
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ স্টার্টআপ বিনিয়োগ প্রতিযোগিতা ‘স্টার্টআপ ওয়ার্ল্ডকাপ ২০২৬’-এর বাংলাদেশ পর্বের নিবন্ধন আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠান পেগাসাস টেক ভেঞ্চারসের আয়োজনে বিশ্বের ১০০টিরও বেশি দেশে এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বৈশ্বিক এই চূড়ান্ত প্রতিযোগিতার বিজয়ী স্টার্টআপ পাবে ১০ লাখ (১ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার (প্রায় ১২ কোটি টাকা) বিনিয়োগ পুরস্কার।
এ বছর বাংলাদেশে প্রতিযোগিতাটির আঞ্চলিক পর্ব আয়োজন করছে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা বিভাগ। আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে ‘স্টার্টআপ ওয়ার্ল্ডকাপ বাংলাদেশ ২০২৬ রিজিওনাল গ্র্যান্ড ফাইনাল’। এখান থেকে নির্বাচিত বিজয়ী স্টার্টআপ আগামী ৬ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোতে অনুষ্ঠেয় মূল প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবে।
বাংলাদেশের শিক্ষার্থী, তরুণ উদ্যোক্তা, করপোরেট পেশাজীবী, স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠাতা এবং নতুন ব্যবসায়িক ধারণা নিয়ে কাজ করা যে কেউ এতে অংশ নিতে পারবেন।
শিক্ষাগত যোগ্যতা বা বয়স: প্রাথমিক ধারণা, প্রাথমিক তহবিল গঠন, বীজ তহবিল (সিড) এবং প্রাথমিক পর্যায়ের বিস্তার (সিরিজ-এ) ধাপে থাকা পাঁচ বছরের কম বয়সী স্টার্টআপগুলো আবেদন করতে পারবে। দলের সদস্যসংখ্যা: সর্বোচ্চ ৩ সদস্যের দল গঠন করে আবেদন করা যাবে।
আঞ্চলিক বিজয়ী: বাংলাদেশ পর্বের বিজয়ী দল পাবে ৫০ হাজার টাকা, ক্রেস্ট ও সনদ। এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোতে সরাসরি মূল প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ।
শীর্ষ ১০ স্টার্টআপ: বাংলাদেশের সেরা ১০টি স্টার্টআপ সান ফ্রান্সিসকোতে অনুষ্ঠিত মূল প্রতিযোগিতার নেটওয়ার্কিং অধিবেশন যোগ দেওয়ার সুযোগ পাবে। এর মাধ্যমে তারা বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিনিয়োগকারী, ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠান, প্রযুক্তি উদ্যোক্তা এবং আন্তর্জাতিক ব্যবসা খাতের নীতি-নির্ধারকদের সঙ্গে যোগাযোগ ও বৈশ্বিক ব্যবসায়িক চুক্তি গঠনের সুযোগ পাবে।
প্রস্তুতিমূলক সেশন: অংশগ্রহণকারীদের আন্তর্জাতিক মঞ্চের উপযোগী করে তুলতে অভিজ্ঞ উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের সমন্বয়ে দুটি সরাসরি প্রশিক্ষণ সেশন আয়োজন করা হবে। যেখানে ব্যবসার উপস্থাপনা, বিনিয়োগকারীদের সামনে উপস্থাপনা কৌশল এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার প্রস্তুতি বিষয়ে নির্দেশনাবলি দেওয়া হবে।
স্টার্টআপ ওয়ার্ল্ডকাপ বাংলাদেশের প্রোগ্রাম ডিরেক্টর আশিক খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘গত বছর আমরা অত্যন্ত সফলভাবে এই প্রতিযোগিতার বাংলাদেশ পর্ব আয়োজন করেছিলাম এবং দেশের একটি স্টার্টআপ বৈশ্বিক মঞ্চে নিজেদের তুলে ধরেছিল। সেই অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে এবার আরও বড় পরিসরে আয়োজন করা হচ্ছে। আমরা আশা করছি, এই উদ্যোগ দেশের উদ্ভাবনী স্টার্টআপগুলোর জন্য বৈশ্বিক বিনিয়োগ ও আন্তর্জাতিক বাজার উন্মোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
প্রসঙ্গত, গত আসরে ‘রোবো টেকনোলজিস’ বাংলাদেশ অঞ্চলে বিজয়ী হয়ে সান ফ্রান্সিসকোতে বৈশ্বিক চূড়ান্ত পর্বে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছিল।
আগ্রহী প্রতিযোগীরা ২০ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত নিবন্ধন করার সুযোগ পাবেন। প্রতিযোগিতা–সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য এবং নিবন্ধনের জন্য এই ওয়েবসাইটে যেতে হবে।