ডাব
ডাব

নারকেলের ভেতরে পানি আসে কোথা থেকে

নারকেলকে দেখে খুব সাধারণ গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ফল মনে হতে পারে। যদিও এর গঠন ও কার্যপ্রণালি প্রকৃতির এক বিস্ময়কর রহস্য বলা যায়। ডাবের ভেতরের সুপেয় পানি আসলে একটি নতুন প্রাণকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য তৈরি করা হয়। নারকেলগাছের প্রতিটি ফল বা ডাব একাধিক স্তরে গঠিত, যা একটি বিকাশমান বীজকে সুরক্ষা ও পুষ্টি দেয়। শক্ত বাইরের খোসা থেকে শুরু করে ভেতরের স্বচ্ছ পানিসহ সব অংশেরই নির্দিষ্ট কাজ রয়েছে।

ডাবের বাইরের স্তরটি বেশ পুরু ও তন্তুময়। এটি ফলটিকে উঁচু গাছ থেকে পড়ে যাওয়া ও সমুদ্রে ভাসমান অবস্থায় টিকে থাকতে সাহায্য করে। নারকেলের শক্ত খয়েরি রঙের মালা বা শেল যা ভেতরের অংশকে বাইরের আঘাত থেকে রক্ষা করে। ডাব বা নারকেল বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এর ভেতরে পানি প্রাকৃতিকভাবেই তৈরি হয়। উদ্ভিদবিজ্ঞানের ভাষায়, ডাবের পানি বীজের খাদ্য সরবরাহের একটি তরল রূপ। ডাব যখন বাড়তে শুরু করে তখন অসমোসিস বা অভিস্রবণ নামক প্রক্রিয়ায় গাছ থেকে পানি ফলের ভেতরে প্রবেশ করে। অসমোসিস এমন একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া, যেখানে পানি একটি পর্দার মধ্য দিয়ে অধিক ঘনত্বের দিক থেকে কম ঘনত্বের দিকে প্রবাহিত হয়।

কচি ডাবের ভেতরে শর্করা, খনিজ ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান জমা হয়। এর ফলে ডাবের ভেতরের ও বাইরের টিস্যুর মধ্যে ঘনত্বের পার্থক্য তৈরি হয়। নারকেলগাছের মূল মাটি থেকে পানি সংগ্রহ করে। পরে গাছের কাণ্ড দিয়ে ওপরে উঠে বিকাশমান ফলের কাছে পৌঁছায়। সেখানেই এই পানি ডাবের সুপেয় পানিতে রূপান্তরিত হয়। একটি কচি ডাবে পানির পরিমাণ বেশি থাকে এবং শাঁস বা নরম অংশ থাকে খুব সামান্য। ডাব যত পরিপকক্ব হয় ভেতরের সেই পানির কিছু অংশ ধীরে ধীরে সাদা শাঁস বা নারকেলে পরিণত হতে শুরু করে। এমনকি নারকেল পুরোপুরি পেকে গেলেও তার ভেতরে কিছুটা পানি অবশিষ্ট থাকে, যা বীজটি অঙ্কুরোদ্‌গমের সময় পুষ্টি জোগায়।

ডাবের পানি স্বচ্ছ ও পানের জন্য নিরাপদ হওয়ার কারণ হলো এটি শক্ত খোলসের ভেতরে ‘সিলগালা’ অবস্থায় থাকে। ডাবটি কাটার আগপর্যন্ত এর ভেতরের অংশ সম্পূর্ণ জীবাণুমুক্ত বা স্টেরাইল থাকে। এতে থাকা প্রাকৃতিক শর্করা ও খনিজ উপাদান কেবল কচি চারাগাছকে পুষ্টি দেয় না, বরং তৃষ্ণার্ত মানুষকেও সতেজতা প্রদান করে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া