বিশ্ববাজারে পিসি সরবরাহ কমেছে
বিশ্ববাজারে পিসি সরবরাহ কমেছে

বিশ্বে পারসোনাল কম্পিউটারের সরবরাহ কমেছে ২০ শতাংশ

বিশ্ববাজারে পারসোনাল কম্পিউটার (পিসি) সরবরাহে বড় ধরনের পতন দেখা দিয়েছে। ২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই–সেপ্টেম্বর) বিশ্বজুড়ে পিসি সরবরাহ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২০ দশমিক ১ শতাংশ কমেছে। বাজার গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ডেটা করপোরেশনের (আইডিসি) প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এ সময়ে বিশ্ববাজারে পিসি সরবরাহ হয়েছে ৬ কোটি ২৭ লাখ ইউনিট। গত বছরের একই সময়ে সরবরাহ করা হয়েছিল ৭ কোটি ৮৫ লাখ ইউনিট।

সাধারণত বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে পিসির চাহিদা বাড়ে। নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর প্রস্তুতি ও উৎসবের মৌসুমকে কেন্দ্র করে এ সময় অনেকেই নতুন ল্যাপটপ ও ডেস্কটপ কম্পিউটার কেনেন। তবে চলতি বছর সেই চিত্র দেখা যায়নি; বরং বছরের প্রথমার্ধে আগাম পণ্য মজুত, কম্পিউটারের যন্ত্রাংশের মূল্যবৃদ্ধি এবং উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ার প্রভাবে বাজারে সরবরাহ কমেছে।

আইডিসির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল–জুন) পিসি সরবরাহ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ৮ শতাংশ কমেছিল। দ্বিতীয় প্রান্তিকের তুলনায় তৃতীয় প্রান্তিকে সরবরাহ কমেছে আরও ৯ দশমিক ১ শতাংশ। সাধারণত দ্বিতীয় প্রান্তিকের তুলনায় তৃতীয় প্রান্তিকে পিসি সরবরাহ বাড়ে। এবার সেই প্রবণতার ব্যতিক্রম ঘটেছে। বাজারের এই পরিস্থিতির অন্যতম কারণ হিসেবে আগাম পণ্য কেনার প্রবণতাকে চিহ্নিত করেছেন বিশ্লেষকেরা। তাঁরা একে বলছেন, ‘পুল–ইন হ্যাংওভার’। অর্থাৎ ভবিষ্যতে দাম বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কায় আগেভাগে বেশি পণ্য কিনে মজুত করার পর বাজারে তার যে প্রভাব পড়ে। বছরের শুরুতে কম্পিউটারের বিভিন্ন যন্ত্রাংশের দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করেছিলেন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ও বিক্রেতারা। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মেমোরি ও তথ্য সংরক্ষণের যন্ত্রাংশের দাম বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হয়েছিল। সম্ভাব্য মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব এড়াতে বছরের প্রথম ছয় মাসেই তাঁরা বিপুল পরিমাণ ল্যাপটপ ও ডেস্কটপের অর্ডার দেন।

এর ফলে এখন বিক্রেতাদের গুদামে অবিক্রীত পণ্যের মজুত বেড়েছে। আগে কেনা এসব পণ্য বিক্রি না হওয়া পর্যন্ত নতুন করে পিসি আনার অর্ডার দিতে চাইছেন না তাঁরা। ফলে কারখানা থেকে নতুন কম্পিউটার সরবরাহের পরিমাণও কমে গেছে। আইডিসির ভোক্তা প্রযুক্তিপণ্যবিষয়ক গবেষণা পরিচালক জিতেশ উব্রানি বলেন, বছরের প্রথমার্ধে আগাম পণ্য মজুতের প্রভাবই এখন বাজারে দেখা যাচ্ছে। দাম বাড়ার আশঙ্কায় নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ও বিক্রেতারা আগেভাগে বিপুল পরিমাণ পণ্য কিনে রেখেছিলেন। এতে পিসি বাজারের স্বাভাবিক বিক্রির ধারায় ব্যাঘাত ঘটেছে। সাধারণত বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে দ্বিতীয় প্রান্তিকের তুলনায় পিসি সরবরাহ বেশি থাকে।

এদিকে কম্পিউটারের যন্ত্রাংশের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচও বাড়ছে। এর প্রভাব পড়ছে নতুন পিসির দামে। ফলে বাড়তি দামের কারণে অনেক ক্রেতা নতুন কম্পিউটার কেনার সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিতে পারেন। এতে বাজারে চাহিদা আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পিসি বাজারের মন্দার প্রভাব পড়েছে প্রায় সব বড় ব্র্যান্ডের ওপর। তবে প্রতিষ্ঠানভেদে সরবরাহ কমার হার আলাদা। আইডিসির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে এইচপির পিসি সরবরাহ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩০ দশমিক ৯ শতাংশ কমেছে। ডেলের সরবরাহ কমেছে ২৫ শতাংশ। বাজারের শীর্ষস্থানীয় ব্র্যান্ড লেনোভোর সরবরাহ কমেছে ২২ দশমিক ৬ শতাংশ।

অন্যদিকে অ্যাপল ও আসুসের সরবরাহ তুলনামূলক কম হারে কমেছে। এ সময়ে অ্যাপলের পিসি সরবরাহ কমেছে ১১ দশমিক ৩ শতাংশ এবং আসুসের ৮ দশমিক ৬ শতাংশ। ফলে সরবরাহে পতন হলেও এই দুই ব্র্যান্ড অন্য বড় নির্মাতাদের তুলনায় কিছুটা ভালো অবস্থানে রয়েছে।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে