
সার উৎপাদন থেকে শুরু করে প্লাস্টিক ও বিস্ফোরক তৈরির জন্য অ্যামোনিয়া এক অপরিহার্য রাসায়নিক। কিন্তু এই অ্যামোনিয়া উৎপাদনের ফলে প্রতিবছর বায়ুমণ্ডলে বিপুল পরিমাণ গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গত হয়। এ সমস্যার সমাধানে দক্ষিণ কোরিয়ার একদল বিজ্ঞানী অ্যামোনিয়া উৎপাদনের নতুন এক পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন। নতুন এ পদ্ধতি প্রচলিত পদ্ধতির চেয়ে অনেক বেশি সাশ্রয়ী এবং পরিবেশবান্ধব উপায়ে অ্যামোনিয়া উৎপাদন করতে পারে।
বর্তমানে বিশ্বজুড়ে অ্যামোনিয়া উৎপাদনের জন্য হেবার-বস পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। তবে দক্ষিণ কোরিয়ার জিওনবুক ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক সুংহিউন চোর নেতৃত্বে একদল বিজ্ঞানী অতি উচ্চ তাপ ও চাপের প্রয়োজনীয়তা কমিয়ে এনেছেন কেমিক্যাল লুপিং নামক এক পদ্ধতির মাধ্যমে। এতে কঠিন পদার্থের অণু বিক্রিয়ক হিসেবে কাজ করে ও বারবার ব্যবহৃত হয়। এ বিষয়ে বিজ্ঞানী চো বলেন, ‘আমাদের এই প্রযুক্তি সেই সব শিল্পকারখানায় অনায়াসেই প্রয়োগ করা সম্ভব, যেখানে বড় পরিসরে সাশ্রয়ী মূল্যে অ্যামোনিয়া উৎপাদন করা প্রয়োজন।’
ডুয়াল-লুপিং প্রযুক্তিতে নাইট্রোজেন ও হাইড্রোজেনকে অতি উচ্চ চাপে ও তাপে বিক্রিয়া করানোর জন্য প্রয়োজন হয় বিপুল পরিমাণ জীবাশ্ম জ্বালানি। পরিসংখ্যান বলছে, বিশ্বের মোট জ্বালানি শক্তির প্রায় ২ শতাংশ এবং মোট কার্বন নিঃসরণের ১.৩ শতাংশ অ্যামোনিয়া উৎপাদনের কারণে হয়ে থাকে। তবে নতুন এই পদ্ধতি প্রচলিত পদ্ধতির চেয়ে ৮.৪ শতাংশের বেশি জ্বালানিসাশ্রয়ী। আরও বিস্ময়কর তথ্য হলো, এতে অ্যামোনিয়া উৎপাদনের খরচ প্রায় ৬০.৯ শতাংশ কম হয়।
বিজ্ঞানীদের তথ্যমতে, নতুন পদ্ধতিতে দুটি লুপ বা চক্র কাজ করে। অ্যালুমিনিয়াম অক্সাইড লুপে অ্যালুমিনিয়াম অক্সাইড ব্যবহার করে নাইট্রোজেনকে একটি কঠিন অবস্থায় (অ্যালুমিনিয়াম নাইট্রাইড) আটকে ফেলা হয়। পরে জলীয় বাষ্পের সঙ্গে বিক্রিয়া ঘটিয়ে সেখান থেকে অ্যামোনিয়া বের করে আনা হয়। এরপরে আয়রন অক্সাইড লুপের দ্বিতীয় চক্রে প্রয়োজনীয় নাইট্রোজেন সরবরাহ নিশ্চিত করে। এর ফলে আলাদা করে কোনো নাইট্রোজেন প্ল্যান্টের প্রয়োজন হয় না, যা খরচ কমিয়ে দেয়। এই পুরো প্রক্রিয়াটি চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় কার্বন আসে মিথেন গ্যাসের তাপীয় বিয়োজন থেকে। এর ফলে হাইড্রোজেন গ্যাসও উপজাত হিসেবে পাওয়া যায়, যা জ্বালানি হিসেবে অন্য কাজে ব্যবহার করা সম্ভব।
সূত্র: আর্থ ডট কম