রাজশাহী মেডিকেল কলেজ

বর্ষপূর্তির উৎসবে

তিন বছর পরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, তাই আনন্দের উচ্ছ্বাসও ছিল বাঁধভাঙা
তিন বছর পরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, তাই আনন্দের উচ্ছ্বাসও ছিল বাঁধভাঙা

তিন বছর পরে একটা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ মিলনায়তন দর্শকে ঠাসা। সন্ধ্যা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত একটানা নাচে-গানে-নাটকে হাসি আর করতালিতে মুখর ছিল মিলনায়তন। ২৫ জানুয়ারি সকালে কেক কেটে শুরু হয়েছিল অনুষ্ঠানের। মেডিকেল কলেজের এমবিবিএস ৫৪তম এবং বিডিএস ২৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা তাঁদের প্রথম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলেন।
মেডিকেল কলেজ মানেই ক্লাস-টিউটরিয়াল-পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থীদের যত ব্যস্ততা। এর আগে কলেজের এমবিবিএস ৫০তম ব্যাচ একটা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করেছিল তাদের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে। তারপর আর হয়নি। কেউ উদ্যোগ নেননি অথবা নিলেও পারেননি। এবার চরম উদ্যমী কিছু শিক্ষার্থীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় অনুষ্ঠানটি করা সম্ভব হয়েছে।
সকালে এ উপলক্ষে মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীরা শোভাযাত্রা বের করেন। কেক কেটে বর্ষপূর্তির উদ্বোধন করেন। সন্ধ্যায় কলেজের কাইছার রহমান চৌধুরী মিলনায়তন ঘিরে ছিল আলোকসজ্জা। নীল আলো ছড়ানো সন্ধ্যা বেশ স্বপ্নীল হয়ে ওঠে। মিলনায়তনের ভেতর ‘স্ফূরণ’ শিরোনামে এক আলোচনাসভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। জাতীয় সংগীত দিয়ে অনুষ্ঠানের শুরু হয়। অনুষ্ঠানে যেমন রবীন্দ্রসংগীতের আয়োজন ছিল, তেমনি রঙ্গরসে ঠাসা পুরো অনুষ্ঠান দর্শকদের হাসির খোরাক জুগিয়েছে। অনুষ্ঠান উপস্থাপনা থেকে শুরু করে সব আয়োজনই ছিল ব্যতিক্রমী। ইদানীং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সব ক্ষেত্রেই আধিপত্য বিস্তারের বিষয়টি এসে যায়। অনুষ্ঠানের উপস্থাপনায়ও সেটা দেখানো হয়েছে। একজন উপস্থাপককে প্রভাব খাটিয়ে কীভাবে বিদায় করে মাইক্রোফোনের দখল নেওয়া হয়, আমাদের চিকিৎসাব্যবস্থার ওপর নাটিকা মেডিকেলীয় ভূত-ভবিষ্যৎ ও হার্ট আইটেম-এ দেখানো হয়েছে মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার বাস্তবতা ও পেশাগত জীবন। পরিবেশিত হয়েছে বর্তমান বাংলা সিনেমা নিয়ে ক্ষুদ্র দৈর্ঘ্য বাংলা সিনেমা আঁতেল আমার জান। কলেজের শিক্ষার্থী নাহিদ হাসানের রচনা ও পরিচালনায় এতে ফুটে উঠেছে আমাদের বাংলা সিনেমার কী বেহাল অবস্থা! দর্শকেরা হাসিতে ফেটে পড়ে মানব কপি মেশিন ও রক্ত গরম এনার্জি ড্রিংকস নিয়ে ব্যঙ্গ বিজ্ঞাপনচিত্র দেখে।
এ ছাড়া ছিল আকর্ষণীয় ফ্যাশন শো ও যুগল নৃত্য। ফ্যাশন শো করা হয়েছে আমাদের একুশে ফেব্রুয়ারি গানের সঙ্গে, জাতীয় পতাকা হাতে বিজয়ের গানের সঙ্গে, ছাতা মাথায় বাংলার বর্ষাকে নিয়ে, আবহমান বাংলার বসন্ত ও পয়লা বৈশাখ নিয়ে।
অনুষ্ঠানে অনবদ্য পরিবেশনা ছিল যুগল নৃত্য। এতে অংশ নেন আশানূর ইসলাম সিনথী, জারিন তাসনিম শ্রাবণী, আবদুল্লাহ মামুন, পার্থ, বিজয়, প্রজ্ঞা, স্বর্ণা, লিমা, শোভন; ফ্যাশন শোতে অপু, ফারাহ, মিমি, রিয়েল, গিলবার্ট, আহ্নি, আসিফ, আজমী, ফারহানা রাব্বি প্রমুখ; নাট্যাভিনয়ে অংশ নেন সালেহ শুভ্র, জেসিকা জেসমিন, আসিফ ইকবাল, ফজলে রাব্বি, রিমপি মারুফ আহাদ প্রমুখ। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে ছিল ব্যান্ডদলের পরিবেশনা।
শুরুতে আলোচনা অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন কলেজের সহযোগী অধ্যাপক খলিলুর রহমান, ওবায়দুল্লাহ ইবনে আলী ও সহকারী অধ্যাপক আতাউর রহমান। আর শেষের দিকে এসে যোগ দেন মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ সৈয়দ গোলাম কিবরিয়া ও উপাধ্যক্ষ দায়েম উদ্দিন।