ক্যাম্পাসের প্রিয় মুখ

গণিতের সূত্র নিয়ে...

সাজ্জাদ আলম
সাজ্জাদ আলম

ছিল নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা। পড়াশোনার ক্ষেত্রেও যেমন ছিল, তেমনি ছিল আর্থিক দিক দিয়েও। সব প্রতিবন্ধকতা পেছনে ফেলে সাজ্জাদ আলম এগিয়ে চলেছেন তাঁর স্বপ্নপূরণের পথে। কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার ভাটিয়া গ্রামের সাজ্জাদ নানা জটিলতায় সময়মতো উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষাও দিতে পারেননি। অবশেষে একসময় উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করলেন। অবতীর্ণ হলেন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়ার কঠিন পরীক্ষায়। এরই মধ্যে পরিবারের হাল ধরতে শুরু করেন চাকরির চেষ্টা। ‘তখনই প্রথম টের পাই প্রতিটি পরীক্ষাতেই গণিতের ছোট ছোট কিছু সমস্যার সমাধান থাকে, যা মূলত নবম ও দশম শ্রেণীর বই থেকে দেওয়া।’ বললেন সাজ্জাদ। আরও বলেন, আমি খুঁজে দেখি অনুপাত, সমানুপাতবিষয়ক সমস্যা সমাধানের জন্য মাত্র তিনটি সূত্র দেওয়া আছে, যা বেশ পুরোনো।’ কীভাবে এ ধরনের সমস্যাগুলো আরও সহজে সমাধান করা যায়, সে চিন্তা থেকে একটি, দুটি নয় ১৪টি সূত্র তৈরি করলেন সাজ্জাদ! বললেন, অনুপাত, সমানুপাত-সংশ্লিষ্ট সমস্যাগুলো সমাধানে যে তিনটি সূত্র ব্যবহূত হয়, সেগুলো এক চলকবিশিষ্ট গাণিতিক খোলা বাক্যের সাহায্যে করতে হয়, যা কম্পিউটারের হিসাব কষার প্রোগ্রামে ব্যবহার করা যায় না। এমন চিন্তা থেকেই ১৪টি সূত্র তৈরি করেন তিনি। মাধ্যমিক পরীক্ষায় গণিতে মোটামুটি ভালো ফলাফল করে উচ্চমাধ্যমিকে এ প্লাস পেয়েছিলেন সাজ্জাদ।সূত্রগুলো তৈরি করে করিমগঞ্জ থানার যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আমান উল্লাহর সাহায্যে স্থানীয় একটি গণিত আয়োজনে সবার সামনে উপস্থাপন করেন তিনি। পরবর্তী সময়ে সূত্রগুলোর আরও বিস্তারিত পরীক্ষা ও ব্যবহারের উপযোগী কি না, সেটি পরীক্ষা করতে সূত্রগুলো জমা দেন বাংলাদেশ গণিত সমিতিতে। পরীক্ষা শেষে গণিত সমিতির নিয়মিত প্রকাশনা গণিত পরিক্রমার ২০১১ সালের একবিংশতম খণ্ডে ৭৭ পৃষ্ঠায় ‘গণিত পঠন: সমস্যা ও সমাধান’ শিরোনামে প্রকাশিত হয় সাজ্জাদ আলমের সূত্রগুলো। দুই ভাই এক বোনের মধ্যে বড় সাজ্জাদের বাবা আলী আক্কাছ বাংলাদেশ রেলওয়েতে চাকরি করেন। মা জোসনা বেগম গৃহিণী। সাজ্জাদ এখন পড়ছেন একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে। তাঁর স্বপ্ন গণিতের এ ধরনের সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে আরও কাজ করবেন। উচ্চশিক্ষার্থে দেশের বাইরেও যেতে চান তিনি। সাজ্জাদ বলেন, ‘নিজের জন্য, দেশের জন্য কিছু করতে চাই।’