সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপনি কতটা সক্রিয়, তা থেকে আপনার মানসিক অবস্থা বোঝা যায়
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপনি কতটা সক্রিয়, তা থেকে আপনার মানসিক অবস্থা বোঝা যায়

ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামে কখনোই লাইক না দেওয়া, মন্তব্য না করা কিসের লক্ষণ?

নিয়মিত ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, এক্সের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করলেও অন্যদের পোস্টে লাইক বা মন্তব্য করেন না, এমন অনেকেই রয়েছেন। নতুন একটি গবেষণা বলছে, এমন স্বভাবের সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্যের সম্পর্ক রয়েছে।

সেন্ট্রাল চায়না নরমাল ইউনিভার্সিটির গবেষকদের গবেষণায় এমন চিত্র উঠে এসেছে। নিয়মিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের নিয়ে তাঁদের গবেষণায় দেখা গেছে, যাঁরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত কিন্তু ‘প্যাসিভলি’ ব্যবহার করেন, তাঁরা সামাজিক উদ্বেগে ভোগেন। আর যাঁরা নিয়মিত স্যোশাল মিডিয়া ব্যবহার করেন এবং সক্রিয় থাকেন বা নিয়মিত পোস্ট করেন কিংবা অন্যদের পোস্টে সক্রিয়ভাবে প্রতিক্রিয়া জানান; তাঁদের সামাজিক উদ্বেগ কম থাকে।

গবেষকেরা ৫০০ জনের বেশি কলেজপড়ুয়ার ওপর এ গবেষণা জরিপ চালিয়েছেন। তাঁরা দেখার চেষ্টা করেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কীভাবে মানসিক স্বাস্থ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত। তাঁদের জরিপে দেখা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় স্যোশাল মিডিয়ার ‘প্যাসিভ’ ব্যবহারকারীরা তাঁদের বাস্তব জীবনে সম্মুখীন হওয়া অপরিচিত পরিস্থিতিতে বেশি ভয় পেয়ে থাকেন। অন্যদিকে যাঁরা নিয়মিত স্যোশাল মিডিয়া ব্যবহার করেন ও সক্রিয় থাকেন, তাঁরা সহজেই বন্ধুত্ব করতে পারেন এবং সামাজিকভাবে তাঁদের অবস্থান বেশ দৃঢ়।

গবেষণাটি বিএমসি সাইকোলজি সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে। এ গবেষণায় চীনের সাংহাই ও হুবেই প্রদেশের ৫৭১ শিক্ষার্থীর ওপর জরিপ তুলে ধরা হয়। ২০২২ সালের মে থেকে জুলাই মাসে এ জরিপ চালানো হয়। জরিপে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্ন করে সেগুলো বিশ্লেষণ করা হয়। এসব প্রশ্নে ছিল, সামাজিকভাবে সংকোচহীন থাকেন কি না, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সক্রিয়তা কেমন, নিজেদের সম্পর্কে তাঁদের মূল্যায়ন এবং তাঁদের সামাজিক উদ্বেগ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয়তা পরিমাপের জন্য তাঁরা কতসংখ্যক পোস্ট করেন, অন্যদের পোস্টে কেমন প্রতিক্রিয়া জানান—এসব বিবেচনায় নেওয়া হয়।

গবেষক দলের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সক্রিয় ব্যবহারকারীরা অন্যদের মধ্যে নিজেকে তুলে ধরতে এবং অন্যদের প্রতিক্রিয়া পেতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। আর ‘প্যাসিভ’ ব্যবহারকারীরা নিজেদের প্রকাশ করতে সংকোচ বোধ করেন, যা যোগাযোগে ঘাটতি তৈরি করে এবং অন্যদের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

সূত্র: ডেইলি মেইল ডটকোডটইউকে