মিলিয়নএক্স বাংলাদেশের আয়োজনে অনুষ্ঠেয় বিল্ড-এ-থনের ব্যানার
মিলিয়নএক্স বাংলাদেশের আয়োজনে অনুষ্ঠেয় বিল্ড-এ-থনের ব্যানার

দুই দিনের এআই আয়োজন দিয়ে যাত্রা শুরু করছে মিলিয়নএক্স বাংলাদেশ

মানব সভ্যতা এখন ডিজিটাল রূপান্তরের এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা আর কেবল ইন্টারনেট–সংযোগ বা যন্ত্রের প্রাপ্যতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বিশ্ব বর্তমানে এগিয়ে যাচ্ছে বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক অর্থনীতির দিকে—যেখানে মানুষের চিন্তাপ্রক্রিয়া, সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করার দক্ষতাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মিলিয়নএক্স বাংলাদেশ ভবিষ্যতের সঙ্গে মানিয়ে চলার লক্ষ্য নিয়ে একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও শক্তিশালী পরিচালন কাঠামো উন্মোচন করেছে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো বাংলাদেশের ১০ লাখ নাগরিককে এআই-নেটিভ হিসেবে গড়ে তোলা।

মিলিয়ন এক্স বাংলাদেশের অন্যতম উদ্যোক্তা প্রযুক্তিবিদ জুনায়েদ কাজী জানান অলাভজনক এই প্রতিষ্ঠান এআই শিক্ষা, উদ্ভাবন, নীতিনির্ধারণ, শিল্প খাত ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা—এই পাঁচ গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সমন্বিতভাবে কাজ করবে। ১৭ জানুয়ারি ঢাকার এশিয়া প্যাসিফিক ইউনিভার্সিটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে মিলিয়নএক্স বাংলাদেশ। সেদিন ‘জেনেসিস এআই কনফারেন্স’–এর মাধ্যমে দেশীয় মেধা ও বৈশ্বিক অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে একটি জাতীয় এআই চার্টার প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। দিনব্যাপী এ আয়োজনে রয়েছে কি-নোট সেশন, প্যানেল আলোচনা এবং বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্প খাতের মধ্যে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা। অনুষ্ঠানে দেশি ও বিদেশি স্বনামধন্য প্রযুক্তিবিদ, শিল্প খাতের নেতৃস্থানীয় প্রতিনিধি, সরকারি নীতিনির্ধারকসহ বিভিন্ন পেশাজীবীরা অংশ নেবেন।

সম্মেলন নিয়ে আয়োজকদের পক্ষে আনিস রহমান বলেন, বাংলাদেশের অনেক এআই–বিশেষজ্ঞ বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে ছড়িয়ে–ছিটিয়ে আছে। তাঁদের সমন্বয়ে একটি টেন এক্স মনন তৈরি করার জন্য এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জুনায়েদ কাজী বলেন, ‘এআই একটি বড় অ্যানাবলার। যেকোনো উদ্যোগকে কয়েক গুণ বিকশিত করতে পারে এই এআই। তো আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে শিশু-কিশোর, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সরকার, নীতিনির্ধারকসহ সমাজে বিভিন্ন স্তরে মানুষের কাছে এআইকে পৌঁছে দেওয়া। যাতে প্রত্যেকে তাঁদের কর্মদক্ষতা বহুগুণে বাড়াতে পারে।’

এর আগে ১৬ জানুয়ারি ন্যাশনাল এআই বিল্ড-এ-থন আয়োজন করা হয়েছে। এতে নিবন্ধিত মোট ৩৮৪টি দল থেকে ৫টি শ্রেণিতে মোট ৬২টি দলকে দিনব্যাপী বিল্ড-এ-থনের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে। সেরা পাঁচটি দলকে পুরস্কৃত করা হবে।

ঢাকার সোবহানবাগের ড্যাফোডিল প্লাজাতে এই বিল্ড-এ-থন অনুষ্ঠিত হবে। আয়োজকদের পক্ষে প্রযুক্তিবিদ মাহাদীউজ্জামান বলেন, ‘আমরা দেখেছি, সারা দেশেই তরুণদের মধ্যে এআই নিয়ে অনেক আগ্রহ। তাঁদের এই আগ্রহ যেন ক্রমাগত উৎপাদনশীলতার দিকে যেতে পারে, সে জন্য এই বিল্ড-এ-থনের আয়োজন। নির্বাচিতদের আমরা নানা ধরনের কারিগরি সহায়তা প্রদান করব।’

আয়োজনে সহায়তা করছে ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনির্ভাসিটির ডিপার্টমেন্ট অব ইনোভেশন অ্যান্ড এন্ট্রারপ্রেনিউরশিপ, বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক (বিডিওএসএন) ও বিলিয়নস ফর বাংলাদেশ। এ ছাড়া কারিগরি সহায়তা প্রদান করছে অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেস, ক্যারিয়ার ক্যানভাস ও ভার্সেল ভিজিরো।

১৭ জানুয়ারি ঢাকার এশিয়া-প্যাসিফিক ইউনিভার্সিটিতে অনুষ্ঠেয় প্রথম ‘জেনেসিস এআই কনফারেন্স’ সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। আয়োজনের বিস্তারিত জানতে ও অংশগ্রহণের জন্য এই ওয়েবসাইটে যেতে হবে।