ফোর্বসের শীর্ষ ধনীর তালিকায় প্রযুক্তি খাতের ব্যবসায়ীরাই রাজত্ব করছেন
ফোর্বসের শীর্ষ ধনীর তালিকায় প্রযুক্তি খাতের ব্যবসায়ীরাই রাজত্ব করছেন

ফোর্বসের শীর্ষ ধনীর তালিকায় শীর্ষ ১০–এর মধ্যে ৭ জনই প্রযুক্তি জগতের

ধনী হওয়ার জন্য নাকি ২০২৬ সালের চেয়ে ভালো সময় আগে কখনো আসেনি। ফোর্বস ম্যাগাজিন এমনটাই মনে করছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির জয়জয়কার বিশ্বজুড়ে। চাঙ্গা বাজার পরিস্থিতি এবং সহায়ক আর্থিক নীতি এতে বড় ভূমিকা রেখেছে। এসবের ওপর ভর করে এ বছর ফোর্বসের বিশ্বসেরা ধনীদের তালিকায় রেকর্ডসংখ্যক ব্যক্তি জায়গা করে নিয়েছেন।

চলতি বছর বিশ্বের ধনকুবেরের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৪২৮ জনে। গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের চেয়ে এই সংখ্যা ৪০০ জন বেশি। তাঁদের মোট সম্পদের পরিমাণও রেকর্ড গড়েছে। বর্তমানে এসব ধনীর সম্পদের মোট মূল্য ২০ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলার। গত বছরের তুলনায় এটি চার ট্রিলিয়ন ডলার বেশি। এই তালিকায় সবচেয়ে বেশি ধনী রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটির ৯৮৯ জন তালিকায় আছেন। শীর্ষ ২০ জনের মধ্যে ১৫ জনই আমেরিকান। এরপর আছে চীন ও ভারত। ১ মার্চ ২০২৬ তারিখের শেয়ার বাজার ও মুদ্রার বিনিময় হারের ওপর ভিত্তি করে এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে।

প্রযুক্তি খাতের ব্যবসায়ীরাই মূলত এই তালিকায় রাজত্ব করছেন। তালিকার শীর্ষ ১০ জনের মধ্যে ৭ জনই সরাসরি প্রযুক্তি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। ফোর্বসের ২০২৬ সালের তালিকায় সবার ওপরে দেখা যায় ইলন মাস্ককে। তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ ৮৩৯ বিলিয়ন ডলার। বর্তমানে তাঁর বয়স ৫৪ বছর। মাস্ক মোট সাতটি কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা টেসলা এবং রকেট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স। এ ছাড়া তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কাজ করা স্টার্টআপ এক্সএআইয়ের সহপ্রতিষ্ঠাতা।

তালিকার দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানটি দখল করে আছেন গুগলের দুই প্রতিষ্ঠাতা। দ্বিতীয় স্থানে আছেন ল্যারি পেজ। তাঁর সম্পদের পরিমাণ ২৫৭ বিলিয়ন ডলার। তিনি ২০১৯ সালে গুগলের মূল কোম্পানি অ্যালফাবেটের প্রধান নির্বাহী পদ থেকে সরে দাঁড়ান। তবে বর্তমানে তিনি বোর্ড সদস্য এবং কোম্পানির নিয়ন্ত্রক শেয়ারহোল্ডার। ঠিক একই অবস্থানে থেকে তালিকার তৃতীয় স্থানে আছেন সের্গেই ব্রিন। তাঁর মোট সম্পদ ২৩৭ বিলিয়ন ডলার। ব্রিনও ২০১৯ সালে অ্যালফাবেটের প্রেসিডেন্টের পদ ছেড়েছেন। ল্যারি পেজের মতো তিনিও কোম্পানির গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। ৫২ বছর বয়সী এই দুই বন্ধু প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ সম্পদশালী ব্যক্তিদের অন্যতম।

তালিকার ৪ নম্বরে আছেন ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস। তাঁর সম্পদের পরিমাণ ২২৪ বিলিয়ন ডলার। ১৯৯৪ সালে তিনি সিয়াটলে নিজের গ্যারেজ থেকে অ্যামাজন শুরু করেছিলেন। বর্তমানে তাঁর বয়স ৬২ বছর। ৫ নম্বর অবস্থানে আছেন মেটার প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ। ৪১ বছর বয়সী জাকারবার্গের সম্পদের পরিমাণ ২২২ বিলিয়ন ডলার। ২০০৪ সালে মাত্র ১৯ বছর বয়সে তিনি ফেসবুক চালু করেছিলেন। তখন এটি ছিল কেবল শিক্ষার্থীদের জন্য একটি নেটওয়ার্ক।

সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান ওরাকলের সহপ্রতিষ্ঠাতা ল্যারি এলিসন আছেন তালিকার ৬ নম্বরে। তাঁর সম্পদের পরিমাণ ১৯০ বিলিয়ন ডলার। ৮১ বছর বয়সী এই ধনকুবের তাঁর কোম্পানির প্রায় ৪০ শতাংশ শেয়ারের মালিক। বর্তমানে তিনি ওরাকলের চেয়ারম্যান ও প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তালিকার ৮ নম্বর অবস্থানে আছেন জেনসেন হুয়াং। তাঁর সম্পদের পরিমাণ ১৫৪ বিলিয়ন ডলার। গ্রাফিকস চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়ার সহপ্রতিষ্ঠাতা তিনি। ১৯৯৩ সালে এটি প্রতিষ্ঠার পর তিনি এর প্রধান নির্বাহী ও প্রেসিডেন্ট হিসেবে কাজ করছেন। বর্তমানে তাঁর বয়স ৬৩ বছর। এআই চিপের ক্রমবর্ধমান চাহিদাই তাঁকে এই উচ্চতায় নিয়ে এসেছে।

প্রযুক্তির এই জয়যাত্রা থেকে স্পষ্ট যে আগামী দিনে ধনকুবেরদের তালিকায় নতুন নতুন নাম যুক্ত হবে। বিশেষ করে যাঁরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং সেমিকন্ডাক্টর শিল্প নিয়ে কাজ করছেন, তাঁদের এগিয়ে থাকার সম্ভাবনা অনেক বেশি বলে মনে করছে ফোর্বস।

সূত্র: ফোর্বস