বিজ্ঞানীরা যখন পর্যায় সারণির সীমানা ছাড়িয়ে আরও ভারী মৌলের সন্ধান করছিলেন, তখন জার্মানির বিজ্ঞানী পিটার আর্মব্রাস্টার এবং গটফ্রিড মুনজেনবার্গের নেতৃত্বে জিএসআইয়ের একদল বিজ্ঞানী প্রথমবারের মতো আবিষ্কার করেন ১০৮ নম্বর মৌল হ্যাসিয়াম। তখন জার্মানির বিজ্ঞানীরা তাঁদের গবেষণাগার যে এলাকায় অবস্থিত, সেই হেস রাজ্যের লাতিন নাম হ্যাসিয়া থেকে মৌলটির নাম রাখেন হ্যাসিয়াম। ১৯৮৪ সালে আবিষ্কৃত হলেও ১৯৯৭ সালে আইইউপিএসি কর্তৃক নামটি আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করা হয়।
হ্যাসিয়াম পর্যায় সারণির ট্রান্সইউরেনিয়াম বা অতিভারী মৌলসমূহের অন্তর্ভুক্ত। পর্যায় সারণিতে এর অবস্থান অনুযায়ী ধারণা করা হয়, এর রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য বিরল ধাতু অসমিয়ামের মতো হবে। বর্তমানে হ্যাসিয়ামের ১৫টি পরিচিত আইসোটোপ রয়েছে (ভর সংখ্যা ২৬৩ থেকে ২৭৭)। এর মধ্যে আইসোটোপ-২৭৬ সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী, যার অর্ধায়ু প্রায় ১.১ ঘণ্টা। প্রকৃতিতে এর কোনো অস্তিত্ব নেই এবং এখন পর্যন্ত এটি ব্যবহারের কোনো ক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়নি। এটি শুধু উচ্চতর বৈজ্ঞানিক গবেষণার কাজে ব্যবহার করা হয়।
বিজ্ঞানী পিটার আর্মব্রাস্টার এবং গটফ্রিড মুনজেনবার্গের নেতৃত্বে জিএসআইয়ের বিজ্ঞানীরা হ্যাসিয়াম মৌল শনাক্তের জন্য প্রথমে লেড-২০৮ পরমাণুকে আয়রন-৫৮ আয়ন দিয়ে আঘাত করে একটি ফিউশন বিক্রিয়া ঘটান। এর ফলে তৈরি হয় হ্যাসিয়ামের ২৬৫ ভরের একটি আইসোটোপ। এই আইসোটোপ ছিল অত্যন্ত অস্থির, যার অর্ধায়ু ছিল মাত্র ২ মিলিসেকেন্ড।
হ্যাসিয়াম তৈরির চেষ্টা অবশ্য আরও আগে শুরু হয়েছিল। ১৯৭৮ সালে রাশিয়ার দুবনায় অবস্থিত জয়েন্ট ইনস্টিটিউট ফর নিউক্লিয়ার রিসার্চে ইউরি ওগানেসিয়ান এবং ভ্লাদিমির উতিয়নকভের নেতৃত্বে একটি দল রেডিয়ামের ওপর ক্যালসিয়াম দিয়ে আঘাত করে এই মৌল তৈরির চেষ্টা করেন। ১৯৮৩ সালে তাঁরা বিসমাথের ওপর ম্যাঙ্গানিজ এবং ক্যালিফোর্নিয়ামের ওপর নিয়ন প্রবেশ করিয়ে আরও কিছু আইসোটোপ তৈরির দাবি করেন।
পরবর্তী সময়ে এ জি ডেমিন এবং রাশিয়ার অন্যান্য বিজ্ঞানীরা হ্যাসিয়ামের ২৬৩ ও ২৬৪ ভরের আইসোটোপের অস্তিত্বের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তবে জার্মানির জিএসআই দলটির দেওয়া তথ্য ও প্রমাণ অনেক বেশি নির্ভরযোগ্য বলে স্বীকৃত হয়। ফলে আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী তাদেরকেই মৌলটির নামকরণের অধিকার দেওয়া হয়।
সূত্র: ব্রিটানিকা