স্মার্টফোনে কথা বলার সময় হঠাৎ কল কেটে যাওয়া বা নেটওয়ার্ক চলে যাওয়া অনেকের কাছেই বেশ পরিচিত সমস্যা। জরুরি প্রয়োজনের সময় এ সমস্যার কারণে বিপদেও পড়েন অনেকে। বেশির ভাগ ব্যবহারকারী এ সমস্যার জন্য মোবাইল অপারেটরকে দায়ী করলেও প্রযুক্তিবিদদের মতে, কল ড্রপ সমস্যার উৎস সব সময় মোবাইল নেটওয়ার্ক নয়। অনেক সময় ফোনের সেটিংস, দুর্বল সিগন্যাল বা কিছু সাধারণ প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণেও কল ড্রপের ঘটনা ঘটতে পারে। আর তাই বেশ কিছু কৌশলে নেটওয়ার্কের মান উন্নত করে কল ড্রপ সমস্যার সমাধান করা যায়।
কেন কল ড্রপ হয়
স্মার্টফোন সাধারণত যে মোবাইল টাওয়ারের সঙ্গে যুক্ত থাকে, সেটির সিগন্যাল দুর্বল হয়ে গেলেও তাৎক্ষণিকভাবে অন্য টাওয়ারে সংযোগ পরিবর্তন করে না। প্রযুক্তির ভাষায় এ প্রবণতাকে বলা হয় ‘টাওয়ার ক্লিংগিং’। ফলে কাছাকাছি শক্তিশালী সিগন্যাল থাকা সত্ত্বেও ফোন অনেক সময় দূরের দুর্বল টাওয়ারের সঙ্গেই যুক্ত থাকে। এর ফলেই কল ড্রপ, ধীরগতির ইন্টারনেট বা ‘নো সার্ভিস’ সমস্যার মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
তবে এ সমস্যা দূর করার একটি সহজ উপায় রয়েছে। ফোনে এয়ারপ্লেন মোড চালু করে ১০ সেকেন্ড অপেক্ষা করার পর আবার বন্ধ করলে ফোন নতুন করে আশপাশের নেটওয়ার্ক খুঁজে নেয়। এতে অনেক সময় দ্রুত শক্তিশালী সিগন্যালের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়।
১. ফোন খোলা জায়গায় নিয়ে যাওয়া
মোবাইল সিগন্যাল দুর্বল হওয়ার অন্যতম কারণ আশপাশের পরিবেশ। কংক্রিটের দেয়াল, ধাতব কাঠামো, লিফট বা ভূগর্ভস্থ স্থানে সিগন্যালের শক্তি কমে যেতে পারে। তাই সম্ভব হলে জানালার পাশে বা খোলা জায়গায় অবস্থান করুন। অনেক সময় শুধু স্থান পরিবর্তন করলেই সিগন্যালের মান কিছুটা উন্নত হবে।
২. ফোনের কভার খুলে ব্যবহার
খুব মোটা বা ধাতব অংশযুক্ত কিছু কভার ফোনের অ্যানটেনার কার্যকারিতায় প্রভাব ফেলতে পারে। নেটওয়ার্ক সমস্যার সময় সাময়িকভাবে কভার খুলে সিগন্যালের অবস্থার পরিবর্তন হচ্ছে কি না, তা পরীক্ষা করে দেখা যেতে পারে।
৩. ব্যাটারিতে পর্যাপ্ত চার্জ
দুর্বল সিগন্যালের এলাকায় ফোনকে উন্নত নেটওয়ার্ক খুঁজে পেতে অতিরিক্ত কাজ করতে হয়। এতে ব্যাটারির শক্তি বেশি খরচ হয়। ব্যাটারির চার্জ খুব কম থাকলে নেটওয়ার্ক সংযোগের স্থিতিশীলতাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই ফোনে পর্যাপ্ত চার্জ রাখা জরুরি।
৪. এয়ারপ্লেন মোড চালু করে আবার বন্ধ করা
নেটওয়ার্ক সমস্যার দ্রুত সমাধানের ক্ষেত্রে এটি সবচেয়ে কার্যকর উপায়গুলোর একটি। এয়ারপ্লেন মোড চালু করলে ফোনের সব ওয়্যারলেস সংযোগ সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বন্ধের কয়েক সেকেন্ড পর চালু করলে ফোন আবার নতুন করে নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হয়। ফলে অনেক ক্ষেত্রে নেটওয়ার্ক সমস্যার সমাধান হয়ে যায়।
৫. ফোন আবার চালু
স্মার্টফোন আবার চালু করলে অনেক অস্থায়ী সমস্যা দূর হয় এবং নেটওয়ার্ক সংযোগও স্বাভাবিক হয়ে আসে।
৬. সিম কার্ড খুলে আবার বসানো
দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে সিম কার্ডের সংযোগস্থলে ধুলা বা ময়লা জমতে পারে। আবার সিম কার্ডে কোনো দৃশ্যমান ক্ষতি থাকলেও নেটওয়ার্ক সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই সিম কার্ড খুলে পরিষ্কার করে আবার বসিয়ে নেটওয়ার্ক সমস্যার সমাধান করা যায়।
৭. অপারেটর সেটিংস ও সফটওয়্যার হালনাগাদ
মোবাইল অপারেটররা নিয়মিত নেটওয়ার্ক–সংক্রান্ত হালনাগাদ প্রকাশ করে থাকে। এসব হালনাগাদের মাধ্যমে কল, বার্তা ও মোবাইল ডেটা ব্যবহারের অভিজ্ঞতা উন্নত করা হয়। পুরোনো সফটওয়্যারের কারণেও অনেক সময় নেটওয়ার্ক সমস্যা দেখা দিতে পারে। আর তাই ফোনে সব সময় সর্বশেষ সংস্করণের অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করতে হবে।
৮. নেটওয়ার্ক সেটিংস রিসেট
উল্লিখিত উপায়ে নেটওয়ার্ক সমস্যার সমাধান না হলে ফোনের নেটওয়ার্ক সেটিংস রিসেট করতে হবে। এতে ফোনের নেটওয়ার্ক–সংক্রান্ত সব কনফিগারেশন নতুন করে চালু হবে। তবে এ প্রক্রিয়ায় সংরক্ষিত ওয়াই-ফাই পাসওয়ার্ড, ভার্চ্যুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্কের তথ্য এবং কিছু বিশেষ সেটিংস মুছে যেতে পারে। তাই আগে প্রয়োজনীয় তথ্য সংরক্ষণ করে রাখা ভালো।
৯. সিগন্যাল বুস্টার
সব পদ্ধতি অনুসরণের পরও যদি নেটওয়ার্কের মান সন্তোষজনক না হয়, তাহলে সিগন্যাল বুস্টার ব্যবহারের কথা বিবেচনা করা যেতে পারে। এ ধরনের যন্ত্র মোবাইল সিগন্যাল গ্রহণ করে সেটিকে আরও শক্তিশালী করে নির্দিষ্ট কক্ষ বা পুরো বাড়িতে ছড়িয়ে দেয়। তবে সিগন্যাল বুস্টারের দাম তুলনামূলক বেশি। তাই এটি কেনার আগে নিজের এলাকার নেটওয়ার্ক কভারেজ এবং অন্যান্য বিকল্প সমাধান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া ভালো।
১০. অপারেটরের সঙ্গে যোগাযোগ করা
সব চেষ্টা ব্যর্থ হলে মোবাইল অপারেটরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। কোনো টাওয়ারে ত্রুটি, রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম বা নেটওয়ার্ক বিভ্রাটের কারণে সাময়িকভাবে সেবার মান কমে যেতে পারে। আবার কোনো এলাকায় কভারেজ দুর্বল হলেও নিয়মিত কল ড্রপের ঘটনা ঘটতে পারে। এ ক্ষেত্রে অপারেটরের কারিগরি সহায়তায় নেটওয়ার্ক সমস্যার সমাধান করতে হবে।
সূত্র: সিনেট