
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের সঙ্গে সদ্য করা চুক্তির ভাষা সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে চ্যাটজিপিটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই। গত সপ্তাহে করা এ চুক্তির আওতায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের ওপর নজরদারি চালানোর শঙ্কা তৈরি হওয়ায় তুমুল সমালোচনার মুখে পড়েছে প্রতিষ্ঠানটি। শুধু তা–ই নয়, পেন্টাগনের সঙ্গে চুক্তির প্রতিবাদে পদত্যাগ করেছেন ওপেনএআইয়ের হার্ডওয়্যার বিভাগের প্রধান ক্যাটলিন কালিনোস্কি। এরপরই ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) স্যাম অল্টম্যান জানান, চুক্তির ভাষা আরও স্পষ্ট করতে পেন্টাগনের সঙ্গে কাজ করছে তার প্রতিষ্ঠান। একই সঙ্গে এ ধরনের পরিস্থিতিতে নিজের অবস্থানও প্রকাশ করেছেন তিনি।
একটি অভ্যন্তরীণ বার্তায় অল্টম্যান জানিয়েছেন, যদি কখনো এমন কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়, যা তার কাছে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের পরিপন্থী বলে মনে হবে, তবে সেই নির্দেশ মানার চেয়ে জেলে যাওয়াকেই তিনি বেছে নেবেন। সংশোধিত চুক্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, ওপেনএআইয়ের প্রযুক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের ওপর দেশীয় নজরদারির কাজে ব্যবহার করা যাবে না। এর মধ্যে অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য বা ইন্টারনেট ব্রাউজিংয়ের ইতিহাস এর মতো বাণিজ্যিকভাবে সংগৃহীত ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে নজরদারির বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
পেন্টাগনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আপাতত ওপেনএআইয়ের প্রযুক্তি ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সিসহ (এনএসএ) যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ব্যবহার করবে না। ভবিষ্যতে এসব সংস্থা প্রযুক্তিটি ব্যবহার করতে চাইলে সে ক্ষেত্রে আলাদা করে চুক্তি সংশোধন করতে হবে।
গত শুক্রবার চুক্তিটি ঘোষণার পর থেকেই প্রযুক্তি বিশ্লেষক ও নীতিনির্ধারকদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়। প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম দ্য ভার্জ–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মূল চুক্তিতে গণনজরদারি সরাসরি নিষিদ্ধ করা হয়নি। সেখানে বলা হয়েছিল, ওপেনএআইকে বিদ্যমান আইন মেনে প্রযুক্তি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হবে। সমালোচকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে অতীতে এনএসএর ‘প্রিজম’ কর্মসূচির মতো পরিচালিত বেশ কয়েকটি বিতর্কিত নজরদারি কর্মসূচি এই একই আইনি কাঠামোর মধ্যেই পরিচালিত হয়েছে। ফলে কেবল আইন মেনে চলার শর্ত নজরদারি কার্যক্রম সীমিত করার জন্য যথেষ্ট নয়।
ওপেনএআইয়ের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, ওপেনএআইয়ের প্রযুক্তি ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের তথ্য বড় পরিসরে বা নির্বিচার সংগ্রহ কিংবা বিশ্লেষণ করা সম্ভব নয়। তবে ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, বার্কলির গবেষক সারা শোকারের মতে, চুক্তিতে ব্যবহৃত কিছু শব্দ যেমন ‘অসীম’ বা ‘সাধারণভাবে’ খুবই অস্পষ্ট। ফলে এসব শব্দের ব্যাখ্যা বিভিন্নভাবে করা সম্ভব।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া