জীববিজ্ঞান ২য় পত্র
মোহাম্মদ আক্তার উজ জামান
অধ্যায়-২
# সাত্তার স্যার ঘাসফড়িংয়ের স্তিমিত ও উজ্জ্বল আলোয় প্রতিবিষের রূপ সম্পর্কে জানতে চেয়ে অর্পা ও স্বপ্নাকে প্রশ্ন করলেন। অর্পা বলল, ঘাসফড়িং উজ্জ্বল আলোয় স্পষ্ট এবং স্তিমিত আলোয় অস্পষ্ট প্রতিবিম্ব সৃষ্টি করে। অন্যদিকে, স্বপ্না বলল, উজ্জ্বল আলোয় অস্পষ্ট এবং স্তিমিত আলোয় স্পষ্ট প্রতিবিম্ব সৃষ্টি করে।
প্রশ্ন:
ক. ওমাটিডিয়াম কী?
খ. ওসেলাস বলতে কী বোঝায়?
গ. উদ্দীপকে বর্ণিত আলোর ভিন্নতায় দর্শনের তারতম্য ব্যাখ্যা করো।
ঘ. অর্পা ও স্বপ্নার মধ্যে কার উত্তরের সঙ্গে তুমি একমত পোষণ করো? উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর: ক. ঘাসফড়িংয়ের পুঞ্জাক্ষির প্রতিটি ষড়্ভুজাকার দর্শন একককে ওমাটিডিয়াম বলে।
উত্তর: খ. ঘাসফড়িংয়ের দুটি পুঞ্জাক্ষির মাঝখানে তিনটি সরলাক্ষি বা ওসেলাস থাকে। প্রতিটি ওসেলাস স্বচ্ছ কিউটিকল নির্মিত লেন্স ও একগুচ্ছ আলোক সংবেদী কোষ নিয়ে গঠিত। প্রতিটি কোষ রঞ্জক পদার্থসমৃদ্ধ। ওসেলাসের তলদেশে মস্তিষ্কে গমনকারী স্নায়ুতন্ত্র অবস্থিত।
উত্তর: গ. ঘাসফড়িংয়ের স্তিমিত ও উজ্জ্বল আলোয় দর্শনের তারতম্য পরিলক্ষিত হয়। নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলো:
১. স্তিমিত আলোয় তির্যক ও উলম্ব দুই ধরনের রশ্মি থেকেই প্রতিবিম্ব সৃষ্টি হয়। পক্ষান্তরে, উজ্জ্বল আলোয় উলম্ব রশ্মি থেকে প্রতিবিম্ব সৃষ্টি হয়।
২. স্তিমিত আলোয় রেটিনাল ও আইরিশ আবরণী সংকুচিত হয়। আর উজ্জ্বল আলোয় রেটিনাল ও আইরিশ আবরণী প্রসারিত হয়।
৩. স্তিমিত আলোয় বস্তুর সম্পূর্ণ অংশের অস্পষ্ট ও সামগ্রিক প্রতিবিম্ব গঠিত হয়। অন্যদিকে, উজ্জ্বল আলোয় বস্তুর ভিন্ন ভিন্ন অংশের পৃথক ও সুস্পষ্ট প্রতিবিম্ব সৃষ্টি হয়।
উত্তর: ঘ. অর্পা উত্তরে বলেছিল, ঘাসফড়িং উজ্জ্বল আলোয় স্পষ্ট এবং স্তিমিত আলোয় অস্পষ্ট প্রতিবিম্ব সৃষ্টি করে। অর্পার উত্তরের সঙ্গে আমি সম্পূর্ণ একমত। নিচে এ সম্পর্কে আমার যুক্তি তুলে ধরা হলো:
তীব্র বা উজ্জ্বল আলোয় দর্শন-প্রক্রিয়া:
উজ্জ্বল আলোয় প্রতিটি ওমাটিডিয়াম স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে। উজ্জ্বল আলোয় রেটিনাল সিথের কোষের রঞ্জক পদার্থ ক্রিস্টালাইন কোণের নিচের দিকে এমনভাবে ছড়িয়ে যায়, যাতে তার চারদিকে একটি কালো পর্দার সৃষ্টি হয়। ফলে একটি ওমাটিডিয়াম কেবল নিজস্ব কর্নিয়া থেকে আসা লম্বভাবে প্রতিফলিত রশ্মিই গ্রহণ করতে পারে। তির্যকভাবে আসা পার্শ্ববর্তী ওমাটিডিয়ামের আলোকরশ্মি আইরিশের রঞ্জক পদার্থে শোষিত হয়।
এই ক্রিয়ার ফলে একটি ওমাটিডিয়াম কোনো বস্তুর অংশবিশেষের প্রতিবিম্ব ধারণ করে এবং বস্তুর ভিন্ন ভিন্ন অংশের পৃথক ও সুস্পষ্ট প্রতিবিম্ব সৃষ্টি হয়।
মৃদু বা স্তিমিত আলোয় দর্শন-প্রক্রিয়া:
মৃদ্যু আলোয় রেটিনাল সিথের রঞ্জক কণিকা সংকুচিত হয়ে কর্নিয়ার দিকে ঘনীভূত হয় এবং ক্রিস্টালাইন কোণের অধিকাংশ অনাবৃত হয়ে পড়ে। উলম্ব আলোকরশ্মি একটি ওমাটিডিয়ামের কর্নিয়ার ভেতর প্রবেশ করে তার র্যাবডোমে পৌঁছালেও তির্যক আলোক রশ্মি একটি ওমাটিডিয়ামের ক্রিস্টালাইন কোণের অনাবৃত অংশের মধ্য দিয়ে পাশের ওমাটিডিয়ামের র্যাবডোমে পৌঁছায়।
এই ক্রিয়ার ফলে প্রতিটি র্যাবডোম তার নিজস্ব কর্নিয়া থেকে আসা আলোকরশ্মি ছাড়াও পার্শ্ববর্তী ওমাটিডিয়ামের কর্নিয়া থেকেও আলোকরশ্মি পেয়ে থাকে। পুঞ্জাক্ষির ওপর কোনো বস্তুর বিভিন্ন অংশের প্রতিবিম্বগুলো একে অন্যের ওপর পড়ায় সম্পূর্ণ বস্তুটির অস্পষ্ট প্রতিবিম্ব সৃষ্টি হয়।
সুতরাং, উপরিউক্তি আলোচনা থেকে অর্পার উত্তরই সঠিক বলে প্রতীয়মান হয়।
প্রভাষক, রূপনগর মডেল স্কুল ও কলেজ, ঢাকা