ইউটিউব খুললেই যে কেউ ঘণ্টার পর ঘণ্টা ভিডিও দেখতে চান, এমন নয়। অনেক সময় নির্দিষ্ট কোনো ভিডিও, বিষয় বা পছন্দের নির্মাতার ভিডিও দেখার জন্যই ইউটিউবে ঢোকা হয়। কিন্তু একটি ভিডিও দেখার পর আরেকটি, এরপর আরেকটি—এভাবে কখন যে অনেকটা সময় পেরিয়ে যায়, তা টের পাওয়া যায় না। বিশেষ করে শর্টসের ক্ষেত্রে এই প্রবণতা আরও বেশি দেখা যায়।
তবে ইউটিউবের সেটিংসে থাকা ‘টাইম ম্যানেজমেন্ট’ অপশনটির বেশ কিছু সুবিধা ব্যবহার করে বিষয়টি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনা যায়। এই সুবিধার মাধ্যমে ইউটিউবে কত সময় কেটেছে, তা দেখা যায়। পাশাপাশি শর্টস দেখার জন্য দৈনিক সময়সীমা নির্ধারণ করা এবং নির্দিষ্ট সময় পরপর বিরতি নেওয়া বা ঘুমানোর সময় হলে সতর্কবার্তা পাওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে। বিস্তারিত দেখে নেওয়া যাক।
ইউটিউবের ‘টাইম ম্যানেজমেন্ট’ বিভাগে গেলে প্রতিদিন গড়ে কত সময় ভিডিও দেখা হয়েছে, তা জানা যায়। আজ কত সময় ইউটিউবে কাটানো হয়েছে, পাশাপাশি গত সাত দিনে ব্যবহারের হিসাবও দেখা যায়। ফলে শুধু অনুমানের ওপর নির্ভর না করে নিজের ভিডিও দেখার অভ্যাস সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যায়। অ্যান্ড্রয়েড ফোনে ইউটিউবের প্রোফাইল ছবিতে ট্যাপ করে ‘সেটিংস’ এবং এরপর ‘টাইম ম্যানেজমেন্ট’ বিভাগে গেলেই এই তথ্য পাওয়া যায়। গত সাত দিনের হিসাবের গ্রাফটি বিশেষভাবে কাজে লাগে। কারণ, কোন দিনে তুলনামূলক বেশি সময় ইউটিউবে কাটানো হয়েছে, তা সহজেই বোঝা যায়।
অতিরিক্ত সময় ইউটিউবে কাটানোর ক্ষেত্রে শর্টসের অবিরাম স্ক্রলিং বড় কারণ হতে পারে। এ কারণে ইউটিউব এখন শর্টস দেখার জন্য দৈনিক সময়সীমা নির্ধারণের সুযোগ দিচ্ছে। ‘টাইম ম্যানেজমেন্ট’ বিভাগে গিয়ে ‘শর্টস ফিড লিমিট’ নির্বাচন করে নির্দিষ্ট সময় বেছে নেওয়া যায়। এমনকি সময়সীমা শূন্য মিনিটও নির্ধারণ করা সম্ভব। নির্ধারিত সময়সীমায় পৌঁছালে ইউটিউব সতর্কবার্তা দেখায়। তখন শর্টস দেখা চালিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে থামার কথা মনে করিয়ে দেওয়া হয়। তবে ব্যবহারকারী চাইলে সেই সতর্কবার্তা সরিয়ে আবার দেখাও চালিয়ে যেতে পারেন। সুবিধাটি সম্পূর্ণভাবে শর্টস বন্ধ করে দেওয়ার ব্যবস্থা নয়, এটি অতিরিক্ত স্ক্রলিং সম্পর্কে ব্যবহারকারীকে সচেতন করার একটি উপায়।
ইউটিউবে দীর্ঘ সময় ভিডিও দেখার আরেকটি কারণ হলো কখন থামতে হবে, সেটি ঠিক না করা। এ সমস্যা কমাতে রয়েছে ‘টেক আ ব্রেক’ সুবিধা। এখানে নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধান বেছে নেওয়া যায়। নির্ধারিত সময় শেষ হলে ইউটিউব ভিডিও থামিয়ে বিরতি নেওয়ার কথা মনে করিয়ে দেয়। এই সুবিধার সবচেয়ে কার্যকর দিক হলো, ভিডিও চলতে চলতে হঠাৎ একটি সতর্কবার্তা দেখা যায়। তখন ব্যবহারকারীকে সিদ্ধান্ত নিতে হয় এখনই থামবেন, নাকি আবার ভিডিও দেখা শুরু করবেন। ফলে অজান্তে একের পর এক ভিডিও দেখার প্রবণতা কিছুটা কমানো সম্ভব। এ জন্য ‘টাইম ম্যানেজমেন্ট’ বিভাগে গিয়ে ‘রিমাইন্ড মি টু টেক আ ব্রেক’ নির্বাচন করতে হবে।
রাতে ইউটিউব দেখার অভ্যাস থাকলে ‘বেড টাইম রিমাইন্ডার’ সুবিধাটিও কাজে আসতে পারে। এতে দিনের নির্দিষ্ট একটি সময় থেকে আরেকটি সময় পর্যন্ত ঘুমানোর প্রস্তুতির জন্য সতর্কবার্তা নির্ধারণ করা যায়। চাইলে ভিডিও চলার মাঝখানেই সতর্কবার্তা দেখানো যায়। আবার ভিডিওটি শেষ হওয়ার পর সতর্কবার্তা দেখানোর ব্যবস্থাও বেছে নেওয়া যায়। এ জন্য ‘টাইম ম্যানেজমেন্ট’ বিভাগে গিয়ে ‘রিমাইন্ড মি হোয়েন ইটস বেড টাইম’ নির্বাচন করতে হবে।
সূত্র: অ্যান্ড্রয়েড পুলিশ