আইফোন ব্যবহারকারীদের জন্য নতুন সফটওয়্যার হালনাগাদ আইওএস ২৬.৩ প্রকাশ করেছে অ্যাপল। এই সংস্করণে আইফোন ও অ্যান্ড্রয়েড যন্ত্রের মধ্যে তথ্য আদান–প্রদান আরও সহজ করার পাশাপাশি অবস্থানসংক্রান্ত গোপনীয়তা বাড়াতে নতুন কিছু সুবিধা যোগ করা হয়েছে। পাশাপাশি ওয়ালপেপার ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনা হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তাত্রুটি সংশোধন করা হয়েছে। অ্যাপলের তথ্য অনুযায়ী, আইওএস ২৬.৩ আগের সংস্করণ আইওএস ২৬.২–এর তুলনায় ছোট হালনাগাদ হলেও এতে ব্যবহারকারীদের জন্য কয়েকটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন রয়েছে।
আইফোন থেকে অ্যান্ড্রয়েডে স্থানান্তরের নতুন ব্যবস্থা
আইওএস ২৬.৩–এর সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো ‘অ্যান্ড্রয়েড ট্রান্সফার’ নামের নতুন ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে আইফোন ব্যবহারকারীরা আগের তুলনায় সহজে অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনে তথ্য স্থানান্তর করতে পারবেন। অ্যাপল জানিয়েছে, এই প্রযুক্তি তৈরি হয়েছে অ্যাপল ও গুগলের যৌথ উদ্যোগে। একই ধরনের সুবিধা অ্যান্ড্রয়েডের পরীক্ষামূলক সংস্করণেও যুক্ত হয়েছে, যাতে অ্যান্ড্রয়েড থেকে আইফোনে স্থানান্তরপ্রক্রিয়াও সহজ হয়। দুই প্ল্যাটফর্মের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। সেটিংস অ্যাপে অ্যাপল জানিয়েছে, নতুন অ্যান্ড্রয়েড যন্ত্রটি আইফোনের পাশে আনলেই সংযোগ স্থাপন হবে এবং স্থানান্তরপ্রক্রিয়া শুরু করা যাবে। সংযোগ সম্পন্ন হলে ব্যবহারকারীরা তারবিহীনভাবে নতুন ফোনে ছবি, বার্তা, নোট, অ্যাপসহ আরও নানা তথ্য স্থানান্তর করতে পারবেন। ফোন নম্বরও নতুন যন্ত্রে চলে যাবে। তবে অ্যাপল জানিয়েছে, কিছু সংবেদনশীল তথ্য এই প্রক্রিয়ায় স্থানান্তর হবে না। এর মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য, ব্লুটুথ ডিভাইসের তালিকা এবং লক করা নোট। ভবিষ্যতে পরীক্ষামূলক পর্যায় শেষে আরও তথ্য স্থানান্তরের সুযোগ যুক্ত হতে পারে বলে জানিয়েছে অ্যাপল ও গুগল।
অবস্থান গোপনীয়তা নিয়ন্ত্রণে নতুন সুবিধা
আইওএস ২৬.৩–এ ‘লিমিট লোকেশন ডেটা শেয়ারিং’ নামে নতুন একটি গোপনীয়তাবিষয়ক সুবিধা যোগ করেছে অ্যাপল। অ্যাপলের সহায়তা নথিতে বলা হয়েছে, এই সুবিধা চালু করলে মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারেটর ব্যবহারকারীর অবস্থান শনাক্ত করতে যে অতিরিক্ত তথ্য ব্যবহার করতে পারে, তা সীমিত করা সম্ভব হবে।
এর ফলে অপারেটর ব্যবহারকারীর সুনির্দিষ্ট ঠিকানা পাবে না। কেবল আশপাশের এলাকা পর্যন্ত অবস্থান নির্ধারণ করতে পারবে। এই সুবিধা ব্যবহারের জন্য নির্দিষ্ট কিছু যন্ত্র এবং সমর্থিত অপারেটর প্রয়োজন হবে। জার্মানিতে টেলিকম, যুক্তরাজ্যে ইই ও বিটি, যুক্তরাষ্ট্রে বুস্ট মোবাইল এবং থাইল্যান্ডে এআইএস ও ট্রু অপারেটর এই সুবিধা সমর্থন করবে। সেটিংস থেকে এটি চালু করতে যেতে হবে সেলুলার, এরপর সেলুলার ডেটা অপশনস অংশে। সেখানে নতুন টগলটি পাওয়া যাবে।
ইউরোপের জন্য বাড়তি কিছু পরিবর্তন
ইউরোপীয় ইউনিয়ন জানিয়েছে, আইওএস ২৬.৩ সংস্করণে ইউরোপের ব্যবহারকারীদের জন্য আরও কিছু নতুন সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে তৃতীয় পক্ষের ডিভাইসের জন্য এয়ারপডসের মতো কাছাকাছি এনে সংযোগ স্থাপনের সুযোগ এবং ডিভাইস থেকে ডিভাইসে দ্রুতগতির ওয়াই-ফাই সংযোগ ব্যবস্থা।
ইউরোপীয় কমিশনের মতে, ডিজিটাল মার্কেটস আইন বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এসব পরিবর্তন ইউরোপে নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনের সুযোগ তৈরি করবে। এসব সুবিধা পূর্ণাঙ্গভাবে ২০২৬ সালের মধ্যে চালু হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে পরীক্ষামূলক সংস্করণে থাকা তৃতীয় পক্ষের ডিভাইসে আইফোনের নোটিফিকেশন পাঠানোর সুবিধাটি চূড়ান্ত সংস্করণে রাখা হয়নি।
ওয়ালপেপার বিভাগে পরিবর্তন
আইওএস ২৬.৩–এ ওয়ালপেপার মেনুতেও সামান্য পরিবর্তন এনেছে অ্যাপল। আগে ওয়েদার ও অ্যাস্ট্রোনমি ওয়ালপেপার একসঙ্গে একটি বিভাগে ছিল। নতুন সংস্করণে সেটি ভাগ করে দুটি আলাদা বিভাগ করা হয়েছে। পাশাপাশি ওয়েদার বিভাগে কয়েকটি নতুন প্রস্তুত ওয়ালপেপার যুক্ত করা হয়েছে, যা ব্যবহারকারীর অবস্থান অনুযায়ী বাস্তব সময়ের আবহাওয়ার সঙ্গে মিল রেখে পরিবর্তিত হবে।
নিরাপত্তাত্রুটি সমাধান
আইওএস ২৬.৩ সংস্করণে ৩৫টির বেশি নিরাপত্তার দুর্বলতা সমাধান করা হয়েছে। অ্যাপল জানিয়েছে, এর মধ্যে অন্তত একটি ত্রুটি বাস্তবে সাইবার আক্রমণে ব্যবহৃত হয়েছিল।
কীভাবে হালনাগাদ করবেন
আইফোনে আইওএস ২৬.৩ সংস্করণ হালনাগাদ করতে যেতে হবে সেটিংস অ্যাপে। সেখানে জেনারেল অপশনে গিয়ে সফটওয়্যার আপডেট অংশ থেকে নতুন সংস্করণটি ইনস্টল করা যাবে।
সূত্র: নাইন টু ফাইভ ম্যাক ডটকম