
বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের (সিইও) কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি সঠিকভাবে ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দিতে কক্সবাজারের একটি হোটেলে হয়ে গেল ‘সিইও ওয়ার্কশপ’। ১৩ মার্চ থেকে চলা তিন দিনের এ কর্মশালায় সমবায়, ক্রেডিট ও আবাসন নিয়ে কাজ করা ৪০টি প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন এনজিওর প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
কর্মশালার দ্বিতীয় দিনে গত শুক্রবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারে প্রযুক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধের ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রফেশনাল গুগল সার্টিফায়েড এআই স্পেশালিস্ট সুবীর নকরেক। কর্মশালার ‘এআই লিডারশিপ’ সেশনে তিনি বলেন, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে প্রায় ১০০ কোটি মানুষ এআই ব্যবহার করছে, কিন্তু অনেকেই এখনো এর দায়িত্বশীল ব্যবহার সম্পর্কে সচেতন নন। এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে দায়িত্ববান ও নীতি মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য এআই ব্যবহারের সময় নিজেকে প্রশ্ন ও তথ্য যাচাই করার পাশাপাশি আধেয়টি (কনটেন্ট) এআই দ্বারা তৈরি বলে উল্লেখ করতে হবে।
বেকারত্ব নিরসনে তরুণদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর দক্ষতা অর্জন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন সুবীর নকরেক। তিনি বলেন, এআইনির্ভর গ্রাফিক ডিজাইন, ডিজিটাল মার্কেটিং, ওয়েব ডেভেলপমেন্টসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে তরুণ-তরুণীরা নিজেরাই ফ্রিল্যান্সিং এবং এক দেশে বসে অন্য দেশে কাজের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারেন।
কর্মশালার আয়োজক দ্য সেন্ট্রাল অ্যাসোসিয়েশন অব ক্রিশ্চিয়ান কো-অপারেটিভ লিমিটেডের (কাককো) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ডমিনিক রঞ্জন পিউরিফিকেশন বলেন, বিশ্ব দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। তাই সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সিইওদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তিকে গ্রহণ করতে হবে এবং প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে তা কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে হবে।
কর্মশালায় এআই সেশনে অংশগ্রহণকারী সিইওদের নিয়ে একটি কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এতে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার হিসেবে প্রথম আলোর প্রথমা প্রকাশন থেকে প্রকাশিত ‘সুখবর বাংলাদেশ’ বইটি তুলে দেন সুবীর নকরেক। এ সময় তিনি বলেন, সারা বাংলাদেশের বাছাইকৃত ২৫ জন ফ্রিল্যান্সার ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তার সংগ্রামী ও অনুপ্রেরণামূলক গল্প নিয়ে বইটি লিখেছেন প্রখ্যাত লেখক রাহিতুল ইসলাম।