দ্বাদশ শ্রেণির পড়া: ইসলামের ইতিহাস

ইসলামের ইতিহাস ১ম পত্র

সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর 
প্রিয় শিক্ষার্থী, আজ ইসলামের ইতিহাস ১ম পত্র থেকে একটি সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর দেওয়া হলো।

# চীনা সভ্যতা বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন ও নদীকেন্দ্রিক সমৃদ্ধ সভ্যতা। চীনা সভ্যতা মূলত কৃষিভিত্তিক। এখানকার প্রাচীন জনগোষ্ঠী হোয়াংহো নদীর দুই পাশের উর্বর এলাকাজুড়ে চাষ করত জব, গম, ধান ও নানা ধরনের শাকসবজি। তারা ব্যবহার করত পাথরের তৈরি ছুরি, তীরের ফলা, কুঠার ও হাড়ের তৈরি নানা ধরনের অস্ত্রশস্ত্র। কাপড় বোনা ও মাটির পাত্র নির্মাণপদ্ধতিও তাদের আয়ত্তে ছিল। পালন করত বিভিন্ন জাতের পশু, তারা রেশমকীটের চাষাবাদও জানত। এরা সুতা দিয়ে মজবুত ও সুন্দর বস্ত্রাদি বানাত। চীনারা খ্রিষ্টীয় প্রথম শতকে আবিষ্কার করে কাগজ। খ্রিষ্টের জন্মের আগেই চীনের মাটিতে বারুদ ও খ্রিষ্টীয় তৃতীয় শতকে মুদ্রণযন্ত্রের আবিষ্কার মানব সংস্কৃতি ও সভ্যতার বিকাশে প্রভূত অবদান রেখেছে।
প্রশ্ন:
ক. সর্বপ্রাচীন ‘আইন সংহিতা’ কোনটি? ১
খ. ‘আসাবিয়াহ’ বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা করো। ২
গ. সভ্যতা গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে উদ্দীপকে বর্ণিত সভ্যতার সঙ্গে মিশরীয় সভ্যতার কোন দিকের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো। ৩
ঘ. শিল্পক্ষেত্রে উদ্দীপকের সভ্যতার সঙ্গে মিশরীয় সভ্যতার অবদানের তুলনামূলক আলোচনা করো। ৪
উত্তর: ক. সর্বপ্রাচীন ‘আইন সংহিতা’ হচ্ছে হাম্মুরাবি আইন।
উত্তর: খ. ইতিহাসে গোত্রপ্রীতি ও যুদ্ধপ্রীতির জন্য প্রাক্-ইসলামী যুগের আরববাসী ছিল বিখ্যাত। বেদুঈন আরবদের জাতীয়তাবোধ ও স্বদেশ অনুরাগ বলতে গোত্রপ্রীতিই বোঝাত। গোত্রপ্রথাই ছিল বেদুঈন সমাজের মূলভিত্তি। ঐতিহাসিক হিট্টি বলেন, ‘বেদুঈন সমাজের ভিত্তি হচ্ছে গোত্রীয় সংগঠন। আর আরব আসাবিয়াহ (কৌম চেতনা) হচ্ছে তাদের গোত্রের মূলমন্ত্র।’ গোত্রপ্রীতি ও রক্ত সম্পর্কের ওপর ভিত্তি এ কৌম চেতনা পরবর্তীকালে আরব জাতি গঠন এবং ইসলামের বিস্তৃতি সাধনে সহায়ক ছিল।
উত্তর: গ. চীনা সভ্যতা হোয়াংহো নদীর তীরে গড়ে উঠেছে। চীনা সভ্যতা গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে হোয়াংহো নদীর যেমন অবদান রয়েছে, তেমনি মিশরীয় সভ্যতা গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে নীলনদের অবদানও অপরিসীম। মিশরকে বলা হয় নীল নদের দান বা ‘The Gift of the Nile’. প্রাচীন মিশর প্রধানত কৃষিপ্রধান দেশ ছিল। নীল নদের উর্বর অববাহিকায় কৃষি উৎপাদন ছিল সর্বাধিক। এখানকার প্রাচীন জনগোষ্ঠীও চৈনিক সভ্যতার মতো নীলনদের দুই পাশের উর্বর এলাকাজুড়ে চাষ করত বিভিন্ন ফসল। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে নীলনদের উভয় তীর প্লাবিত হতো। প্লাবন শেষে পলিমাটিতে উভয় তীর দৈর্ঘ্যে ৬০০ মাইল প্রস্থে ১০ মাইল পর্যন্ত ভরে যায়। এ রকম সঞ্চিত পলিমাটির গুণে উভয় ভূ-ভাগ অত্যন্ত উর্বর হয়। ফলে প্রচুর শস্য, তুলা প্রভৃতি উৎপন্ন হওয়ায় মিশর একটি সমৃদ্ধশালী দেশে পরিণত হয়। গড়ে ওঠে একটি কৃষিভিত্তিক সমাজ। মিশরীয়রা কৃষি ও ব্যবসা-বাণিজ্যে প্রভূত উন্নতি সাধন করে। বিভিন্ন জাতের ফসল ও ফল-ফলাদির চাষাবাদ করে তারা খ্যাতি অর্জন করে। ব্যবসায়ের ক্ষেত্রেও তারা উল্লেখযোগ্য সমৃদ্ধি আনে। কৃষির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে মিশরে শিল্প, শিক্ষা ও সংস্কৃতির বিকাশ লাভ করে।
উত্তর: ঘ. বিশ্ব সভ্যতায় মিশরীয়দের অবদান প্রায় জীবনের সব ক্ষেত্রে পরিব্যাপ্ত। উদ্দীপকে চীনা সভ্যতার চেয়েও শিল্প ক্ষেত্রে মিশরীয় সভ্যতার অবদান অপরিসীম। কেননা মিশরীয়রা স্বর্ণ, রৌপ্য ও ব্রোঞ্জের ব্যবহার জানত। এগুলোর সাহায্যে তারা নানা প্রকার অলংকার, আসবাব নির্মাণ করত। অস্ত্রশস্ত্র তৈরিতেও তারা ছিল অত্যন্ত পারদর্শী। সুতি, পশমি এমনকি নানা প্রকার কারুকার্য খচিত বস্ত্র বয়নেও তাদের দক্ষতা ছিল। ধাতব পাত্র ও দ্রব্যাদি নির্মাণে, বস্ত্র বয়নে, মৃৎপাত্র নির্মাণে, হাতির দাঁতের তৈজসপত্র, বাদ্যযন্ত্র, খেলনা ইত্যাদি তৈরিতে পারদর্শী ছিল। তারা ‘প্যাপিরাস’ নামক এক প্রকার ঘাস থেকে কাগজ প্রস্তুত করত এবং শাকসবজির রস দিয়ে কালি প্রস্তুত করত।
শিল্প ক্ষেত্রে এসব অবদান ছাড়াও সরকারপদ্ধতি, আইন, স্থাপত্য, শিল্পকলা, ভাস্কর্য, চিত্রকলা, কারুশিল্প, সাহিত্য, ধর্ম, দর্শন, চিকিৎসাশাস্ত্র, লিখনপদ্ধতি, বৈজ্ঞানিক বর্ষ পঞ্জিকা ইত্যাদি বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশ্ব সভ্যতায় মিশরীয়দের অবদান অনস্বীকার্য।
তাই ঐতিহাসিক রালফ এবং বানর্স বলেন, ‘বর্তমান যুগের গুরুত্ব বিচারে প্রাচীনকালের খুব কম সভ্যতাই মিশরীয়দের অতিক্রম করতে পেরেছে।’