সম্প্রতি হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীদের লক্ষ্য করে বড় ধরনের সাইবার হামলার চেষ্টা চালিয়েছে স্পাইওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এনএসও গ্রুপ। হোয়াটসঅ্যাপ জানিয়েছে, হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীদের লক্ষ্য করে ‘স্পিয়ার ফিশিং’ নামের সাইবার হামলা চালানোর প্রমাণ পাওয়া গেছে। হামলার সময় মিথ্যা তথ্য দিয়ে ব্যবহারকারীদের ক্ষতিকর লিংকে প্রবেশ করাতে প্ররোচিত করেছিল সাইবার অপরাধীরা। লিংকে ক্লিক করলেই ব্যবহারকারীরা ক্ষতিকর ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে সাইবার হামলার শিকার হতেন।
এক বিবৃতিতে হোয়াটসঅ্যাপ জানিয়েছে, ব্যবহারকারীদের অভিযোগের ভিত্তিতে পরিচালিত তদন্তে ‘স্পিয়ার ফিশিং’ হামলার সঙ্গে এনএসও গ্রুপের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেছে। হামলার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে কিছু পরীক্ষামূলক অ্যাকাউন্ট ও গ্রুপ তৈরি করা হয়েছিল। তদন্তের পর সেগুলো সরিয়ে ফেলা হয়েছে। সাম্প্রতিক এই হামলার কৌশলের সঙ্গে ২০২৪ সালে জর্ডানে শনাক্ত হওয়া একটি ফিশিং হামলার মিল রয়েছে। সে সময়ও ক্ষতিকর লিংকে প্রবেশ করিয়ে ব্যবহারকারীদের স্মার্টফোনে এনএসও গ্রুপের তৈরি ‘পেগাসাস’ স্পাইওয়্যার প্রবেশ করানো হয়েছিল।
হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীদের লক্ষ্য করে ফিশিং হামলার অভিযোগের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি এনএসও গ্রুপ। হোয়াটসঅ্যাপ ও এনএসও গ্রুপের বিরোধের ইতিহাস বেশ পুরোনো। ২০১৯ সালে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারী একটি সমন্বিত হ্যাকিং অভিযানের শিকার হন। পরে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবহারকারীদের পক্ষে এনএসও গ্রুপের বিরুদ্ধে মামলা করে হোয়াটসঅ্যাপ। দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের এক আদালত হোয়াটসঅ্যাপ ও এর ব্যবহারকারীদের লক্ষ্য করে সাইবার হামলা বা নজরদারি কার্যক্রম পরিচালনা থেকে স্থায়ীভাবে বিরত থাকতে এনএসও গ্রুপকে নির্দেশ দেন। হোয়াটসঅ্যাপের দাবি, সম্প্রতি শনাক্ত হওয়া ফিশিং হামলা আদালতের সেই নির্দেশনার সরাসরি লঙ্ঘন। ফলে এনএসও গ্রুপের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ করেছে হোয়াটসঅ্যাপ কর্তৃপক্ষ।
প্রসঙ্গত, বিভিন্ন দেশের সরকারি সংস্থা বা তাদের হয়ে কাজ করা ব্যক্তিরা এনএসও গ্রুপের তৈরি পেগাসাস স্পাইওয়্যার ব্যবহার করে থাকেন। পেগাসাস স্পাইওয়্যারের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী, ভিন্নমতাবলম্বী ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের স্মার্টফোনে নিয়মিত নজরদারি কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকেন তাঁরা।
সূত্র: টেক ক্র্যাঞ্চ