সারা বিশ্বে কম্পিউটার বিক্রির পরিমাণ কমেছে
সারা বিশ্বে কম্পিউটার বিক্রির পরিমাণ কমেছে

বিশ্বজুড়ে দুই বছর পর কমল কম্পিউটার বিক্রির পরিমাণ, কেন

টানা দুই বছর বাড়লেও এ বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে বিশ্বজুড়ে কম্পিউটার সরবরাহের (শিপমেন্ট) পরিমাণ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪ দশমিক ৯ শতাংশ কমে ৬ কোটি ৮২ লাখ ইউনিটে নেমে এসেছে। এর ফলে টানা নয় প্রান্তিক পর কম্পিউটার বিক্রির পরিমাণ কম হয়েছে বলে জানিয়েছে বাজারবিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ডেটা করপোরেশন (আইডিসি)। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, বিশ্বজুড়ে মেমোরি চিপ বা র‍্যাম সংকটের কারণেই কম্পিউটারের বিক্রি কম হয়েছে। তবে বিক্রি কমলেও কম্পিউটার নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর আয়ে কোনো প্রভাব পড়েনি। বরং পণ্যের দাম বাড়ায় তাদের আয় বেড়েছে। এই সংকট দ্রুত কাটবে না। ফলে আগামী বছরও কম্পিউটারের দাম বাড়তে পারে।

আইডিসির তথ্যমতে, র‍্যামের সম্ভাব্য ঘাটতির কথা বিবেচনা করে গত কয়েক প্রান্তিকে কম্পিউটার নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো আগেই যন্ত্রাংশ মজুত করেছিল। সেই মজুত কাজে লাগিয়ে এত দিন উৎপাদন অব্যাহত রাখা সম্ভব হয়েছে। তবে মজুত কমে আসায় এখন সরবরাহ সংকটের প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠছে। সংকট শুধু র‍্যামে সীমাবদ্ধ নেই। স্টোরেজ সংশ্লিষ্ট যন্ত্রাংশের ঘাটতি এবং বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনাও সরবরাহব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে।

আইডিসির গবেষণা পরিচালক জিতেশ উব্রানির ধারণা, ২০২৮ সালের আগে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতির সম্ভাবনা নেই। একই সঙ্গে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বেড়ে যাওয়ায় নির্মাতারা আগের মতো অতিরিক্ত যন্ত্রাংশ মজুত করতে পারছেন না। ফলে চলতি বছরে কম্পিউটার বিক্রির পরিমাণ আরও কমতে পারে।

২ দশমিক ১ শতাংশ বিক্রি কমলেও বর্তমানে বিশ্বের কম্পিউটার বাজারের ২৪ দশমিক ৪ শতাংশ নিজেদের দখলে নিয়ে শীর্ষে রয়েছে লেনোভো। অন্যদিকে এইচপি ও ডেলের বিক্রি কমেছে যথাক্রমে ৯ ও ৫ শতাংশ। তবে এ সময় প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে অ্যাপল। নতুন ম্যাকবুক নিও বাজারে আসার পর প্রতিষ্ঠানটির বিক্রি বেড়েছে ১০ দশমিক ১ শতাংশ। ফলে বাজারে তাদের অংশীদারত্ব ৮ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ৯ দশমিক ৯ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া