নয়। একটা কথা পরিষ্কার বলে দেওয়া ভালো—এটা আমাদের খেলা, ওদের নয়। ফুটবল নিয়ে কোনো ধারণা না থাকা এই দুই ব্যক্তির ফুটবলীয় সিদ্ধান্তের সঙ্গে যুক্ত থাকার কোনো অধিকার নেই। ওটা সরাসরি লাল কার্ড ছিল, এটা নিয়ে দুটি মত থাকার সুযোগ নেই। আমরা বালোগানের জন্য দুঃখিত, কারণ ও ইচ্ছে করে ফাউলটি করেনি। কিন্তু নিয়ম তো নিয়মই।’
বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে ফিফার এই ‘ইউটার্ন’ ফুটবলে বিপজ্জনক এক নজির তৈরি করল বলে মনে করছেন বোদ্ধারা। ব্রাজিলের বিপক্ষে ২–১ ব্যবধানে নিজের দলের দুর্দান্ত জয়ের উদ্যাপন একপাশে সরিয়ে রেখে ফিফাকে একহাত নিয়েছেন নরওয়ের কোচ স্টেল সোলবাকেনও। রেফারির সিদ্ধান্ত এভাবে পাল্টে দিয়ে ফিফা নিজেই নিজের বিপদ ডেকে আনল বলে সতর্ক করেছেন তিনি।
এটা খুবই, খুবই, খুবই বাজে একটা সিদ্ধান্ত, যা বিশ্বকাপকে কলঙ্কিত করছে। আমি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি, কারণ ওরা জিতলেও এই অপবাদটা পিছু ছাড়বে না।নরওয়ের কোচ স্টেল সোলবাকেন
হতাশ সোলবাকেন বলেছেন, ‘আমি সত্যিটাই বলছি। ফিফা মস্ত বড় একটা ভুল করেছে। এটা মোটেও ভালো সিদ্ধান্ত নয়। সে লাল কার্ড পেয়েছিল এবং ভিএআর যাচাই করেই তা দেওয়া হয়েছিল। এরপর নিষেধাজ্ঞা থাকাটাই স্বাভাবিক। খারাপ লাগছে এটা ভেবে যে যুক্তরাষ্ট্র যদি বেলজিয়ামকে হারিয়ে দেয়, তবে এই বিতর্কটা আজীবন থেকে যাবে। বালোগান যদি গোল করে, তবে বেলজিয়ামের ফুটবলাররা ক্ষোভে ফেটে পড়বে। পরবর্তী লাল কার্ডের বেলায় কী হবে? পর্দার আড়ালে কি এমন কোনো কমিটি থাকবে যারা শাস্তি মওকুফ করে দেবে? এটা খুবই, খুবই, খুবই বাজে একটা সিদ্ধান্ত, যা বিশ্বকাপকে কলঙ্কিত করছে। আমি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি, কারণ ওরা জিতলেও এই অপবাদটা পিছু ছাড়বে না। ফুটবলের জন্য এটা মোটেও ভালো বিজ্ঞাপন নয়।’
বিতর্ক অবশ্য এখানেই থামছে না। শেষ মুহূর্তে ফিফা বেলজিয়ামকেও এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার অনুমতি দিয়েছে। ফলে সোমবারের বেলজিয়াম–যুক্তরাষ্ট্র ম্যাচের আগে মাঠের চেয়ে মাঠের বাইরের উত্তাপই এখন বাড়িয়ে দিচ্ছে ফুটবলপ্রেমীদের স্নায়ুচাপ। বিশ্বকাপের মাঠে ট্রাম্প ও ইনফান্তিনোর এই ‘পাসিং গেম’ শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে থামে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।