চাঁদ
চাঁদ

চাঁদে থাকা সোলার প্যানেলের মাধ্যমে পৃথিবীতে আসবে বিদ্যুৎ, কীভাবে

মনে করুন তো, ভবিষ্যতের পৃথিবী কি এমন হতে পারে, যেখানে বিদ্যুতের কোনো সংকট নেই। জাপানের শীর্ষস্থানীয় প্রকৌশল সংস্থা শিমিজু করপোরেশন ঠিক এমন একটি পরিকল্পনাই সামনে এনেছে। তাদের একটি প্রকল্পের নাম লুনার সোলার রিং বা লুনা রিং। এটি চাঁদের বিষুবরেখা বরাবর সোলার প্যানেলের একটি বিশাল বলয় তৈরি করবে, যা সূর্য থেকে নিরবচ্ছিন্ন শক্তি সংগ্রহ করে পৃথিবীতে পাঠাবে।

শিমিজু করপোরেশনের মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী, চাঁদের বিষুবরেখাজুড়ে প্রায় ১১ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ এবং কয়েক শ কিলোমিটার প্রস্থের একটি সোলার প্যানেল বেল্ট স্থাপন করা হবে। ২০১১ সালের ফুকুশিমা দুর্ঘটনার পর জাপান যখন বিকল্প ও পরিবেশবান্ধব শক্তির উৎস খুঁজছে, তখনই এই যুগান্তকারী ধারণাটি সামনে আসে।

চাঁদের অনেক সুবিধা রয়েছে। চাঁদে কোনো বায়ুমণ্ডল বা মেঘ নেই, ফলে সেখানে সূর্যের আলো সরাসরি এবং সব সময় পাওয়া যায়। আবহাওয়া পরিবর্তনের কোনো ভয় নেই। আবহাওয়ার প্রভাব পৃথিবীর সোলার ফার্মগুলোর জন্য একটি বড় সমস্যা। চাঁদের পৃষ্ঠে স্থাপিত সোলার সেলগুলো সূর্যালোক গ্রহণ করে তা বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করবে। এরপর এই শক্তি দুটি উপায়ে পৃথিবীতে পাঠানো হবে। লেজার বিম ও মাইক্রোওয়েভ পদ্ধতি কাজ করবে।

পৃথিবীতে স্থাপিত রেকটেনা নামক বিশেষ অ্যানটেনা বা রিসিভার সেই শক্তি গ্রহণ করবে এবং পুনরায় বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর করে সরবরাহ করবে। চাঁদের অন্তত একটি পাশ সব সময় আলোকিত থাকে বলে এই পদ্ধতিতে দিনে ২৩ ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব, যা প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ১৩ হাজার টেরাওয়াট পর্যন্ত হতে পারে।

যদিও এটি অত্যন্ত রোমাঞ্চকর একটি পরিকল্পনা, বর্তমানে এটি কেবল তাত্ত্বিক পর্যায়ে রয়েছে। ২০৩৫ সালের দিকে এর প্রাথমিক কাজ শুরু করার সম্ভাবনা থাকলেও বেশ কিছু বড় চ্যালেঞ্জ বিজ্ঞানীদের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। চাঁদের মাটি থেকে উপাদান সংগ্রহ এবং সেখানে অবকাঠামো নির্মাণের জন্য অত্যন্ত উন্নত রোবোটিক প্রযুক্তির প্রয়োজন। প্রায় ৩ লাখ ৮৪ হাজার কিলোমিটার দূর থেকে নিরাপদে শক্তি পাঠানো এবং মহাকাশ পরিবহনের বিশাল খরচ একটি বড় বাধা।

নাসা বা জেক্সার মতো সংস্থাগুলোর সরকারি সমর্থন এবং আন্তর্জাতিক চুক্তি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। শিমিজু করপোরেশনের স্পেস কনসাল্টিং গ্রুপের প্রেসিডেন্ট তেতসুজি ইয়োশিদা বলেন, যদি এই শক্তি পৃথিবীতে পৌঁছানো সম্ভব হয়, তবে কয়লা, তেল বা বায়োমাস পোড়ানোর আর কোনো প্রয়োজনই থাকবে না। আমরা অভাবের পৃথিবী থেকে প্রাচুর্যের পৃথিবীতে পদার্পণ করব।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া