
সম্প্রতি হোয়াটসঅ্যাপের ডিভাইস লিংকিং সুবিধা ব্যবহার করে ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ নিচ্ছে একদল সাইবার অপরাধী। ‘ঘোস্ট পেয়ারিং’ নামে পরিচিত সাইবার হামলা চালিয়ে দূর থেকে হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টে থাকা চ্যাট ইতিহাস এবং শেয়ার করা তথ্য সংগ্রহ করছে তারা। হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট নিরাপদ রাখার কৌশলগুলো দেখে নেওয়া যাক।
হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টকে সুরক্ষিত রাখতে টু স্টেপ ভেরিফিকেশন বা দুই স্তরের যাচাইকরণ সুবিধা খুবই কার্যকর। এই সুবিধা চালু থাকলে কেউ গোপনে হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করলেই সতর্কবার্তা পাওয়া যায়। দুই স্তরের নিরাপত্তা সুবিধা চালুর জন্য প্রথমেই হোয়াটসঅ্যাপ চালু করে ডান পাশের ওপরে থাকা তিনটি ডট মেন্যুতে ক্লিক করতে হবে। এবার সেটিংসে ক্লিক করে অ্যাকাউন্ট অপশন নির্বাচন করতে হবে। এরপর টু স্টেপ ভেরিফিকেশনে ক্লিক করে টার্ন অন নির্বাচনের পর ছয় সংখ্যার পাসওয়ার্ড ও ই-মেইল ঠিকানা লিখতে হবে। ই-মেইল ঠিকানা নিশ্চিত করে টার্ন অন নির্বাচন করলেই দুই স্তরের নিরাপত্তা সুবিধা চালু হবে।
হোয়াটসঅ্যাপে ‘লাস্ট সিন’, অনলাইন স্ট্যাটাস এবং প্রোফাইল ছবি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকলে অচেনা ব্যক্তিরা তা অপব্যবহার করতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে প্রোফাইল ছবি বা অনলাইন অবস্থার তথ্য ব্যবহার করে প্রতারণা বা হয়রানির চেষ্টা করা হয়। তাই নিরাপত্তার স্বার্থে এসব তথ্য সীমিত পরিসরে রাখাই ভালো।
হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ এখন দৈনন্দিন যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে যে কেউ ইচ্ছামতো কাউকে কোনো গ্রুপে যুক্ত করতে পারলে সেটি নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। প্রতারকেরা অনেক সময় ভুয়া বা সন্দেহজনক গ্রুপে যুক্ত করে বিভ্রান্তিকর বার্তা ছড়িয়ে দেয়। তাই কে গ্রুপে যুক্ত করতে পারবে, সেই অনুমতি সীমিত করে রাখা নিরাপদ বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টে অতিরিক্ত সুরক্ষা যোগ করতে অ্যাপ লক সুবিধা ব্যবহার করা যেতে পারে। আইফোনে ফেস আইডি এবং অ্যান্ড্রয়েড ফোনে ফিঙ্গারপ্রিন্ট লক চালু করলে প্রতিবার অ্যাপ খুলতে আলাদা যাচাইয়ের প্রয়োজন হয়। এতে ফোন অন্যের হাতে গেলেও ব্যক্তিগত কথোপকথন নিরাপদ থাকে।
হোয়াটসঅ্যাপে স্পাইওয়্যার বা ম্যালওয়্যারের ঝুঁকি এড়াতে অ্যাপটি সব সময় হালনাগাদ সংস্করণ ব্যবহার করা জরুরি। পাশাপাশি অচেনা নম্বর থেকে আসা ফোনকল বা বার্তাও এড়িয়ে চলতে হবে।
সূত্র: নিউজ১৮