
যানজট আর চাকরির ব্যস্ততার কারণে ফেসবুকভিত্তিক পেজ বা ওয়েবসাইট থেকে ঘরে বসে নিয়মিত পণ্য কেনেন অনেকে। ক্রেতাদের এ আগ্রহ কাজ লাগিয়ে ভুয়া ডেলিভারি এজেন্ট পরিচয়ে ব্যবহারকারীদের আনস্ট্রাকচারড সাপ্লিমেন্টারি সার্ভিস ডেটা (ইউএসএসডি) কোড ডায়াল করতে প্রলুব্ধ করছে। সাইবার অপরাধীদের নির্দেশ মেনে চললেই ক্রেতাদের স্মার্টফোনে গোপনে চালু হয়ে যায় কল ফরোয়ার্ডিং সুবিধা। ফলে ক্রেতাদের স্মার্টফোনে আসা ব্যাংকের ওটিপিসহ সব ফোনকল চলে যায় সাইবার অপরাধীদের কাছে।
নতুন ধরনের এ প্রতারণার কৌশলও বেশ অভিনব। ধরুন, আপনি একটি পার্সেল বা খাবারের ডেলিভারির অপেক্ষায় আছেন। ঠিক তখনই একটি ফোনকল এল। ফোনের ওপাশে থাকা ব্যক্তি নিজেকে ডেলিভারি এজেন্ট পরিচয় দিয়ে জানালেন, তিনি আপনার দেওয়া লোকেশনে আছেন, কিন্তু সিস্টেমে আপনার নম্বর যাচাই করতে পারছেন না। সমস্যা সমাধানে তিনি আপনাকে ফোনে একটি ছোট কোড ডায়াল করতে বলেন। কোডটি ডায়াল করলেই ফোনের পর্দায় একটি ক্ষণস্থায়ী নোটিফিকেশন ভেসে ওঠে, যা এত দ্রুত মুছে যায় যে কোনো লেখাই পড়া যায় না। তবে এরপর থেকে ফোনে সব ধরনের কল আসা বন্ধ হয়ে যায়। অর্থাৎ গোপনে আপনার ফোনে আসা প্রতিটি কল অন্য একটি নম্বরে ফরোয়ার্ড হয়ে যাওয়ায় ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট পরিবর্তনের ভেরিফিকেশন কল, ওটিপি কনফার্মেশন, অ্যাকাউন্ট রিকভারি কলসহ সব বার্তা চলে যায় সাইবার অপরাধীদের কাছে।
আনস্ট্রাকচারড সাপ্লিমেন্টারি সার্ভিস ডেটা বা ইউএসএসডি হলো একটি সেশনভিত্তিক টেক্সট মেসেজিং পরিষেবা, যেখানে এসএমএসের মতো কোনো সংরক্ষণ ব্যবস্থা নেই। ইউএসএসডি সরাসরি মোবাইল নেটওয়ার্কে কাজ করে এবং ফোনে কোনো অ্যাপ ইনস্টল করার প্রয়োজন হয় না। ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ ধরনের প্রতারণার ঘটনা বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি কোনো ম্যালওয়্যারভিত্তিক আক্রমণ নয়; বরং বিশ্বাসযোগ্য সামাজিক কৌশলের ওপর নির্ভরশীল প্রতারণা। ডেলিভারি এজেন্টের কলকে মানুষ স্বাভাবিক বলেই ধরে নেয়—এই বিশ্বাসই অপরাধীদের সবচেয়ে বড় অস্ত্র।
ইউএসএসডিভিত্তিক প্রতারণা থেকে নিরাপদে থাকার জন্য সব সময় ফোন করা ব্যক্তির পরিচয় যাচাই করার পাশাপাশি তার প্রতিষ্ঠানের নম্বরে যোগাযোগ করতে হবে। এ ছাড়া নিয়মিত ফোনের কল ফরোয়ার্ডিং স্ট্যাটাস পরীক্ষা, ব্যাংকিং অ্যাপে শক্তিশালী সুরক্ষা ব্যবস্থা চালু করাসহ অপরিচিত ব্যক্তিদের অনুরোধে কোড ডায়াল করা থেকে বিরত থাকতে হবে। এ ছাড়া অন্যদের পাঠানো সন্দেহজনক লিংকে ক্লিক না করার পাশাপাশি ফোনে আসা ওটিপি, পিন বা পাসওয়ার্ডের তথ্য গোপন রাখতে হবে।