বিশ্বজুড়ে যখন ডিপফেক বা কৃত্রিমভাবে তৈরি ভুয়া আধেয় বা কনটেন্টের ছড়াছড়ি, তখন কোনটি আসল আর কোনটি নকল তা সাধারণ মানুষের পক্ষে আলাদা করা বেশ কঠিন কাজ। কঠিন এই কাজ সহজ করতে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। সম্প্রতি তারা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বিশেষ নিয়ম চালু করেছে, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই সিস্টেম ব্যবহার করে তৈরি এবং দেখতে আসলের মতো যেকোনো ছবি, ভিডিও ও অডিওতে স্পষ্টভাবে লেবেল বা ট্যাগ যুক্ত করতে হবে।
এই নিয়মে যেসব প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এআই সিস্টেম, এআই আধেয় সরবরাহ বা পরিচালনা করে, তাদের জন্য নতুন বাধ্যবাধকতা যুক্ত করা হয়েছে। এই বাধ্যবাধকতার অংশ হিসেবে কোনো ব্যক্তি, বস্তু, স্থান, প্রতিষ্ঠান বা ঘটনার সঙ্গে মিল রয়েছে, এমন এআই-নির্মিত বা এআই-পরিবর্তিত ছবি, অডিও বা ভিডিওগুলোতে পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করতে হবে যে এগুলো কৃত্রিম। পাশাপাশি জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে এআই-নির্মিত বা পরিবর্তিত যেসব বার্তা কোনো মানুষের পর্যালোচনা বা সম্পাদকীয় নিয়ন্ত্রণের মধ্য দিয়ে যায় না, সেগুলোর ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। আসলের মতো দেখতে এআই আধেয়গুলোতে লেবেল যুক্ত করার জন্য ইইউ কয়েকটি বিশেষ আইকন বা প্রতীকও তৈরি করে দিয়েছে। অডিও ডিপফেকের ক্ষেত্রে আধেয়র শুরুতেই একটি সংক্ষিপ্ত অডিও সতর্কবার্তা যুক্ত করতে হবে।
ইইউর নতুন নীতিমালায় বলা হয়েছে, এআই নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের সিস্টেমে তৈরি বা প্রক্রিয়াজাত যেকোনো আধেয়র ভেতরে অদৃশ্য এবং মেশিন-পাঠযোগ্য জলছাপ যুক্ত করতে হবে। নতুন এই নিয়মের বিষয়ে অ্যানথ্রপিক জানিয়েছে, তারা নিশ্চিত করবে যেন ইইউতে চালু হওয়া তাদের সব ক্লড চ্যাটবট মডেল মেশিন-পাঠযোগ্য মার্কিং সমর্থন করে। এমনকি আগের ক্লড মডেলগুলোতেও জলছাপ যুক্ত করার কাজ চলছে।
নতুন এই নিয়ম ইউরোপের দেশগুলোর পাশাপাশি যেসব প্রতিষ্ঠানের তৈরি এআই আধেয় ইইউভুক্ত দেশগুলোতে দেখা যায়, সেসব দেশের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। ফলে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় প্রায় সব প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানকেই এই নিয়ম মেনে চলতে হবে। নিয়ম অমান্যকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে সর্বোচ্চ ১ কোটি ৫০ লাখ ইউরো বা তাদের বিশ্বব্যাপী মোট বার্ষিক আয়ের ৩ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে।
গবেষকদের তথ্যমতে, কৃত্রিমভাবে তৈরি আধেয়তে কেবল একটি এআই-জেনারেটেড লেবেল বা জলছাপ লাগিয়ে দেওয়া যতটা সহজ মনে হয়, বিষয়টি আসলে ততটা সরল নয়। লেবেলের উপস্থিতি এবং তা আধেয় ঠিক কখন দেখানো হচ্ছে, তার ওপর ভিত্তি করে মানুষ ভিন্নভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে। এর মানে হলো লেবেলের কার্যকারিতা কেবল একটি প্রতীক থাকার ওপর নির্ভর করে না; বরং মানুষ কীভাবে সেই প্রতীকটি ব্যাখ্যা বা ব্যবহার করছে, তার ওপরও এই নিরাপত্তাব্যবস্থা নির্ভরশীল।
সূত্র: দ্য কনভার্সেশন