শিল্পীর কল্পনায় ডাইনোসর
শিল্পীর কল্পনায় ডাইনোসর

টি-রেক্স ডাইনোসর নিয়ে নতুন তথ্য

বিখ্যাত ডাইনোসর টাইরানোসরাস রেক্স বা টি-রেক্সের বৃদ্ধি ও আয়ু নিয়ে নতুন তথ্য জানিয়েছেন বিজ্ঞানী। ফসিল হাড়ের কোষীয় পর্যায়ের বিশ্লেষণের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, এই দানবীয় প্রাণীরা আগে যা ভাবা হতো তার চেয়ে অনেক দ্রুত বেড়ে উঠত। তাদের গড় আয়ুও ছিল ধারণার চেয়ে কম। ১৭টি টি-রেক্স প্রজাতির হাড়ের নমুনার ওপর হিস্টোলজিক্যাল বিশ্লেষণ চালিয়ে বিজ্ঞানীরা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন। এই গবেষণা মূলত অনুমানের চেয়ে বরং হাড়ের প্রকৃত কাঠামোগত রেকর্ডের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে। নতুন এ তথ্য টি-রেক্স ডাইনোসরের বেড়ে ওঠা ও আয়ু সম্পর্কে প্রচলিত বৈজ্ঞানিক ধারণাগুলোতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিজ্ঞানীদের তথ্যমতে, টি-রেক্স ডাইনোসর যখন বেঁচে ছিল, তখন তার হাড় সব সময় সমানভাবে বাড়ত না। খাদ্যের প্রাপ্যতা বা ঋতু পরিবর্তনের কারণে প্রতিবছর হাড়ের বৃদ্ধি একবার থমকে যেত। এই বিরতির ফলে হাড়ের ভেতর তৈরি হতো অত্যন্ত সূক্ষ্ম রেখা। একে বলা হয় লাইন অব অ্যারেস্টেড গ্রোথ বা গ্রোথ রিং। লাখ লাখ বছর পর এই হাড়গুলো যখন ফসিলে রূপান্তরিত হয়, তখন শরীরের ওজন বহনকারী হাড় থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়েছে। প্রতিটি দৃশ্যমান রিং নির্দেশ করে ডাইনোসরটির জীবনের এক একটি বছর। রিংয়ের মধ্যবর্তী ব্যবধান দেখে বোঝা যায় বৃদ্ধির গতি। বেশি ফাঁকা মানে দ্রুত বৃদ্ধি, আর ঘন রেখা মানে ধীরগতি।

গবেষণায় দেখা গেছে, টি-রেক্স ডাইনোসর কিশোর বয়সে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে বেড়ে উঠত। এই সময়ে তাদের বৃদ্ধির হার ছিল অকল্পনীয়। এর ফলে তারা প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার অনেক আগেই পূর্ণ আকৃতি ধারণ করত। আগে ধারণা করা হতো, তারা অনেক দীর্ঘ সময় ধরে বেড়ে ওঠে। নতুন তথ্য বলছে, তাদের এই গ্রোথ স্পার্ট বা আকস্মিক বৃদ্ধি ছিল স্বল্পস্থায়ী কিন্তু অত্যন্ত তীব্র। এই দ্রুত বৃদ্ধির ফলে তাদের শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া বা মেটাবলিজম নিয়েও নতুন করে ভাবতে হচ্ছে বিজ্ঞানীদের। দ্রুত বেড়ে ওঠার এই বৈশিষ্ট্য প্রমাণ করে যে টি-রেক্সদের শরীরী গঠন এবং শক্তি অর্জনের প্রক্রিয়া ছিল অত্যন্ত কার্যকর।

টি-রেক্সের গড় আয়ু নিয়েও চমকপ্রদ তথ্য পাওয়া গেছে। প্রাপ্ত উপাত্ত অনুযায়ী, টি-রেক্স ডাইনোসরকে যতটা দীর্ঘজীবী বলে আগে ভাবা হতো, বাস্তবে তাদের গড় আয়ু ছিল অনেক কম। দ্রুত বৃদ্ধি ও বিশাল শরীরের কারণে সম্ভবত তাদের জীবনের মেয়াদ সংক্ষিপ্ত হতো। যদিও হাড়ের রিং পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় কখনো কখনো কিছু রেখা মুছে যেতে পারে, তবে অনেক ফসিল ও সমগোত্রীয় প্রজাতির সঙ্গে তুলনা করে বিজ্ঞানীরা এই হিসাবকে অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য বলে দাবি করছেন। এই গবেষণা কেবল টি-রেক্সের জীবন নয়; বরং ডাইনোসরদের বিবর্তন আর মেটাবলিজম সংক্রান্ত অমীমাংসিত অনেক প্রশ্নের উত্তর দিতে সাহায্য করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া