
গণিতের দুনিয়ায় ১.৬১৮ সংখ্যাটি গোল্ডেন রেশিও নামে পরিচিত। এ সংখ্যাটি প্রকৃতির সেই জাদুকরি সংখ্যা, যা ফুলের পাপড়ি থেকে শুরু করে মহাবিশ্বের গ্যালাক্সির মতো সবকিছুর নকশায় লুকিয়ে আছে। এমন সব রহস্য নিয়ে রাজধানীর ফরিদাবাদে বাংলাদেশ ব্যাংক আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ে গতকাল শনিবার এক কর্মশালার আয়োজন করেছিল বিদ্যালয়টির বিজ্ঞান ও গণিত ক্লাব।
দিনব্যাপী এই কর্মশালায় শিক্ষার্থীদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার গাণিতিক ভিত্তি, রাতের আকাশে তারা চেনার পদ্ধতির পাশাপাশি গণিত অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণের খুঁটিনাটি কৌশল শেখানো হয়। কর্মশালায় বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত সহকারী প্রধান শিক্ষক সুভাষ চন্দ্র রায় বলেন, শুধু পাঠ্যবইয়ের ভেতর সীমাবদ্ধ না থেকে বিশ্বকে জানতে হলে বিজ্ঞান ও গণিতের চর্চা বাড়াতে হবে। বিজ্ঞান ও গণিত ক্লাবের সভাপতি মমতাজ বেগম বলেন, শিক্ষার্থীদের ভেতরে যে সুপ্ত প্রতিভা ও অনুসন্ধিৎসু মন রয়েছে, তা এ ধরনের কর্মশালার মাধ্যমে বিকশিত হয়।
কর্মশালা পরিচালনা করেন বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটির একাডেমিক কাউন্সিলর জাহিদ হোসাইন খান। তিনি সহজ ভাষায় গণিতের জটিল বিষয়গুলো উপস্থাপনের পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই কীভাবে গণিতের ওপর ভিত্তি করে কাজ করে, তা তুলে ধরনে। তিনি জানান, গণিত কোনো মুখস্থ করার বিষয় নয়, এটি চিন্তার একটি ভাষা। গণিত অলিম্পিয়াডের মতো প্রতিযোগিতায় অংশ নিলে শিক্ষার্থীদের লজিক্যাল থিঙ্কিং বা যৌক্তিক চিন্তাভাবনার বিকাশ ঘটে। বর্তমান যুগে আমরা যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করছি, তার নেপথ্যের মূল চালিকা শক্তি হচ্ছে গণিত। তাই ভবিষ্যৎ পৃথিবীর নেতৃত্ব দিতে হলে আমাদের শিক্ষার্থীদের এখন থেকেই গণিত, এআই এবং মহাকাশবিজ্ঞানের মতো বিষয়ে দক্ষ হয়ে উঠতে হবে।
কর্মশালা শেষে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী জুনায়রা বিনতে ওয়াসিম জানায়, গণিত ও বিজ্ঞানকে যে এত চমৎকার এবং মজার উপায়ে জানা সম্ভব, তা এই কর্মশালায় না এলে বুঝতাম না। বিশেষ করে আকাশে তারা দেখা আর গাছ চেনার কৌশলগুলো আমার খুব ভালো লেগেছে।