এআই ক্যারিক্যাচারের নতুন ট্রেন্ডে মেতেছেন অনেকেই
এআই ক্যারিক্যাচারের নতুন ট্রেন্ডে মেতেছেন অনেকেই

ফেসবুকে এআই ক্যারিক্যাচারের নতুন ট্রেন্ড

ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ফিড স্ক্রল করলেই এখন চোখে পড়ছে রঙিন সব কার্টুন চরিত্র। কেউ হয়তো স্টোথোস্কোপ গলায় দিয়ে হাসিমুখে দাঁড়িয়ে আছেন, কেউ আবার ক্লাসরুমে চকবোর্ড হাতে পড়ানোর ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। ভালো করে তাকালে বোঝা যায়, এগুলো কেবল সাধারণ কার্টুন নয়; বরং বাস্তবের মানুষের পেশা ও ব্যক্তিত্বের এক ক্যারিক্যাচার। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে নেটদুনিয়ায় ঝড়ের বেগে ছড়িয়ে পড়েছে এআই ক্যারিক্যাচারের নতুন এই ট্রেন্ড।

পরিচালক আশফাক নিপুনের এআই ক্যারিকেচার

চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করে নিজের ছবি ও পেশাকে কার্টুনে রূপান্তর করার এই ট্রেন্ড এখন ব্যবহারকারীদের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে। সংবাদপাঠক থেকে শুরু করে চিকিৎসক, শিক্ষক, পার্সোনাল ট্রেনার কিংবা করপোরেট কর্মকর্তার মতো সব পেশার মানুষই নিজের অ্যানিমেটেড সংস্করণ তৈরি করে শেয়ার করছেন। গুগল জেমিনির মতো অন্যান্য এআই টুল দিয়েও এমন ছবি তৈরি করা সম্ভব হলেও ভাইরাল হওয়া ছবির সিংহভাগই তৈরি হচ্ছে চ্যাটজিপিটির মাধ্যমে।

এই মজার অভিজ্ঞতার অংশ হতে ব্যবহারকারীরা চ্যাটজিপিটিকে একটি বিশেষ প্রম্পট বা নির্দেশনা দিচ্ছেন। সাধারণত নির্দেশনাটি এমন: আমার এবং আমার পেশা সম্পর্কে তুমি যতটুকু জানো, তার ওপর ভিত্তি করে আমার একটি ক্যারিক্যাচার তৈরি করে দাও। এরপর এআই ব্যবহারকারীর কাছে একটি ছবি বা তার কাজের ধরন সম্পর্কে জানতে চায়।

এই ট্রেন্ড ব্যবহারকারী নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক রুবিনা খান বলেন, এআইকে যত বেশি তথ্য দেওয়া হয়, ছবি তত বেশি নিখুঁত ও আনন্দদায়ক হয়। নিজের পদবি, কাজের দিনে তিনি সাধারণত কী ধরনের পোশাক পরেন, ডেস্কে কী কী জিনিস থাকে ইত্যাদি তথ্য দিলে এআই সেই সবকিছুর সমন্বয়ে একটি চমৎকার ভিজ্যুয়াল গল্প তৈরি করে দেয়। এই ট্রেন্ডটি কেবল পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। পৃথিবীর নানা দেশের সাধারণ মানুষ ও পেশাজীবীরা বড় পরিসরে এই ট্রেন্ডে যোগ দিয়েছেন। তাঁদের পেশাগত জীবনের খুঁটিনাটি ও ছবি আপলোড করে নিজেদের রঙিন সব ক্যারিক্যাচার তৈরি করছেন তাঁরা। একই চিত্র দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশেও। বিশেষ করে তরুণ ফ্রিল্যান্সার এবং প্রযুক্তিপ্রেমীরা নিজেদের লিংকডইন প্রোফাইলে এ ধরনের ছবি ব্যবহার করে পেশাগত পরিচয়কে আরও সৃজনশীল করে তুলছেন। পেশাদারত্বের মধ্যে একটু বিনোদন ডিজিটাল দুনিয়ার একঘেয়েমি কাটাতে এ ধরনের এআই ট্রেন্ড দারুণ ভূমিকা রাখছে। ব্যবহারকারীদের মতে, গম্ভীর পেশাগত জীবনকে একটু হালকা চালে এবং হাস্যরসাত্মকভাবে উপস্থাপন করার এই সুযোগটি তারা লুফে নিচ্ছেন। তবে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নিয়ে কিছুটা বিতর্ক থাকলেও বিনোদনের এই নতুন মাধ্যমটি মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে।

আপনিও যদি এই ট্রেন্ডে শামিল হতে চান, তবে এখনই আপনার চ্যাটজিপিটি অ্যাপ চালু করে এআই ক্যারিক্যাচার তৈরির সেই জাদুকরি প্রম্পটি লিখতে পারেন। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই আপনার গম্ভীর পেশাদার রূপটি বদলে যাবে দারুণ এক মজার কার্টুনে। #chatgpttrend লিখে সার্চ করলেই অনেক ব্যবহারকারীর ক্যারিক্যাচার দেখার সুযোগ পাবেন।