আধেয় (কনটেন্ট) নির্মাতাদের আয়ের ক্ষেত্রে তাঁদের নিজ দেশের দর্শকদের কাছ থেকে পাওয়া মতামতকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে সম্প্রতি জানিয়েছিলেন খুদে ব্লগ লেখার সাইট এক্সের (সাবেক টুইটার) পণ্য বিভাগের প্রধান নিকিতা বিয়ার। তাঁর মতে, এ উদ্যোগের লক্ষ্য হলো, স্থানীয় ও আঞ্চলিকভাবে প্রাসঙ্গিক কনটেন্টগুলোকে উৎসাহিত করা। কিন্তু নিকিতা বিয়ারের ঘোষণার পরপরই এক্সের কনটেন্ট নির্মাতাদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অনেকেই জানিয়েছেন, তাঁদের দর্শকের একটি বড় অংশ নিজ দেশের বাইরে অবস্থান করেন। ফলে নতুন নীতিমালা কার্যকর হলে তাঁদের আয়ের ওপর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। অবশেষে ব্যবহারকারীদের তীব্র সমালোচনা ও উদ্বেগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রস্তাবিত নতুন রাজস্ব ভাগাভাগি নীতিমালা স্থগিত করেছেন এক্সের মালিক ইলন মাস্ক।
আধেয় নির্মাতাদের একাংশের মতে, এ ধরনের নীতিমালা এক্সের বৈশ্বিক চরিত্রের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। একজন নির্মাতা জানিয়েছেন, তিনি ফ্রান্সে অবস্থান করলেও তাঁর প্রায় ৪৩ শতাংশ দর্শক যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেন। বৃহত্তর দর্শকের কাছে পৌঁছাতে তিনি ইংরেজিতে কনটেন্ট তৈরি করেন। নতুন নীতিমালা কার্যকর হলে তাঁর মতো নির্মাতারা অযৌক্তিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। আরেকজন জানান, রাজনীতির বাইরেও বৈশ্বিক পরিসরে নানা ধরনের কনটেন্ট রয়েছে। নতুন এই নীতিমালা কার্যকর হলে প্ল্যাটফর্মটির স্বাভাবিক বৈশ্বিক বৈশিষ্ট্য ক্ষুণ্ন হবে।
সমালোচনার পরিপ্রেক্ষিতে ইলন মাস্ক এক প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছেন, আপাতত নীতিমালাটি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া স্থগিত করা হয়েছে। ব্যবহারকারীদের দেওয়া মতামত পর্যালোচনা করে নীতিমালার বিভিন্ন বিষয় পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
প্রস্তাবিত নীতিমালার পক্ষে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে নিকিতা বিয়ার জানিয়েছিলেন, এই পরিবর্তনের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা নিজেদের দেশ, প্রতিবেশী অঞ্চল এবং ভাষাভিত্তিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হতে পারবেন। এর ফলে বিভিন্ন অঞ্চলে প্রাসঙ্গিক কনটেন্টের পরিমাণ বাড়বে এবং প্ল্যাটফর্মটি আরও বৈচিত্র্যময় হয়ে উঠবে।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া