ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিক্ষয় রোগ হলে মানুষের স্মৃতিশক্তি, চিন্তাশক্তি ও কাজকর্ম করার ক্ষমতা ক্রমেই কমে আসে। আর তাই ডিমেনশিয়া রোগের কার্যকর চিকিৎসাপদ্ধতি আবিষ্কারের জন্য কয়েক দশক ধরেই গবেষণা করছেন বিজ্ঞানীরা। সম্প্রতি ডিমেনশিয়া রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের দৈনন্দিন জীবন সহজ করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর (এআই) স্মার্ট চশমা তৈরি করেছে লন্ডনভিত্তিক প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান ক্রসসেন্স। আশপাশের বস্তু শনাক্ত করে ব্যবহারকারীর চশমার কাচে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদর্শনের পাশাপাশি শব্দের মাধ্যমে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দিতে পারে স্মার্ট চশমাটি।
চশমাটি মূলত ডিমেনশিয়ার প্রাথমিক পর্যায়ের রোগীদের জন্য উপযোগী করে নকশা করা হয়েছে। এটি ব্যবহারকারীর আশপাশের পরিবেশ বিশ্লেষণ করে ধাপে ধাপে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়। ফলে রান্না, ওষুধ গ্রহণ বা ঘরের অন্যান্য নিয়মিত কাজ সম্পন্ন করা তুলনামূলক সহজ হয়ে ওঠে। পরীক্ষামূলক ব্যবহারে চশমাটির কার্যকারিতার ইতিবাচক প্রমাণ মিলেছে। আর তাই শিগগিরই যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবায় (এনএইচএস) এর ব্যবহার শুরু হতে পারে।
স্মার্ট চশমাটি ব্যবহার করে ডিমেনশিয়া রোগীদের প্রতি চারজনের তিনজনই জানিয়েছেন, চশমাটি তাঁদের দৈনন্দিন জীবনে উল্লেখযোগ্য উন্নতি এনেছে এবং আত্মনির্ভরতা বাড়াতে সহায়তা করেছে। মাত্র ৭৫ গ্রাম ওজনের এই চশমায় পাওয়ারযুক্ত লেন্স সংযোজনের সুযোগ রয়েছে। এটি শ্রবণযন্ত্রের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। চশমাটির ব্যাটারি এক ঘণ্টা পর্যন্ত কার্যকর থাকে। তবে পোর্টেবল পাওয়ার ব্যাংকের মাধ্যমে এটি দীর্ঘ সময় ব্যবহার করা সম্ভব।
চশমাটিতে ‘উইস্পি’ নামের এআই সহকারী যুক্ত করা রয়েছে। এই এআই সহকারী ব্যবহারকারীর সঙ্গে কথোপকথনের মাধ্যমে তাঁর অভ্যাস, পছন্দ ও কাজের ধরন পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় তথ্য মনে করিয়ে দেয়।
শিখে নিতে পারে। রোগের অগ্রগতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই সহকারী নিজেকে ক্রমাগত মানিয়ে নিতে পারে, ফলে ব্যবহারকারী পান আরও ব্যক্তিকেন্দ্রিক সহায়তা। দক্ষিণ লন্ডনের সাটনের বাসিন্দা ৭০ বছর বয়সী ক্যারোল গ্রেগ ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত। এই প্রযুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে তিনি আশাবাদী। তিনি বলেন, ‘রোগ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের পৃথিবীটা ক্রমশ ছোট হয়ে আসে। এই ধরনের উদ্ভাবন আমাদের বাঁচার নতুন আশা দেখায়।’
সূত্র: ডেইলি মেইল