মঙ্গল গ্রহে সন্ধান পাওয়া ডোরাকাটা পাথর
মঙ্গল গ্রহে সন্ধান পাওয়া ডোরাকাটা পাথর

মঙ্গল গ্রহে জেব্রার মতো ডোরাকাটা পাথরটি কোথা থেকে এল

মঙ্গল গ্রহে জেব্রার শরীর সদৃশ অদ্ভুত এক ডোরাকাটা পাথরের সন্ধান বেশ আগেই পেয়েছে নাসার পারসিভিয়ারেন্স রোভার। মঙ্গল গ্রহের জেজেরো ক্রেটার নামের গহ্বরের ঢালে পাওয়া এই ডোরাকাটা পাথরটি সরাসরি পর্যবেক্ষণের সুযোগ না মেলায় পাথরটি কোথা থেকে এসেছে, তা জানার জন্য ব্যাপক কৌতূহল রয়েছে বিজ্ঞানী ও মহাকাশপ্রেমীদের মধ্যে।

২০২৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর পারসিভিয়ারেন্স রোভার যখন জেজেরো ক্রেটারের কিনারা ধরে ধীরে ধীরে ওপরে উঠছিল, তখন সাদা-কালো ডোরাকাটা পাথরটির ছবি তোলা হয়। বিজ্ঞানীরা অনানুষ্ঠানিকভাবে পাথরটির নাম দিয়েছেন ফ্রেয়া ক্যাসল। পাথরটির গড়ন পর্যালোচনা করে মঙ্গল গ্রহের প্রাথমিক ইতিহাস জানা যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নাসার তথ্যমতে, ফ্রেয়া ক্যাসল পাথরটি এই অঞ্চলে আগে দেখা যাওয়া অন্যান্য শিলার চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। প্রাথমিক ছবিগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, প্রায় ২০ সেন্টিমিটার চওড়া পাথরটির গায়ে কালো এবং সাদা স্ট্রাইপ বা ব্যান্ড রয়েছে। জেজেরো ক্রেটারে আগে যত পাথর নিয়ে গবেষণা হয়েছে, তার কোনোটির সঙ্গেই এই পাথরের মিল নেই। রোভারটি যখন নুড়িপাথরযুক্ত একটি সমতল এলাকা অতিক্রম করছিল, তখন এর নেভিগেশন ক্যামেরায় প্রথম পাথরটি ধরা পড়ে।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, কেবল বাহ্যিক সাদৃশ্য দেখে পাথরটির উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়।

বিজ্ঞানীদের ধারণা, এই ডোরাকাটা দাগ আগ্নেয় বা সম্ভবত রূপান্তরিত প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। পৃথিবীতে সাধারণত তাপ এবং চাপের প্রভাবে খনিজ আলাদা হয়ে গেলে বা গলিত শিলা পর্যায়ক্রমে ঠান্ডা হলে এই ধরনের ব্যান্ড বা স্তরের সৃষ্টি হয়। মঙ্গল গ্রহেও একই ধরনের কোনো ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়া ঘটেছিল কি না, তা এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ফ্রেয়া ক্যাসল পাথরটি মঙ্গল গ্রহের মূল শিলাস্তরের অংশ নয়। এটি একটি আলগা পাথর। এর অর্থ হলো, পাথরটি অন্য কোনো জায়গা থেকে গড়িয়ে এখানে এসেছে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া