
চিটাগং ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি (সিআইইউ) প্রাঙ্গণে গতকাল শুক্রবার অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘তৃতীয় বাংলাদেশ এআই অলিম্পিয়াড ২০২৬’–এর চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পর্ব। বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্কের (বিডিওএসএন) উদ্যোগে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় চট্টগ্রাম ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। দিনভর এ আয়োজনে প্রাধান্য পেয়েছে প্রোগ্রামিং, গাণিতিক যুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) নানামুখী চ্যালেঞ্জ।
গতকাল সকাল আটটায় নিবন্ধনের মাধ্যমে দিনের সূচনা হয়। এরপর শিক্ষার্থীরা ‘এআই কুইজ’ ও ‘এআই কোডিং চ্যালেঞ্জ’—এই দুই শ্রেণিতে ভাগ হয়ে নিজেদের মেধা প্রদর্শন করে। প্রতিযোগিতা পরিদর্শন করেন সিআইইউর স্কুল অব সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ডিন অধ্যাপক আসিফ ইকবাল। এ ছাড়া কুইজে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের নিয়ে এআই ও মেশিন লার্নিংয়ের ওপর একটি বিশেষ কর্মশালা পরিচালনা করেন চিটাগং ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল নাঈম ও সামাহ বিনত ফিরোজ।
বেলা ১১টা ৩০ মিনিটে আয়োজিত সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়। এআই কুইজ শ্রেণিতে ১০ ও এআই কোডিং চ্যালেঞ্জে ৬ শিক্ষার্থীকে বিজয়ী হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে। কোডিং চ্যালেঞ্জে বিজয়ীরা হলো চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক কলেজের আকীদ ইকবাল হক, আরিয়ান আবরার চৌধুরী ও তনুশ্রী সাহা, বাংলাদেশ এলিমেন্টারি স্কুলের তাসদীদ আহমেদ চৌধুরী, প্রেসিডেন্সি ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের সায়ান আহমেদ খান ও সরকারি হাজী আসমত কলেজের মো. ইমতিয়াজ হোসেন।
কুইজ শ্রেণিতে বিজয়ীরা হলো ক্যান্টনমেন্ট ইংলিশ স্কুল অ্যান্ড কলেজের সুপ্রতীক নাথ, মোস্তানির চৌধুরী, সাদ ইবনে হোসেন, ইব্রাহিম বিন হোসেন, সৈয়দ মোহাম্মদ রাফান ও আফনান এনাম, সিএমপি স্কুল অ্যান্ড কলেজের জুহাইর ফেরদৌস হাসান, বাংলাদেশ এলিমেন্টারি স্কুলের তওয়াসিন মোস্তফা ও চিটাগং গ্রামার স্কুলের তাইসির ইসলাম।
সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিআইইউর রেজিস্ট্রার আনজুমান বানু। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক আসিফ ইকবাল ও ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান রুবেল সেন গুপ্ত। অতিথিরা বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পদক ও সনদ তুলে দেন এবং ভবিষ্যতে প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে শিক্ষার্থীদের এআইয়ে আরও দক্ষ হওয়ার আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, একই দিনে রাজশাহী ও খুলনা অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের নিয়ে অনলাইনে ‘ই–অলিম্পিয়াড’ আয়োজন করা হয়, যার ফলাফল শিগগিরই অলিম্পিয়াডের ওয়েবসাইটে (bdaio.org) প্রকাশ করা হবে। আঞ্চলিক পর্বের বিজয়ী শিক্ষার্থীরা ১৬ মে রাজধানী ঢাকায় অনুষ্ঠেয় জাতীয় এআই অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে।
এবারের আসরের প্ল্যাটিনাম স্পনসর হিসেবে রয়েছে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি এবং পাওয়ার্ড বাই পার্টনার হিসেবে যুক্ত আছে রিভ চ্যাট। গোল্ড স্পনসর হিসেবে রয়েছে ব্রেইন স্টেশন ২৩, সিলভার স্পনসর মিলিয়ন এক্স বাংলাদেশ ও ক্রিয়েটিভ আইটি ও ব্রোঞ্জ স্পনসর বিটনা। নলেজ পার্টনার হিসেবে সহযোগিতা করছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য প্রযুক্তি ইনস্টিটিউট (আইআইটি), টিভি পার্টনার দীপ্ত টিভি, পার্টনার হিসেবে যুক্ত আছে বাংলাদেশ বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ সমিতি (এসপিএসবি), রকমারি ডটকম ও জাদু পিসি এবং ম্যাগাজিন পার্টনার হিসেবে যুক্ত আছে মাসিক কিশোর আলো ও বিজ্ঞানচিন্তা।